তুচ্ছ
ধানের খোসা ছাড়িয়ে চাল পুঁতলে মাটিতে
গাছ হবে নাকি চালেই
খোসাটা অপ্রয়োজনীয় ভীষণ - অতিরিক্ত!
গাছ হল না।
রাগে ফেটে পড়লে ধূর্ত মাটির উপর
অকৃতজ্ঞ হল চাল
আপন
রঙ তো কতই আছে
সে রঙই তোমার মনে ধরে
যে রঙ তোমার চোখের কোণায়
কথা তো কতই আছে
সে কথাই তোমার মনে বেঁধে
যে কথা তোমার বুকের তলায়
সুর তো কতই আছে
সে সুরই তোমায় কাঁদিয়ে ছাড়ে
যে সুর তোমার গভীর ব্যথায়
যেন পাশাপাশি
সবাই পাশাপাশি আছি
যে যার গন্তব্যের অপেক্ষায়
গন্তব্য আসেনি এখনো, অপেক্ষাতে আছি
তাই পাশাপাশি আছি
একসাথে চলার মত যাচ্ছি
সবাই তবু অপেক্ষাতেই আছি
সবাই যেন পাশাপাশিই আছি
তবু মন প্রসন্ন থাক
মনকে প্রসন্ন রেখো
সে যে ভাবেই হোক
ঈশ্বর তোমার পাড়ায় থাকুন
চাই না থাকুন
মনকে প্রসন্ন রেখো
মনের সাথে চিরকালীন বাস
মনের মধ্যে তাই না থাক দীর্ঘশ্বাস
মনে করো না, ঈশ্বর গেছেন বেড়াতে
গেছেন তীর্থে - পুরী কিম্বা জেরুজালেম অথবা মক্কাতে
অবুঝ
শরীরে মনে আগুন জ্বাললে প্রবল ক্ষুধায়
আত্মত্যাগের অনল শিখা দীপ পেল না
ভিক্ষাপাত্র সম্বল করে পথে নামলে
প্রেমকে বুকে শ্বেতশুভ্র আসন দিলে না
চেয়ে থাকো
চোখ, লোহার ত্রিফলা পাটাতনে, জুড়ছেন কোনো ছেঁড়া চটি
তাকিয়ে দেখছেন না, কার পায়ের তলায় রাস্তা হেঁটে চটিটা ছিঁড়ল
ব্ল্যাকবোর্ড
তাতে অনেক কিছু লেখা
অনেক হিসাব, অনেক সিদ্ধান্ত
চিন্তামণি
আমি তাঁকে যেদিন মুক্তি দিলাম
আমার বাসনা পূরণের পদকর্তা থেকে
সেদিন তিনিও আমায় মুক্তি দিলেন
লোভে ঢাকা মুক্তির আকাশকে মুক্ত করে
সেদিন থেকে তাঁর সরোবর থেকে শীতল বাতাস আসে আমার বাগানে
আমার বাগান থেকে ফুল উড়ে বুকে ভাসে সে সরোবরের জলে
আমরা দু'জনেই মুক্ত দু'জনের দিকে তাকিয়ে
ওই সরোবরের তলদেশে আছে
আমার মননের মণি - চিন্তামণি
আমি ত্যাগ করিনি কোনোদিন
আমি ত্যাগ করিনি কোনোদিন
ত্যাগ মহতেরা করেন
আমি বেছে নিয়েছি আজীবন
মন্দের মধ্যে ভালো
অন্ধকারের মধ্যে আলো
অসতের মধ্যে সৎ
আমার মধ্যে তোমায়
তোমার মধ্যে আমায়
শ্বাসবায়ু
আমি তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখি না
তোমায় নিয়ে আমার কোনো রঙীন কল্পনাও নেই