Skip to main content

 

 

স্বাধীনতা মানে অনেক বড় কিছু নয়। আবার অনেক বড় কিছু। সবটাই।

তেষ্টা পেল। উঠে জলের গ্লাসটা নিলাম, জল গড়ালাম। খেলাম। গ্লাসটা আবার জায়গায় রাখলাম। এই গ্লাসের নির্দিষ্ট জায়গা, কয়েক পা হেঁটে যাওয়া, ফিরে আসা। এ সবই স্বাধীনতা।

ছোট একটা ফ্ল্যাট। মানুষটা আজীবন সেই ফ্ল্যাটেই কাটালো। প্রথমটা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে। পরে একা। সামাজিক নাম বৈধব্য। হৃদয় কি বৈধব্য বোঝে? সে শব্দটা তো পোশাক। পোশাক খুললে, নগ্ন শরীর। বিধিনিষেধ। লাজলজ্জা। আর হৃদয়? সেও কি পোশাকে আবৃত নয়? আজীবন? কত নাম, কত পরিচয়, কত সম্পর্ক, কত নিয়ম নীতি। হঠাৎ যদি সে সে সব সরিয়ে দাঁড়ায়?

উন্মাদ!

হৃদয় বৈধব্য বোঝে না। ওটা তো কোড অব কন্ডাক্ট। যুগে যুগে বদলায়। তবে হৃদয় কী বোঝে? সে বোঝে নিঃসঙ্গতা। একাকীত্ব। তাও তার স্বাধীনতাটুকু ছিল। স্নানের জল নির্বাচনের, গরম না ঠান্ডা, দশ মগ, না কুড়ি মগ। স্নানের সময় নির্বাচনের, বেলায়, না সকাল সকাল। খাবার নির্বাচনের, তার সময় নির্বাচনের স্বাধীনতা ছিল। ঘুম, জাগা, বেড়াতে যাওয়া, না যাওয়া, ঘরে বসে থাকা, টিভি দেখা, আলমারি গোছানো, অগোছালো রাখা,গান শোনা, চুপচাপ ভাবা, কখনো আপনমনে কাঁদা, হাসা। ছিল না? এ সব তো ছিল।

এখন নেই। তবু আছে। একটা জিনিস থেকেই যায়। ভাষা। জিভ লাগে না, এমন ভাষা। প্রতিটা অস্তিত্ব এক একটা ভাষা। সুখের না হোক তবু তো ভাষা। যতক্ষণ অস্তিত্ব থাকে, সে ভাষা গুমোট বেঁধে জেগে থাকে। তাকায়। কেউ কি দেখছে? কেউ কি বুঝছে? সে ভাষা ক্রমে ক্ষীণ হয়ে আসে। একেবারে মিলিয়ে যাওয়ার আগে সে অস্তিত্ব আরেকবার তাকায়। তার নিজের ভাষায়। শেষ কথা বলে, মনে রেখো, আমি ছিলাম। অন্তত কিছুদিনের জন্যে হলেও, মনে রেখো। কী মনে রাখবে? আমার স্বাধীনতাটুকু। নির্বিচারে।