যিনি অন্ধকার দূর করেন তিনি গুরু। তুমি কার মনের অন্ধকার দূর করেছ আজ অবধি? কে কর্তৃত্ব দিয়েছে তোমায়? প্রতিষ্ঠানের বাইরে তুমি কে? বেরিয়ে এসে দেখো। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে করতে ভুলে গেছ কী ভীষণ বিভ্রান্ত তুমি নিজেও। তুমি কাকে পথ দেখিয়েছ? তুমি প্রথাকে পথ বলো। নির্দিষ্ট শব্দমালাকে পবিত্র বলো। নির্দিষ্ট কাহিনীকে সত্য বলো। তোমার বিশ্বাস তোমার পুঁজি। আমার দ্বিধা-সংশয় সরলতা তোমার ব্যবসাক্ষেত্র। সরে যাবে কবে নিজে থেকে?
আগামী প্রজন্মকে তুমি ভরে নিতে চাও তোমার মস্তিষ্কের কারাগারে। মস্তিষ্ক তোমার শব্দজাল বুনে চলেছে অহরহ। তোমার মস্তিষ্ককে গ্রাস করেছে যে যুগান্তরের কালো বাষ্প, তুমি তাকে স্পর্ধিত করেছ প্রশ্নাতীত সেজে থাকার। সেই বাষ্পের মেঘে হারিয়েছ চোখ, কান, বুদ্ধি, যুক্তি। তুমি যে আকাশকে কিনে নেবে ভেবেছিলে একদিন, তোমাকে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, বুঝলে একদিন সে আকাশকে কিনতে পারেনি কেউ কোনোদিন। যারা তোমাকে স্বপ্নে ভ্রান্ত করেছিল, তারাও না। হতাশা দগ্ধ সেই সব পূর্বজদের কঙ্কাল খুঁড়ে দেখেছ তুমি একদিন। তোমার সেই প্রত্নতত্ত্ব আবিষ্কার তোমার জিজ্ঞাসার হতাশাকে গলা চিপে মেরে ধূর্ত করেছে তোমায়।
যারা সে আকাশকে কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচিলঘেরা প্রতিষ্ঠান বানিয়েছিল, তারা সবাই আজ পাঁচিলে ঘেরা শূন্যতার উপাসক। স্বাধীন মানুষ আর খোলা আকাশে তাদের ভয়। কী হাস্যকর না? যারা রাতদিন মুক্তির কথা বলে, তারাই ভয় পায় চিত্তের স্বাধীনতাকে। পাঁচিলের যত্রযত্র লিখে রাখে শব্দঘোর - “অনন্ত”, “অসীম”, “অমরত্ব”। রাতদিন মহা আড়ম্বরে গলা ফাটিয়ে চীৎকার করে ঢাকঢোল পিটিয়ে ওই শব্দগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে। যেন সে শব্দবন্ধের ফাঁকি তাদের একদা পীড়িত অন্তরাত্মার পঙ্গুত্বকে না দেয় আরো যন্ত্রণা। একদিন অন্তরাত্মা মরে যায়। পড়ে থাকে অভ্যাসের আবর্তে পরম্পরার পায়ে দেওয়া জড় শ্রদ্ধার অঞ্জলির বাসি ফুলের মালা।
এর বাইরে খোলা আকাশের নীচে বসে থাকে কিছু মানুষ। স্বাধীন মানুষ। তারা জানে তারা কিছু জানে না। যা জানে তা এতই নিতান্ত আর অসম্পূর্ণ যে আকাশ তাদের মেঘে ঢাকে না। তারা কাউকে ডেকে আনে না। কেউ এলে তাড়ায়ও না। তাদের যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে তোমার এখানে বসতে গেলে কী করতে হবে? তারা অবাক হয়ে বলে, আমার এখানে তোমার এখান না দেখতে পেলে তবে করেও কিছু হবে না, না করেও কিছু হবে না।
Category
- Log in to post comments
- 1 view