Skip to main content

===

অশোক - বিলু আছে রে?

রঞ্জন - না কাকু।

অশোক - বিলু আছে রে?

সুকৃতি - না জেঠু।

অশোক - বিলু আছে রে?

বিকাশ - না আঙ্কেল।

===

সুরঞ্জনা - পেলে গো?

অশোক - না গো।

সুরঞ্জনা - বেরোবে একবার সাইকেলটা নিয়ে।

অশোক - দেখি।

====

অশোক - এটা নিয়ে কতবার হল?

অশোক - চার পাঁচবার।

অশোক - সাইকেল চালাতে কুঁচকিতে সেই ব্যথাটা হচ্ছে?

অশোক - হচ্ছে।

অশোক - ফিরবে?

অশোক - না। কী ভুল করলাম বলো তো? যথাসাধ্য দিয়েই তো মানুষ করলাম। কী ভুল হল? ওর পরীক্ষা সামনে। বোর্ডের পরীক্ষা, যে সে পরীক্ষা?

অশোক - কাঁদবে?

অশোক - না। হ্যাঁ। না। হ্যাঁ।

====

অশোক - স্টেশনের দিকে যাবে? আর কোথাও তো পেলে না।

অশোক - ভয় লাগে। গতবার কী হল মনে নেই? ওর বন্ধুরাই আমার উপর চড়াও হল। সব ক'টা মাতাল শালা!

অশোক - কী পেলে? সব ব্যর্থ?

অশোক - আর না তো কী?

অশোক - চলো। ওই যে না? ওই তো?

অশোক - হ্যাঁ। ভয় লাগছে। মরে গেছে? ওরকম উপুড় হয়ে শুয়ে কেন? কটা বাজে? দুটো? রাত তো তবে অনেক হল।

অশোক - মরেনি। কী হল? মরলে স্বস্তি পেতে? ওর মায়ের কী হত বলো।

অশোক - সুরঞ্জনা।

অশোক - হ্যাঁ

====

সুরঞ্জনা - কিছুই খাওয়াতে পারলাম না। রক্ত লেগে ঠোঁটের গোড়ায়।

অশোক - ঘুমাক। আমি শুতে গেলাম। তুমি?

সুরঞ্জনা - বসি একটু ওর পাশে। যদি ওঠে। যদি খেতে চায়? তুমি শোও। কাল আর ভোরে বেরিও না।

অশোক - আচ্ছা।

অশোক - ভোর হতে আর কত দেরি?

অশোক - এবার ওকে ছাড়ো সুরঞ্জনা।

অশোক - আমরাও চলে যাই। বিষ আনব খাবে সুরু? তিনজনে? এসব নিয়ে আর ভাবতে হবে না তবে। ঘুম ঘুম। সব অন্ধকার। শান্তি।

==

সুরঞ্জনা - এই, ও ঘর থেকে বেরোচ্ছে না। সারাটা দিন কিছু খায়নি। কী সিগারেটের গন্ধ আসছে। ডাকো না একবার।

অশোক - থাক না। ওয়াইফাইটা বন্ধ করে দেবে? মোবাইলটা কেড়ে নেবে?

সুরঞ্জনা - আগেও তো করেছি। বন্ধুর মোবাইল নিয়ে চলে এলো। থাক বাবা।

অশোক - ওর ঘরে আগুন জ্বেলে দাও। ওর ঘরে বিষাক্ত গ্যাস ঢুকিয়ে দাও।

সুরঞ্জনা - কী বকবক করছ?

অশোক - চা দেবে?

===

সুরঞ্জনা - রাতে বেরিয়ে খেয়েছে। আজ দুপুর অবধি সাড়া নেই। দেখবে?

অশোক - আমার বেরোনোর আছে। মনে নেই আজ লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে ব্যাংকে যেতে হবে।

সুরঞ্জনা - ও হ্যাঁ তো। যাও। দেখি আমি কী করতে পারি।

অশোক - আমাদের আর কিছুই করার নেই। মোবাইলটা ওর কাছেই তো?

সুরঞ্জনা - হ্যাঁ।

===

বিলু - পঞ্চাশ হাজার চুনা লাগিয়েছি ***। বাবার আকাউন্ট থেকে সরিয়েছি।

বন্ধু ১ - এবার তোকে যে লিঙ্কটা দিচ্চি দেখ এটা ফ্র্ড না।

বন্ধু ২ - *** এই লিঙ্কেই আমার গত সপ্তাহে বারো হাজার ঢুকেছে *****

বন্ধু ৩ - অনলাইন ব্যবসায় এটুকু রিস্ক নিতেই হবে ****

বন্ধু ৪ - আমরা যদি এক্সাম বাঙ্ক মারি? দিলাম না। মাধ্যমিক পাস থেকে গেলাম শুধু। হবে না?

বিলু - মাথা চাটিস তো *****। পরীক্ষা নিয়ে কে ভাবছে ****

====

ব্যাঙ্ক - আপনার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আসুন।

সুরঞ্জনা - বিলু, এই বাবু, বাবা অসুস্থ হয়ে গেছে ব্যাঙ্কে…বাইকটা নিয়ে যাবি বাবা? বিলু, বিলু….

বিলু - মনে হচ্ছে মাল ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পেরেছে….আমি ফোন রাখলাম।

====

অশোক - বিলু ফিরেছে? কদিন পর বাড়ি ফিরলাম। প্রায় একমাস হবে। তাই না?

সুরঞ্জনা - বিলু সেদিনের পর থেকে দশদিন টানা আসেনি। তারপর মাঝে মধ্যে আসে। কাল রাতে ফিরেছে। কথা বলবে কার সাথে? মাতাল। আমি ভাবছিলাম যদি তুমি না ফিরতে….

অশোক - কেঁদে লাভ নেই। ওর মৃত্যু কামনা করো। পারবে?

সুরঞ্জনা - চুপ চুপ। এই ভর দুপুরে কী বলছ?

১০

====

বন্ধু ১ - এই সাইটে আয়। তুই যা ইনভেস্ট করবি ডাবল হয়ে যাবে দু বছরে। আমার মাসির ছেলে নয়ডায় থাকে। ও দিল। দারুণ লাভ। ওদের কোম্পানি বানিয়েছে। যেখানে ও কাজ করে।

বন্ধু ২ - আমার এই অ্যাপসটা নামা।

বন্ধু ৩ - ধুর **** অন্য কোনো ব্যবসা করি চ। এত এত আইডিয়া নিয়ে কী করবি? বাম্বাকে চিনিস। ওর ব্লগের লিঙ্কটা দিচ্চি। দেখ ****। এ কদিনে কী টাকা করেছে। বিলু আছিস লাইনে? এই ****

১১

===

সুরঞ্জনা - হ্যাঁ গো, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স এরা মোবাইল ব্যান করছে পনেরো বছরের নীচে। কেন গো?

অশোক - জানি না। ওদের সবেতে বাড়াবাড়ি। এটা দেখো, অমৃত ভারতে নিরামিষ খাওয়া ছাড়া উপায় নেই। আমাদের হিন্দুদের তো এটাই আগের নিয়ম ছিল। আমিষ তো মোঘলদের থেকে এসেছে।

সুরঞ্জনা - কিন্তু আমি যে লক্ষ্মী পুজোয় মাছ দিই।

অশোক - দিও না। দেখছ তো আসল হিন্দুধর্ম ভুলে আমাদের কী হচ্ছে। বাংলাদেশে কী হচ্ছে হিন্দুদের দেখো?

সুরঞ্জনা - উড়িষ্যায় খ্রিষ্টানদের নাকি মারছে ফেসবুকে দেখলাম।

অশোক - চা করো তো।

বাইরে রাস্তায় কোলাহল। কিছু স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে না। কেউ ডাকছে কাউকে। নাকি ডাকছে না?

Category