Skip to main content

 

বসেই তো ছিলাম। মন? সে কি এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকার? উঠল। বলল, ঘুরে আসি। যেন আমার অনুমতি চাইল। মনহীন অস্তিত্ব কেমন? সে কী ভাষায় বলি? মন যেখানে নেই, সেখানে কোনো শব্দও তো নেই। নীরবতা, কিন্তু নিঃসঙ্গতা নয়। শূন্যতা, কিন্তু হাহাকার নয়। অপেক্ষা, কিন্তু অস্থিরতা নয়।

মন ফিরে এলো। এক ঝাঁক এলোমেলো, এটাসেটা কুড়িয়ে বাড়িয়ে। কারোর হাসিমুখ, কোনো তীক্ষ্ম দৃষ্টি, কোনো কথার টুকরো অংশ, কোনো উদাস চোখের কোল। আরও অনেক অনেক। বলল, এসব তোমার আছে না? বললাম, আছে তো। মন বলল, তবে আর কী আনব তোমার জন্য।

আমি বললাম, কিচ্ছু না। তুমি আমার পাশে এসে বসো। আমাকে বলো, কী তোমার পরিচয়? কে তুমি? আমি তো নই তুমি। যদিও এক এক সময় মনে হয় আমি তুমি এক। কিন্তু না, সে ভ্রম। বলো না, কে তুমি?

ভাবনার আলাপ থামিয়ে একজন ডাকল। বলল, তুমি? কতদিন পর দেখলাম তোমায়? ভালো আছ?

চেনা মানুষ। কিন্তু আকাঙ্ক্ষিত মানুষ নয়। তবু হাসলাম। কথা বললাম। চা খেলাম। উনি যাওয়ার আগে বললেন, আজকাল কিছু মনে থাকে না। দুদিন পর হয় তো তোমাকেও চিনতে পারব না। প্রলয়কে না। রিনি কে না। মল্লিকাকে না। আরও আরও নাম বলে গেলেন। যেন পড়া মুখস্থ বলে যাচ্ছে। থামালাম। থামলেন। চলে গেলেন।

কী যেন ভাবছিলাম। হ্যাঁ, মন তুমি কে?

কে উত্তর দেবে আর। মন সে ভদ্রলোকের পেছন পেছন যাচ্ছে। যার মন অল্প অল্প করে পড়তে পড়তে হারিয়ে যাচ্ছে রোজ। গোটা জীবনের সঞ্চয় বলতে তার প্রচুর টাকা। শাস্ত্র বলল মন মিথ্যা। মায়া। কুহক। কবি বলল, সে রহস্য। হিসাবী বলল সে হিসাবের রক্ষক। সংসারী বলল, সে জটিল, কুটিল। নেতা বলল, সে ধূর্ত, ঠগ, জোচ্চোর। বিজ্ঞানী বলল সে রাসায়নিক বিক্রিয়া। কিন্তু প্রশ্নটার উত্তর পাওয়া গেল না। মনের থেকে শক্তিশালী কে? সময়। সময়ের থেকে শক্তিশালী কে? দ্রষ্টা। সে দ্রষ্টার কোনো দ্রষ্টা নেই?

আছে। সব পথহারাকে ঘরে ফিরিয়ে আনে সে। তাই চিরকালের জন্য কিছু হারায় না। লুকিয়ে রাখার দুষ্টুমি ক্ষণকালের। চিরকালের না। সে বলে, আনন্দের ঢেউ লেগেছে ভাবনায়? যা কিছু নতুন, এসেছে দরজায়? যা কিছু পুরনো এনেছে বরণ ডালা? নিয়েছে বরণ করে? নাকি ভুরু কুঁচকিয়ে, নাক সিঁটকিয়ে বলেছে, ছি!!