Skip to main content

 

111.jpg

এত কিছুর পরও তার মন শান্ত হল না। জ্বালা মিটল না। তাপ জুড়ালো না। তখন রাত গভীর। ঘুম নেই। সিলভান উঠে বসল। কেরলের ছোটো একটা গ্রাম। এ গ্রামেই তার জন্ম। বাবা-মা এই গ্রামের মাটিতেই মিশে। সিলভান বাইবেল খুলে বসে খাটের উপর। ঘরটা অন্ধকার। পাশেই দেওয়ালে সুইচ। জ্বালতে ইচ্ছা করছে না। বাইবেলের কত নাম্বার পাতা খোলা রয়েছে তাও জানে না। কিন্তু বসে থাকতে আরাম লাগছে। বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুলটা নাড়াতে নাড়াতে সিলভান ভাবছে, এত অপমান সহ্য করে কেন সে?

সিলভানের বয়েস আটত্রিশ। একা মানুষ। একটু দূরে শহরের একটা হোটেলে রান্নার কাজ করে। সবই ঠিক চলছিল। এই মাস ছয়েক হল কোথাও যেন তাল কাটছে। মালিক বলছে রান্না ভালো হচ্ছে না। কিন্তু কেন হচ্ছে না সিলভান বুঝতে পারে না। ভাবতে গেলে সব ছড়িয়ে যায়। মালিকের অকথ্য ভাষা বুকে মাথায় বিঁধে থাকে। ঘুম আসে না। শান্তি পায় না সারাদিন কোনো কাজে। জ্বর এসেছে বলে দু'দিন ছুটি নিয়েছে।

অন্ধকারে বসে সিলভান মা-বাবার মুখটা ভাবতে চেষ্টা করে। বাইবেল পড়তে বাবা শিখিয়েছিল। এই বাইবেলটাও তার বাবার। সিলভানের মালিক হিন্দু। তাদের হোটেলে অনেক দেব-দেবীর ছবি। মালিকের গুরুদেবেরও ছবি। মালিক নিরামিষ খায়। বছরে দু'বার গুরুদেবের আশ্রমে যায়। সিলভানের হিন্দুদের এত দেবদেবী দেখে অবাক লাগে। বাবা গোঁড়া ছিল। বলত খ্রীষ্ট ছাড়া সব নকল। আসল সত্য এক - খ্রীষ্ট। সিলভানের তা মনে হয় না। সিলভানের মা হিন্দুদের মন্দির দেখলে হাত জোড় করে প্রণাম করত। সে অসুস্থ হলে মানতও করেছে মন্দিরে। সিলভানের মনে হয় ভগবানকে বোঝা মানুষের ক্ষমতার বাইরে।

সিলভান অন্ধকারে বসে বাইবেলের পাতা উল্টে যাচ্ছে। প্রভু তাকে ক্ষমা করতে বলছে। শান্ত হতে বলছে। সিলভান প্রভুর দিকে অসহায় তাকিয়ে বসে। পারছে না সে। চাইলেও পারছে না। আসলে গোটা মন দিয়ে চাইছেও না ক্ষমা করতে। বুদ্ধি বলছে ক্ষমা করা উচিৎ। কিন্তু বুকের ভিতরে আগুন জ্বলছে ধিকিধিকি। খুব নষ্ট চিন্তা উড়ছে ধোঁয়ার মত। সে চিন্তা ভালো না। চাইছে না। তাও সেই চিন্তাতেই মনটা শান্ত হচ্ছে। শেষ করে দেবে?

রাত শেষ হতে চলল। বাইরে অল্প অল্প আলো ফুটতে শুরু করেছে। সিলভান জানে সে কী করতে চাইছে। সিলভান জানে কী করা উচিৎ হবে না। দরজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়ালো। সামনে বিরাটা জঙ্গল। কত ফুল। কত ফল। কত স্বাদ। কত বিষ।

========

সিলভান বিষের প্যাকেটটা নিয়েই শহরে বাস থেকে নামল। বিষটা সঙ্গে নেওয়ার পর থেকে মনের সব দ্বিধা কেটে গেল। হোটেলে ঢুকতেই মালিক তাকে ডেকে বলল, আমি তো ভাবলাম মরেছিস বোধায়, আর দু'দিন দেখে অন্য লোক রাখতাম। নেহাৎ অনেকদিন কাজ করছিস, তোর মা আমার মায়ের গ্রামের মানুষ তাই।

সিলভান মালিকের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল স্থির দৃষ্টিতে। এ মানুষটা এত কথা, এত বিদ্বেষ সব আজ শেষ করে দেবে সে।

========

সিলভান বাইবেলটা খুলে বসে। মানুষের হৃদয়ের ভাষা আর বাণীর মধ্যে কত যুগের ফারাক? কোথায় এসে মেলে তারা? কত যুগ কেটে গেল! এই কারাগারই বাড়ি এখন সিলভানের। কথা বলে না। কোনো কিছুরই প্রতিবাদ করে না। শয়তান নয় সে। কিন্তু সে কী সে নিজেও বুঝতে পারে না। প্রভু যা চান তা বোঝে সিলভান। কিন্তু করবে কী করে? শয়তান যা চায় সে ভীষণ ক্ষুদ্র, সংকীর্ণ। ঘেন্না লাগে। শয়তানের জগত শুধু তাতিয়ে দিয়ে চলে। সিলভান কাউকে তাতায় না, নিজেও তেতে ওঠে না। যা করেছে তার জন্য তার অনুতাপ নেই, কিন্তু এও মনে হয়, না করলেও হত। কিন্তু না করলে সে কী করত সেটা বুঝে উঠতে পারে না আজও। জেলের মধ্যে ফাদার আসে চার্চ থেকে। সিলভানের সঙ্গে কথা বলত আগে আগে। সিলভান ফাদারের চোখের দিকে তাকিয়ে ফাদারের হৃদয়ের ভাষা আর মুখের ভাষার পার্থক্য ধরতে পারত। মনে মনে হাসত। করুণা হত। একদিন ফাদারের কাছে যাওয়া ছেড়ে দিল।

সিলভানের সঙ্গে কেউ দেখা করতে আসে না। নেই কেউ দেখা করার মত। কিন্তু যত দিন যায় সিলভানের কয়েদি প্রতিবেশীরা তার সঙ্গে বন্ধুর মত আচরণ করে। আগে যতটা বিরোধ ছিল এখন নেই। সিলভানের কারোর সঙ্গে বিরোধ নেই।

“সিলভান আপনার সঙ্গে একজন দেখা করতে এসেছে”

========

সিলভান ভেবেছিল এ জীবনে আর আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই তার। যদিও কিছুতেই খুব একটা আশ্চর্য কোনোদিনই হয়নি সে। কিন্তু এই আগন্তুক কে? কে এসেছে দেখা করতে? কী চায়?

========

আমি আশুতোষ। ডক্টর আশুতোষ। আপনার হোটেলের মালিক আমার বাবা ছিলেন। না না আমি বসব না। আমার আপনার সঙ্গে কিছু কথা আছে, যা আপনার জানা দরকার বলে আমার মনে হয়। এবার আপনি ঠিক করবেন আপনি আমার সঙ্গে দেখা করবেন কি করবেন না। এদের কাছে আমার নাম্বার দেওয়া আছে। আপনি দু'দিন ভাবুন। যদি ইচ্ছা করেন এদের জানাবেন আমি চলে আসব। আর একটা কথা। আমি এই একমাসের জন্যেই আছি। আবার পরের বছর এই সময়ে ফিরব। আমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকি।

========

সিলভান কিছু উত্তর দেয়নি। ওর চোখের দিকে তাকিয়েছিল। ওর চোখের ভাষা আর বলার ভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। অনেকেই খেয়াল করে না তার চোখের নিঃশব্দ ভাষা ঠোঁট আর জিভের বাঙময় ভাষাকে কেটে কুটিকুটি করে দিচ্ছে। এখানে তা হয়নি।

সিলভানের মনের মধ্যে অদ্ভুত এক আলোড়ন তৈরি হতে শুরু করল। কেন এলো এতদিন পরে আশুতোষ? আগে দেখেছে হোটেলে? মনে করতে পারছে না। মালিকের স্ত্রী-কে কয়েকবার দেখেছে। কিন্তু এ কেন এলো। কী বলতে চায়? সিলভানের ঘুম আগের মত হল না ক'দিন। প্রথমে ঠিক করেছিল দেখা করবে না। কিন্তু বুঝতে পারল তা সম্ভব নয়। কোনো সিদ্ধান্ত নিতে মানুষ আসলে কতটা স্বাধীন?

========

সিলভানের আজ আশুতোষের চোখের দিকে তাকাতে অস্বস্তি হচ্ছে। বারবার মাথাটা সামনের দেওয়ালে ঝোলানো ক্যালেণ্ডারের দিকে চলে যাচ্ছে। একটা পাহাড়ে কয়েকটা ভেড়া চরছে। ছবিটা ভালো। কিন্তু এরকম একটা জায়গায় গেলে কেমন লাগবে সিলভান জানে না। জানতে চায়ও না। কোথাও কোনোদিন বেড়াতে যায়নি সে।

আশুতোষ শুরু করল।

আমার বাবা চলে যাওয়ার পর আমার কাকাদের মধ্যে হোটেলটা নিয়ে অশান্তি শুরু হয়। বাবার অনেক পলিটিক্যাল যোগাযোগ ছিল। বাবা চলে যাওয়ার পর সেগুলো কমতে থাকে। সেই সুযোগে কাকারা একরকম ঘাড় ধাক্কা দিয়েই আমাকে আর মা-কে বার করে দেয়। মায়ের সেই হতভম্ব মুখ আমাকে আজও রাতে ঘুমাতে দেয় না। মা কাঁদেননি একদিনও। এমনকি তারপর থেকে হোটেল নিয়ে, কী বাবাকে নিয়েও আর কোনো কথা বলেননি। মারা যাওয়ার আগের দিন অবধি না।

সিলভান তাকালো আশুতোষের মুখের দিকে। চোখটা আশুতোষের চোখে আটকে রাখল হাজার অস্বস্তি সত্ত্বেও।

আশুতোষ বলে যাচ্ছে।

আমরা প্রথমে মামাবাড়ি গেলাম। সেখানে তেমন কোনো সুবিধা হল না। হওয়ার কথাও ছিল না। মামারা যথেষ্ট গরীব ছিলেন। মা একটা বেকারি সংস্থায় কাজ নেন। আমরা মামাবাড়ির কাছেই একটা ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করি। আমার রেজাল্ট ভালো হওয়াতে টিচার ফাদারদের নজরে আসি। ওরা প্রচুর সাহায্য করেন আমার পড়াশোনায়। ডাক্তারি পড়াও ওদের সাহায্যেই। এখন অস্ট্রেলিয়াতে মিশনারি হাসপাতালেই কাজ করি। কিন্তু আপনাকে এ কথা এত বছর পর জানাতে আসার কারণ কী? তাই ভাবছেন তো?

না। সিলভান তাই ভাবছিল না। মানুষ কখন কী সিদ্ধান্ত নেবে সেটা মানুষ নিজেও জানে না। সিলভান খেয়াল করছে আশুতোষ একবারও তাকে তার বাবার হত্যাকারী বলে সম্বোধন করছে না, বা ওই নিয়ে কোনো প্রসঙ্গও তুলতে চাইছে না। এমনকি তার বাবার মৃত্যুকে একটা স্বাভাবিক মৃত্যুর মত “বাবা চলে যাওয়ার পর” এরকম ভাষায় বলছে। এটা কি সে জোর করে করছে?

আশুতোষ বলল, মা যাওয়ার আগে আপনাকে ক'টা কথা জানাতে বলে গেলেন। আপনি বোধহয় জানেন আপনার মা আমার বাবার মামাবাড়ির গ্রামের মেয়ে।

সিলভান জানে। মাথা নাড়ল না। হ্যাঁ না কিছুই বলল না।

আপনার মায়ের সঙ্গে আমার বাবার একটা সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দুটো পরিবারের ধর্ম আলাদা হওয়াতে দুই পরিবারই রাজি ছিল না। এর মধ্যে আপনি আপনার মায়ের গর্ভে আসেন। আমাকে ক্ষমা করবেন, আমি খুব ঘুরিয়ে কথা বলতে পারি না।

সিলভানের আশ্চর্য লাগছে না। কিন্তু খুব গা গুলাচ্ছে। আশুতোষ বলে যাচ্ছে।

তো সেই কথাটা জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে আপনার বাবার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। আপনার বাবা ছিলেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। সংসারে কাজকর্ম তেমন কিছুতে মন ছিল না। আপনার বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন। কিন্তু আপনার মায়ের সঙ্গে বনিবনা কোনোদিনই হয়নি। আপনার নিশ্চয়ই সে কথা জানা। এবার আরো একটা অপ্রিয় সত্যিই আপনাকে জানতে হবে। আপনি তৈরি নিশ্চয়ই।

সিলভান দুটো হাতে ঘাড় থেকে মাথা ডলতে শুরু করল।

আপনি স্কুলে ভীষণভাবে অকৃতকার্য হন। দোষ আপনার নয়, আপনার মাথার। আপনার কিছু স্নায়বিক সমস্যা আছে। আপনি বেশিরভাগ সময় কনফিউজড অবস্থায় থাকেন। আইকিউ ভীষণ কম আপনার। জেদ আর ওপিনিয়ন ভীষণ স্ট্রং আপনার। আপনি আজীবন আবেগ তাড়িত হয়ে এসেছেন। ঠিক ভুল সবকিছুই আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সিলভান স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আশুতোষের দিকে। মুখটা তেতো লাগছে। অস্বস্তি লাগছে বুকের মধ্যে।

আপনাকে নিয়ে আপনার মা যখন বিভ্রান্ত সেই সময়ে আপনার বাবা ঈশ্বর পাগল হয়ে যান আর নিরুদ্দেশ হন। আমার বাবা তখন আপনাকে নিজের হোটেলে কাজ দেন।

সিলভান উঠে যেতে চাইল। পারল না। গালাগাল করতে চাইল। পারল না। এমনকি একটা চড় মারার মত জোরও নিজের মধ্যে খুঁজে পেল না। এইদিনটার জন্যই যেন ভাগ্য এতদিন ধরে তার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছিল।

সিলভান বলল, কিন্তু বাবা ফিরে এসেছিলেন।

হ্যাঁ। পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিছু করতে পারেননি।

বাবা ধর্মপ্রাণ ছিলেন আপনিই নিজের মুখে বললেন।

হ্যাঁ। ধর্মটা বড় অতিরিক্ত হয়ে গেছে সংসারে। যতটা ধর্মের দরকার ছিল তার চাইতে এত বেশি বাড়াবাড়ি রকমের ধর্ম হয়ে গেছে যে সেটা বিষাক্ত করছে সব এখন। আপনার বাবাও তার শিকার হয়েছিলেন। বিষের নেশা চেপে বসেছিল। সে নেশায় গোটা জীবন শেষ করে ফিরে এসেছিলেন।

সিলভান উঠে দাঁড়ালো। বলল, আপনি ভীষণ গভীর ঘাতক। আপনি সার্থক হয়েছেন কিনা মাস ছয়েক পরে এসে জেনে যাবেন। তবে এতটা বলতে পারি আপনি হয় তো সফল হয়েছেন। আমার নিজের উপর যে বিশ্বাস আস্থা ছিল তার ভাঙনের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। আপনি আসুন। পারলে তিনদিন পর একবার আসবেন।

========

সিলভান তিনদিন কোনো কথা বলেনি। পায়চারি করেছে। বসেছে। শুয়েছে। যতটুকু না খেলে গা পাক দেয় ততটুকুই খেয়েছে।

========

সিলভান বলল, মানে আপনি আমার ভাই বা দাদা কিছু একটা হবে।

আপনি ছোটোবেলায় কয়েকবার আমাদের বাড়ি এসেছেন। একটা কোণায় বসে থাকতেন। মাথা নীচু করে। আপনি আসলে আজীবন ভাণ করে এসেছেন। নিজের সব দুর্বলতা আপনি জানেন। সেই জানাটাই আপনাকে ধূর্ত বানিয়েছে। আপনি নিজেই এখন নিজের শিকার।

আশুতোষ একটু থেমে আবার বলল। নিজেকে পিতৃহন্তা জেনে কী লাগছে?

সিলভান, নতুন কিছু না। কোনো আবেগ আমার নেই ওকে নিয়ে। আমার বাবা বলতে সেই পালিয়ে ফিরে আসা মানুষটাই। আর দেখুন আপনার মা আর আমার মা দু'জনেই সুখী ছিলেন না। আমরাও নই। আমি বেশি অসুখী ভাবছেন জেলে বন্দী বলে। কিন্তু সংসারে আমি আমার চাইতে বেশি বন্দী অনেক আপাতভাবে মুক্ত-ছাড়া মানুষ দেখেছি।

আপনার হাতে বেশিদিন নেই, প্রস্টেট ক্যান্সার শুনলাম। আশুতোষের ভাষায় কোনো করুণা বা দরদ নেই।

সিলভান বলল, ঠিক জানেন।

আশুতোষ উঠে দাঁড়ালো। বলল, এ পৃথিবীর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ভালো। চারদিকে এত বিষ। তবে আমার খারাপ লাগবে আমার রক্তের সম্পর্ক বলতে আপনিই একা। সেটা ভালো না খারাপ জানি না। তবে আপনিই একা। আপনি চলে গেলে আপনাকে কবর দেওয়া হবে। কি লিখতে চান কবরের উপর?

সিলভান চমকে তাকালো। বহুদিন পর চমকালো এমন। বলল, ভেবে জানাব।

========

সিলভানের কবরের উপর লেখা ছিল, যে কোনোদিন বাঁচতে শেখেনি।

আশুতোষ আসতে পারেনি। তবে খরচ সব ওই দিয়েছিল। আশুতোষ একটা বাগানবাড়ি কিনেছে কেরলের একটা গ্রামে। নাম রেখেছে, সিলভান।