অনর্থক
আকাশ ভরতি তারা
আমি বিস্তীর্ণ নির্জনতায় একা বসে
চারদিক নিঝুম অন্ধকার
পাহাড়ের অস্পষ্ট চূড়ারা নিশ্চুপ
জীবনের অর্থ কি?
এর কোনো উত্তর পাইনি এখনো
কোনো ধর্ম, কোনো দর্শন না
কেউ দিতে পারেনি সে উত্তরটা
যে উত্তরটা শুনে মন বলবে, হ্যাঁ
কাঁটা
বাঁধাবাঁধি, গোছগাছ সব সারা হয়ে গিয়েছিল। তার ফিরতে হবে ঘরের দিকে।
ফেরার পথে পায়ে ফুটেছিল কাঁটা
সে মাথা নীচু করে কাঁটাটা বার করছিল যখন
আচমকাই ছড়িয়ে পড়ল সব মাটিতে তখন
কি করে?
জানি না। হয় তো আলগা ছিল বাঁধন।
আর ফেরা গেল না। ফিরে এল।
উপেক্ষা
উপেক্ষার জবাব দিতে জানত
দিতও হয় তো
দিল না,
উপেক্ষাকে উপেক্ষা করার মত ঔদাসীন্য ওর পায়ের নখে এখন
তাই চলতে ফিরতে ওর চোখের মণিতে এখন লক্ষ নক্ষত্রের বাস
ও নিজেই নিজের উত্তর দক্ষিণ
নিজেই নিজের কম্পাস
অস্পষ্ট অন্ধকার
কি সাবলীল বাচনভঙ্গি তোমার
অথচ কি বিষ পরতে পরতে
যেন কতদিনের জমানো অবসাদ
ভুল ভুল ভুল
ওরা বোঝে না
কেউ বলেনি আমায় তোমার কাছে নিয়ে যাবে
আমি তবু নিশ্চিন্তে খেয়া পারাপারের ঘাটে বসে আছি
কেউ বলেনি তুমি আমার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছো
আমি তবু কয়েকটা করবী ফুল একটা কচু পাতায় মুঠো করে নিয়েছি
তোমার জন্য
বিজ্ঞাপিত প্রেম
এসেই বললে-
দেখো, তোমার জন্য
নিজেকে নিয়ে একা
যারা যারা, যা যা
খুঁজতে এসেছিল
চাইতে এসেছিল
দেখতে এসেছিল
প্রশ্ন
প্রশ্ন করতে বারণ কোরো না
হারিয়ে যাবে
যেমন হারিয়ে গেছে
অনেক দেবতা
অনেক ধর্ম
সমাজের অনেক
তথাকথিত অভিভাবক
প্রশ্ন শুনতে ভয় পেয়ো না
মিলিয়ে যাবে অস্তিত্বের সংকটে
স্বীকারোক্তি
তখন অল্প পরিচয়
অন্ধকারই বেশি, খুব স্বল্প আলো
তোমাকে লাগল ভাল
আলোতে ছায়াতে মিশে
তোমার যে মূর্তি মনে আঁকলাম
বুঝিনি তো যে
তাতে সত্যের চেয়ে কল্পনা আছে বেশি
যা দেখি তা নয় ঠিক
সত্য ঢেকেছে মাধুরী ছদ্মবেশে
নাম কথা
জবা টগর রজনীগন্ধা ইত্যাদি
মাত্র কয়েকটা ফুলই চিনি
দেখেছি হয় তো আরো অনেক রকম ফুল।
নাম জানি না।
তাতে কি আর এসে যায় বলো?
ফুল তো ফুলই।
যেমন তোমার কথা।