পাঠক, তুমি কি ভীষণ চেনা, অথচ অজানা, এমন কয়েকজন মানুষের অন্তর্লোকে অবগাহন করতে চাও? যে অন্তর্লোকে কোনো জ্যোতির্ময় পুরুষ বসে নেই গোটা সংসারকে মায়া জেনে। যে অন্তর্লোকে আটপৌরে মাটির ভালোবাসা সুখ-দুঃখ, অপমান, লাঞ্ছনা সব সহ্য করে জমাট ব্যথা হয়ে জীবনের আঙিনায় দাঁড়িয়ে। তার চোখে চোখ রাখতে চাও? তার কথা শুনতে চাও? শুনতে শুনতে হয় তো তোমার নিজের জীবনের কোনো অকথিত, অগ্রন্থিত কথা ফুটে উঠতে পারে স্মৃতিতে। হয় তো মনে হতে পারে, এ আমার ভীষণ চেনা, ভীষণ আপনজন! তখনই আমার লেখা সার্থক। কারণ দুই মলাটের মধ্যে যে কজন নারী চরিত্রের কথা আছে, তারা আমার কল্পনা নন, তারা বাস্তব। অনেকে আজও জীবিত, অনেকে সংসারের পালা চুকিয়ে ফেলেছেন, কেউ কালে, কেউ অকালে। এ লেখাগুলো তাদের কথা। কাহিনী প্রধান না, তাদের কথাটাই প্রধান। যা না লিখলে কোথাও কাদের কাছে যেন অপরাধী থেকে যেতাম। যেন তাদের কথা চুরি করেছি, মর্যাদাটুকু না দিয়ে।
এরপরের বিচার পাঠকের। পেরেছি, না পারিনি তার চূড়ান্ত বিচারক পাঠক তুমি, আমি হতে পারি না।
এ বইয়ের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র এটি। স্থান, সময় পত্রে দেওয়া রইল। আমি তোমাকে ব্যক্তিগতভাবেও পাঠাতে পারতাম, ব্যক্তিগতভাবেও আমন্ত্রণ জানাতে পারতাম পাঠক। কিন্তু অতটা আত্মবিশ্বাস আমার জন্মায়নি এখনও। কুণ্ঠা লাগে। এ অক্ষমতা আমার ক্ষমা কোরো। আমার এ অক্ষমতা উপেক্ষা করে যদি আসো, ভালো লাগবে। ঋণী থাকব।
এ বইটা বাস্তব হয়ে ওঠার জন্য Raja Podder এর কাছে আমার ঋণের শেষ নেই। কী যত্নে আর কী ভালোবাসায় কাজ উনি করেন তা যারা ওকে জানেন তারাই জানেন। এমন রুচিশীল পারফেকশনিস্ট আজকের পোস্টট্রুথ আধুনিকোত্তর যুগে দুর্লভ।
তারপর অবশ্যই Tanmay Bepari Shawon। যার আমার লেখার উপর বিশ্বাস আর আমাকে কনভিন্স করানোর মত ধৈর্য দুটোই অপরিসীম। ও পারে বলেই গোঁসাই, বাঘের গল্প বাঘের মুখে আর নহ মাতা নহ কন্য সম্ভব হল।
Suman Das বেশ কিছু অলঙ্করণ করে দিয়েছে ভালোবেসে। এও এক বড় প্রাপ্তি বইটার। আর অবশ্যই Dayamoy Bandyopadhyay যিনি প্রচ্ছদটাকে লেখার সুর অনুযায়ী অদ্ভুত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সর্বোপরি খোয়াবনামা প্রান্তজনের কথা, আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানাই।