তোমার কণ্ঠস্বরে
তোমার কণ্ঠস্বরে একটা খোলা মাঠ আছে
আমি মাঝখানে দাঁড়িয়ে গভীর শ্বাস নিয়ে বলি, আঃ!
তোমার কণ্ঠস্বরে একটা শীতল দীঘি আছে
আমি চোখেমুখে জল ছিটিয়ে বলি, শান্তি!
তোমার কণ্ঠস্বরে একটা তারাভরা অমাবস্যা আছে
আমি চোখ বন্ধ করে দু'হাত ছড়িয়ে ভাসতে ভাসতে বলি, এলাম।
তোমার কণ্ঠস্বরে বিষণ্ণ দুপুরে
ভালোবাসা, বড় গুমোর তোমার
ভালোবাসা, বড় গুমোর তোমার
যখন তখন ঘুঁটি সাজিয়ে ডাকো
"আসো"
ভালোবাসা, বড় গুমোর তোমার
যখন তখন গলা জলে নেমে ডাকো
"আসো"
ভালোবাসা, বড় গুমোর তোমার
হঠাৎ হঠাৎ হারিয়ে গিয়ে বলো
"খোঁজো"
ভালোবাসা, বড় গুমোর তোমার
হঠাৎ কখন ঈশ্বর হয়ে যাও, বলো
"পূজো"
ভালোবাসা, বড় গুমোর তোমার
শান্ত হব বলে
সব ক'টা তারাতেই
চন্দ্র, সূর্য-
এমনকি গনগনে চিতার আগুনেও
ঠোঁট ছুঁইয়ে এসেছি
পুড়িয়ে এসেছি
শুধু একবার তোমার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াবো বলে
শান্ত হব বলে
বৃষ্টি ভেজা পালকগুলো শুকিয়ে নেব
তাই
সকাল হলেই
মালী ভোরের অপেক্ষায় বসে। গতরাতে তার বাগানে ফুটেছে গুচ্ছগুচ্ছ রজনীগন্ধা, বেলি, জুঁই।
বাজারে যাবে সকাল হলেই।
জেলে আছে ভোরের অপেক্ষায়। শেষরাতে ধরা পড়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল। প্রচুর প্রচুর।
বাজারে যাবে সকাল হলেই।
শাক তুলে, লাউ তুলে, ডাঁটা তুলে..আরো কত কি তুলে অপেক্ষা করছে চাষী ভোরের সিমফুলের মত আকাশের।
বাজারে যাবে সকাল হলেই।
এরা কেউ জানে না
নিভৃত
১
====
নিভৃত জীবন
গোপনীয় নয়
একান্ত ব্যক্তিগত
২
====
তোমার নিজস্ব হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা আছে
আমারও আছে
তবু তুমিই
আলোকে গভীরে যেতে বলো
আরো গভীরে
যেখানে মনের বিস্তীর্ণ আঁকিবুঁকি
বকের পায়ের মত ছাপ ফেলে
যেখানে হেঁটে গেছে তোমার ব্যক্তিগত ইতিহাস
শামুকের মত মহাকাল হেঁটেছে তার পিছুপিছু
উদ্বাস্তু
উদ্বাস্তু হয় মানুষ
কেঁচো কখনও মথ হয়ে ওড়ে না
ভিটে হারিয়ে মথ হয়ে যায় মানুষ
...
পানীয় জল
তিনতলা মঠ-আশ্রমের পানীয় জল
দুই হাতে দুটো বালতিতে করে টেনে আনছিলেন
...
যেমন খবর বারোমাস
আমাদের দেশে ভীষণ শীত
আমাদের দেশে পরপর উৎসব
পয়লা জানুয়ারি, নেতাজি জন্মজয়ন্তী, প্রজাতন্ত্র দিবস
...
কবি, তুমি চলে গেলে
একটা সেতু নির্মাণের কাজ থেমে যায়
অসমাপ্ত সেতুতে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়
কোন দ্বীপে যেন যাওয়ার ছিল
...