Skip to main content

পাথেয়

কেন আসো বুড়ি? কি চাই তোমার? সারাগায়ে রত্তি তো নেই একফোঁটাও। ছেঁড়া ফুটিফাটা শাড়ি। হাওয়াই চটিটার বয়েস তো যেন তোমার চেয়েও বেশি বুড়ি, ওকে রেহাই দাও এবার। তোমার কোলের কাছে লাঠি দেখছি যে বুড়ি, ওই লাঠি ঠুকে ঠুকে আসো বুঝি এই মন্দিরে? গাড়ি চড়ার পয়সা নেই? ...

হিসেবী

রোহিনীর মনে হল যেন একটা দমকা হাওয়ায় বইয়ের পঞ্চাশটা পাতা এক্কেবারে উড়ে গেল। এই তো খানিক আগেও সব ঠিক ছিল। সুনন্দের কাছ থেকে আজ দীপান্বিতা ম্যাডামের নোটটা নিতে এসেছিল। রোহিনী ফিলজফিতে মাষ্টার্স করছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এটাই প্রথম বর্ষ। সকাল থেকে শরীরটা ভালো ছিল না। মনে হয়েছিল হয়তো জ্বর আসবে। এলো না। প্রত্যেকবার এই সিজন চেঞ্জের সময় তার এরকম হয়। অক্টোবর মাসের শেষের দিক। অল্প অল্প ঠান্ডা ঠাণ্ডা পড়েছে। পূজোটা মাসের শুরুর দিকেই হয়ে গেছে। একটা পাতলা চাদর গায়ে দিয়ে সে ফিরছিল তাদের বাড়ির দিকে। পনেরো মিনিটের হাঁটা পথ। সব বদলে দিল। ...

বিলুজ্যাঠা

লোকটা হনহন করে হেঁটে যাচ্ছিল। সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা হবে। এই গ্রামের দিকটায় এই সময়টা শীতকালে বড় একটা বাইরে কাউকে দেখা যায় না। চারদিকের বাড়িগুলোর জানলা বন্ধ। লোকটা একা একাই হেঁটে চলেছে। মাথাটা মাফলার আর কান ঢাকা টুপিতে মোড়া। শুধু চোখদুটো বেরিয়ে আছে।

ভুল গল্প

দরজা খোলা ছিল। দমকা বাতাস ভিতরে এসে পড়ল। কড়ি-বরগা, দেওয়াল, মেঝে রে রে করে উঠল। গেল গেল গেল সব গেল। কে খুলে রেখেছিল দরজা? - হুঙ্কার দিল ছাদ।


খাটের তলার জমে থাকা অন্ধকার গুটিগুটি পায়ে বাইরে বেরিয়ে এসে বলল, আমি। তার মুখে নম্রতা আছে, কিন্তু লজ্জা নেই। শ্রদ্ধা আছে, অথচ অনুতাপের গ্লানি নেই। সক্কলে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। মনে মনে বলল, বেটির ক্ষমতা আছে। মুখে বলল, তবে রে!

ফাঁকি

মেয়েটা যতবার মুখ লুকিয়ে কাঁদতে চাইছে, ততবার কয়েকটা চুল মুখের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। আবার মাথা তুলে চুলগুলো বার করে কানের পিছনে সরিয়ে, আবার টেবিলে মাথা নীচু করে কাঁদতে শুরু করছে। কাঁদতে কাঁদতেই ভাবছে চুলগুলো আরেকটু ছোট করে কাটবে সামনের বার।

জানোয়ার

হস্টেল রুমে ঢুকে বাঁদিকের দেওয়াল হাতড়ে স্যুইচটা জ্বালতেই পরমা চীৎকার করে উঠল। বাইরে প্রচণ্ড জোর বৃষ্টি হচ্ছে। জানে কেউ শুনতে পাবে না। তবু রিফ্লেক্সে চীৎকারটা বেরিয়ে এলো গলা থেকে। তার মেরুদণ্ড দিয়ে একটা হিমেল স্রোত নেমে গেল। সে বুঝতে পারছে তার নীচের ঠোঁটটা থরথর করে কাঁপছে। তার পা-দুটোও যেন তাকে ধরে দাঁড়াতে দিচ্ছে না, এমন দুর্বল অবশ হয়ে আসছে তার শরীর। মনে মনে বলল, 'জানোয়ারটা ঢুকল কখন?

অসহ্য



---
রত্না সিমেন্ট বাঁধানো বেঞ্চে বসে। বিকাল পাঁচটা। সদ্য দূর্গাপূজো গেল। লক্ষীপূজোও। রত্নার ছেলে বউ নাতি নাতনি কেউ আসেনি। ওরা আসবে না, বউমা বলেছে (নিজেও চায় না)। “কনকা” বৃদ্ধাশ্রমটা তাদের বাড়ি থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার হবে। রত্না আশা করে না আর।

ঘাম

"অনেকটা ঘি ভষ্মে ঢালার পর বুঝলাম শুধু ধোঁয়াই উড়ছিল। আগুন ছিল না। এমনকি আগুনের স্ফুলিঙ্গও নয়।"

দশমী

ওনারা অনেকক্ষণ হল ঝুল বারান্দায় বসে। বিকাল ছটা থেকে। সামনে লোকের ভিড়। বাড়ছে। বিসর্জনের বাজনা। সিঁদুরে সিঁদুরে লাল প্রতিমার মুখ। মুখে ভাঙা মিষ্টি। উত্তাল ঢাকের আওয়াজ। নাচ, উদ্দাম নাচ।
বৃদ্ধ-বৃদ্ধার চোখজোড়া ইতস্তত খুঁজছে রাস্তায় চেনামুখ। ছেলে, ছেলের বউ আর দুটো নাতনি। এবারেও এলো না। গতবারও আসেনি। গতবার অফিসে ছুটি ছিল না। এবার পেয়েছে। বেড়াতে গেছে বাইরে, সিঙ্গাপুর।

নবমী

রাস্তার ধারে বসে আছে পাগলীটা। তাকে ঘিরে মাছি ঘুরছে ভনভন করে। কালো মোটা বোঁচকাটায় পিঠে ঠেসান দিয়ে আছে মল্লিকদের বাড়ির রকে। সামনে চলেছে লোকের বান। পাগলী আলোর খেলা দেখছে মুখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। হঠাৎ কানখাড়া করে কি শুনতে লাগল। মাইকে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের ঘোষণা চলছে। তাদের পার্টি অফিসের সামনে দেখা করতে বলছে। পাগলী চুল পাকাতে পাকাতে শুনছে মন দিয়ে। চোখে মুখে উদ্বিগ্নতা। তার চোখে রাস্তায় লাগানো আলোর ঝলকানি।

Subscribe to অনুগল্প