বাচ্চাটা মরতে মরতে বেঁচে গেল। ডাক্তার বলল, আরেকটু দেরি করলে....
মা আর শোনেনি। হাসপাতালের বাইরে জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকল। বাচ্চাটা ঘুমাচ্ছে।
ঘটনাটা এই, মা কাজে গিয়েছিল। বাড়িতে ছিল দুই বোন। বস্তিতে অনেক বাচ্চা। সব একসঙ্গেই খেলাধুলা, মারামারি করে বড় হয়। এরাও হচ্ছে।
ওদের সেদিন মিষ্টি বানানোর খেলা ছিল। দামী মিষ্টির মত মিষ্টি। যেমন দোকানে দেখা যায়, কেনা বারণ। তাই তারা আটা গুলে তার মধ্যে আটার লেচি গোল গোল ডুবিয়ে দিল। এই মিষ্টির নাম রসমালাই। চিনি গুলে দিল আটায়। সবাই খাচ্ছিল। তারিফ করছিল। হঠাৎ চার বছরের বিচ্ছুর গলায় গেল আটকে। সে দুটো হাত দিয়ে দিদিকে জড়িয়ে ধরল। চোখ দুটো ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসছে। দিদি তাকে জল খাওয়াতে গেল। হল না। ততক্ষণে লছমীর ঠাকুমা দেখে নিয়েছে। বুকে জড়িয়ে দৌড়। সামনে যে টোটো পেয়েছে তাকেই বলে নিয়ে এসেছে হাসপাতালে। তারপর.....
বিচ্ছুকে নিয়ে বাড়ি এল। বাচ্চারা ভয়ে এল না দুদিন। বিচ্ছুর দিদিও মায়ের সঙ্গে কথা বলল না বেশি। এড়িয়েই গেল। দুদিন পর বাচ্চারা আসতে শুরু করল। বিচ্ছুর মা কাজে যেতে শুরু করল। ওরা খেলতে শুরু করল বস্তির আনাচেকানাচে। বিচ্ছু শুধু এখন মিষ্টি খেতে চায় না। সত্যি রসমালাইও না। বলে গলায় আটকে মরে যাবে। সত্যিই মরে যাবে।
Category
- Log in to post comments
- 3 views