গ্রামের নাম গোথুরুথ। এর্নাকুলামের ছোটো একটা গ্রাম। দুপুরের রোদ নরম হয়ে আলগা অন্যমনস্ক আঁচলের মত ছুঁয়ে আছে মাটি। লাল নীল সবুজ হলুদ প্লাস্টিকের চেয়ারে একে একে এসে বসছে গ্রামবাসী। কত চেনা। তবু কত অচেনা। মানুষও তো সরে সরে যায় পুব থেকে পশ্চিমে। কত বয়সের মানুষ এসেছে দেখো। কিশোর কিশোরী সলজ্জ কুণ্ঠায়। তরুণী তরুণ উদ্দীপ্ত স্বদীপ্তিতে। ত্বকের ভাঁজে ভাঁজে আয়ু জমিয়েছে যার অনেক গল্প, সেও উদাস নিস্পৃহ চোখও কি নেই? সেও আছে। প্রায় একশো দেড়শো মানুষ বসেছে এসে।
চায়ের দোকানে কবিতা পাঠের আসর। কবি কে? যাদের জীবন সুখ দুঃখের ছন্দপাত্রে দু এক কথা জমিয়ে তুলেছে। ওই যে মাছ ধরে যে। ওই যে মহিলা শুকনো পাতা জড়ো করে ছাওনি দেয় ঘরে। ওই যে মাছ ধরা মানুষটা। ওই যে ছেলে হারালো যার বিদেশে, কোন যুদ্ধের কার বোমা লেগে, সেই মহিলা। আরো অনেক অনেক কবি। দুঃখের তাপে কাজল পেতেছে। সেই কালিতে লিখেছে কয়েক লাইন। কাঁপা কাঁপা হাতে, সজল গলায়, পড়ন্ত রোদে উচ্চারিত হচ্ছে মালায়াম ভাষায় আদিম হৃদয়ের প্রাচীন জীবনগাথা। প্রেমও কি নেই? আছে তো। ওই যে বাপ মা হারানো পনেরো বছরের ছেলেটা দাঁড়ালো মাটিতে নিকানো চায়ের দোকানের দেয়াল ঘেঁষে। পড়ছে মোবাইলের স্ক্রিন দেখে। কয়েক রাত জেগে লেখা লোহিত হৃদয়ের কুমকুম ছড়ানো দানা দানা ভাষায়। ছড়িয়ে পড়ছে আবীরের মত। যার উদ্দেশ্যে লেখা সেও কি শ্রোতার আসনে নেই, ছদ্মবেশে? চোখই জানে, আর জানে বিকেলের হাওয়া, কার বুকের ভেতরে ভূমিকম্পর নিঃশব্দ গর্জন।
ফেরা পাখির দল বসছে গাছের ডালে একে একে। তাদের ঘরে ফেরার আলাপে কবিতার ছন্দ মিশছে আদিযুগের ঋষির স্তবের মত। নিঃশব্দে বয়ে যাওয়া পেরিয়ার নদীর জল শুনছে মানুষের সুখ দুঃখের পাঁচালি। তারও অনেক কথা বলার আছে। বলবে সাগরকে। সাগরকে করবে নোনা।