Skip to main content

আপ না ডাউন

মা আপ আর ডাউন ট্রেন খুব গুলিয়ে ফেলতেন। কাঁচরাপাড়া স্টেশানে কি বিধাননগর স্টেশানে দাঁড়িয়ে আছি, ট্রেনের অ্যানাউন্সমেন্ট হচ্ছে, মা অমনি জিজ্ঞাসা করতেন, হ্যাঁ রে এটা কি শিয়ালদা থেকে আসছে না যাচ্ছে?
...

মা, আমি আর স্কুটি

ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি, সেটা খুব সম্ভবত পঞ্চমীর দিন ছিল। বেশ রাত হয়ে গেছে। আমি ভাই আর বোনকে নিয়ে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে ঢুকেছি। এমন সাজ আমি এরপরে আর কোনোদিন দেখিনি, কালীমূর্তিকে একটা লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরানো, সব গয়না খোলা, দু'জন মিলে হাত পা মোছাচ্ছে।
...

আরাধ্যা

বইতে পড়েছিলাম, সারদাদেবী বলছেন, সংসারে কেউ তোমার পর নয় মা, জগতকে আপন করতে শেখো।
       এ হল গিয়ে বাণী। পড়া তো হল, কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ এর উদাহরণ দেখব বলে ভক্ত, অনুরাগী, সাধু, পণ্ডিত কার না দরজায় দরজায় ঘুরলাম। পেলাম না।
...

তর্পণ

উঠান ঘেরা কয়েকটা বড় বড় গাছ। আম, জাম, কাঁঠাল। মাঝে একটা বাড়ি। দুটো বড় ঘর, একটা বারান্দা। টালির ছাদ। বাউলের বাড়ি।
      মদনপুর স্টেশানে বাউল বসে। ভীষণ অসুস্থ। পাড়ার একটা ছেলে পৌঁছে দিয়ে গেছে। টোটো করে। মানুষের উপর অগাধ বিশ্বাস বাউলের।
...

আজ উৎসব। অকারণে কথা বলার উৎসব

রাত হয়েছে। রেল কলোনির ফাঁকা ফাঁকা রাস্তা। আমরা কয়েকজন মিলে সারাদিনের ক্লান্তিকর কাজের শেষে বেরোলাম চা খেতে। চায়ের দোকান বন্ধ, আজ যে বৃহস্পতিবার। তাতে কি, গল্পের দোকানে আঁচ চড়েছে ততক্ষণে। কথা ফুটছে টগবগিয়ে। সব কথাগুলো মানচিত্রহীন। এলোমেলো। আমাদেরই মত।
...

দীপ নিভে গেছে মম

"দীপ নিভে গেছে মম
... নিশীথ সমীরে"
...       এ গানটা যতবার শুনি, মনে হয় পাশে বসে মা শুনছেন। আমরা দুজনে চুপ করে বসে। মায়ের শেষ বছরের রুগ্ন শরীরটা আর নেই। বন্ধ চোখে চন্দনের দাগ নেই। আমার দিকে তাকিয়ে আছেন অপলক, অলক্ষ্যে। এমনভাবে আমি আস্তিক হই। শুধু মায়ের জন্যেই হই। মা এই গানটা শুনতেন। গাইতেন।
...

মেঠো পথ

   সদ্য গৃহপ্রবেশের পুজো শেষ হল। বাড়ি ভর্তি প্রচুর মানুষ। বাচ্চাকাচ্চাদের দৌরাত্ম্য। বৃদ্ধ পুরোহিত মশায়কে চা জল খাওয়ানোর দায়িত্ব পড়ল আমার উপর। 
...

নতুন চটি

      গাড়ি ছাড়ল ন'টা নাগাদ। হালিসহর থেকে। করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুপুরে হাওড়া থেকে। মা-কে নিয়ে ভেলোর যাচ্ছি চেক-আপে। নভেম্বরের মাঝামাঝি। গরম রয়েছে কিছুটা, খুব নয়।
...

#COCO

আজ এই সিনেমাটা (#COCO) ভীষণ মনে পড়ছে। যারা দেখেছেন তারা জানেন কেন মনে পড়ছে। যারা দেখেননি তাদের জন্য বলি, একটা অপূর্ব দর্শন সিনেমাটা মাথায় এঁকেছিল। আমার পরলোকগত প্রিয় মানুষেরা সেই লোকে ততদিন জীবিত থাকে আর নির্দিষ্ট দিনে আমাদের সাথে দেখা করতে আসার অনুমতি পায় যতদিন আমরা তাদের মনে রাখি, তাদের ছবিতে তাদের পার্থিব অবয়বকে যত্নে রাখি। কি অপূর্ব সিনে

চাহিয়া দেখো রসের স্রোতে রঙের খেলাখানি

        গতকাল মধ্যরাত থেকে যে শুভেচ্ছা আর ভালোবাসার স্রোতে ভেসে চলেছি, তার জন্য নিজে কতটা যোগ্য সত্যিই জানি না। নীরেন্দ্রনাথ মহাশয় একবার বলেছিলেন, জীবনে এমন অনেক অপমান দুঃখ পেয়েছি যা হয়ত কাম্য ছিল না, কিন্তু অন্যদিকে এমন অনেক সুখ, ভালোবাসা পেয়েছি, তারও আমি যোগ্য ছিলাম

Subscribe to স্মৃতিকথন