বিস্মরণ
সামনে প্রবহমান গঙ্গা
আমার এক 'আমি' মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ওপারে
আজকের দিনের শেষ সূর্য, দিগন্ত শয়ানে
কথাটা
কথাটা নিন্দা-প্রশংসার নয়
কথাটা চাওয়া - না চাওয়ার
কথাটা বর্ষা - বসন্তের না
কথাটা মন কেমন করার
কথাটা সময় পাওয়া - না পাওয়ার নয়
কথাটা তেষ্টা পাওয়ার
ক্যানভাস
গোলটা কিসের?
তবু তারার সংখ্যা কম লাগেনি কোনোদিন
অগণ্য জীবের প্রাণবায়ু দিতে দিতে বাতাস রিক্ত হয়নি
শ্বাসরোধে মরেনি কেউ
বিস্মরণ মানে কি পুনর্জন্ম?
মনে হয় যেন রাজ্যপাট সব হারিয়ে ফেলেছি
হাজার হাজার সৈন্য হারিয়েছি
আরো হারিয়েছি না জানি কত ঘোড়া, কত হাতি
কুয়াশাতেও ঢাকে কাঞ্চনজঙ্ঘা
কাদা ছুঁড়েছো বলে কষ্ট পাইনি
কষ্ট পেয়েছি তোমার ওই হাতদুটোর জন্যে
ওদের কি দোষ ছিল বলো?
হয়েছে কখনও?
আবীর চুমুক দিয়ে পান করেছো কখনও?
আমি করেছি
আমার ধমনী-শিরাতে সে রঙ মিশেছে
মস্তিষ্কের প্রতিটা স্নায়ু অবধি রাঙিয়ে ছেড়েছে যখন
তুই আছিস মেয়ে
বসন্ত সব গলিতে আসে না রে মেয়ে
বর্ষা আসে যখন তখন, যেখানে সেখানে
দেখ, তোর হাতে পড়ছে জ্বলন্ত মোমবাতি চোঁয়া গরম মোম
তবু মোমবাতি তো নিভিয়ে ফেললে চলবে না!
এক, শূন্য, অসীম
তখন যে একটা আবর্ত তৈরি হয়
তাকে বলি শূন্যতা
তা যুক্তিহীনতা নয়
যুক্তির পরিপূর্ণতা
কারা যেন
ফুলের পুংকেশরচক্ররা ঠিক করল
গর্ভকেশরচক্র দিবস পালন করবে
কারণ পুংকেশরচক্ররা নিজেদের পুরো ফুল বলে জানত