Skip to main content

 

111.jpg

(কাজটা স্পর্ধার! আসলে হেমিংওয়ের এই গল্পটা আমাকে দীর্ঘদিন আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। গল্পটা ঠিক একশো বছর আগে হেমিংওয়ে লিখেছিলেন। Cat in the rain। ১৯২৫ সালের লেখা। আমি করলাম কী গল্পটা আমার মত করে আমি দাগ বুলালাম। এমনিই। আমি আগেই মার্জনা ভিক্ষা করছি। এটা কিন্তু একদমই অনুবাদ নয়। এটা দাগ বুলানো। শুধুই নিজের আনন্দের জন্য)

====================

শম্পার বৃষ্টি ভালো লাগে না। কোনোদিন ভালো লাগে না। আজ সকাল থেকে লাগাতার বৃষ্টি। হোটেলের সামনে মাঠ। তারপর লেক। মাদুরাইতে আজ এক সপ্তাহ হল। আজ রজতের অফিস নেই। সকাল থেকে বই মুখে করে একবার সোফায়, একবার খাটে এসে বসছে।

শম্পা জানলার সামনে দাঁড়িয়েছিল। হঠাৎ বলে উঠল, ইস, মাগো….

রজত কোমর অবধি কম্বলটা টেনে আধশোয়া হয়ে বই পড়ছিল। বই থেকে চোখ তুলে বলল, কী?

ইস, দেখো, মিনিটা কীভাবে ভিজছে। ওই কাঠের বেঞ্চটার তলায় শুয়ে। দুবার উঠতে চেষ্টা করল জানো। জলের ছাঁট আসছে না বলো। এভাবে মিনিটাকে ভিজতে দেখলে কী যে খারাপ লাগে! কিছু করবে গো? অ্যাই! প্লিজ! যাও না।

রজত বই থেকে চোখ না সরিয়েই বলল, কী ছেলেমানুষী করছ?

শম্পা একবার রজতের দিকে তাকালো, একবার জানলার বাইরে। বলল, আমি যাই।

শম্পা লিফট নিল না। সিঁড়ি দিয়ে ঘুরে ঘুরে নামতে লাগল। তাদের ফ্লোর চারতলায়। হোটেলের রিশেপসনের পাশের ঘরেই হোটেলের ম্যানেজারের অফিস। মাঝবয়েসী, গুরুগম্ভীর মানুষ। কাগজে লেখে যখন কিছু নীচের ঠোঁটটা সামনে এগিয়ে আসে। কী যত্ন করে প্রতিটা অক্ষর লেখে। কালো ঘন চুল ব্যাকব্রাশ করা। মালয়লি শুনেছে। ফুল হাতা শার্ট পরে। বুকের প্রথম দুটো বোতাম খোলাই রাখে। বুকের উপর থেকে উপচে বাইরে আসা কেশভার ঘন, চকচক করে হোটেলের সাদা আলোয়। কী আফটার সেভ ব্যবহার করে? দারুণ গন্ধটা। নেশা লাগে।

অফিস রুমের পাশ দিয়ে যেতে যেতে শম্পা তাকালো। আড়চোখে। আকাশী নীল ফুলহাতা শার্ট আর জিন্স পরে। কাজ করছে? কে জানে। হোটেলের বাইরে যাওয়ার দরজায় হাতলে হাত রাখল। পেছন থেকে পুরুষ কন্ঠ ভেসে এলো ইংরেজিতে, কিছু হেল্প লাগবে ম্যাম?

শম্পার চোয়াল শক্ত হল। গ্রীবা কঠিন হল। বলল, বাইরে একটা বেড়াল ভিজছে। যাই দেখি….

দরজা খুলল। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির ছাঁট এসে লাগল গালে। গরম গালে ঠাণ্ডা জলের স্পর্শে চমকে উঠল শরীর। সে চমককে আড়াল করে পা বাড়াতে যাবে এমন সময় কেউ পেছনে এসে দাঁড়ালো। মাথা ঘুরিয়ে তাকালো। রিসেপশানের মহিলাটা। মাথার উপর ছাতা খুলে ইংরেজিতে বলল, “ম্যাম ভিজে যাবেন। চলুন। কোথায় যাবেন?”

শম্পা বলল, আমার রুমের উলটোদিকের বেঞ্চের নীচে একটা বেড়াল ভিজছে….ওকে নিয়ে আসি….বেড়াল ভিজতে দেখলে আমার ভীষণ খারাপ লাগে….

মহিলা বলল, কিন্তু এদিকে তো বেড়াল আসে না।

ইংরেজিতে বলল মহিলা। শম্পা কোনো উত্তর না দিয়ে হাঁটতে শুরু করল। কৃত্রিম পাথর বিছানো পথ। যেন পাহাড়ি পথ। বৃষ্টিতে পা ভিজছে। মাথার উপর ছাতা ধরে মহিলাও হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে হোটেলের তার রুমের উল্টোদিকের বেঞ্চটার কাছে এলো।

যা! চলে গেল!

হিন্দিতে বলল শম্পা। ছাতা হাতে মহিলার মুখটা শক্ত হল। ইংরেজিতে বলল, ঘরে চলুন, এভাবে ভেজা ঠিক হচ্ছে না আপনার।

হোটেলে ঢুকল। তাকালো অফিসের দিকে। ফোনে কথা বলছে। চেয়ারে বসে। পা দুটো সামনে টানটান। বাঁ উরুর উপর বাঁ হাতটা খেলছে। আঙ্গুলগুলো পিয়ানো বাজানোর মত খেলা করছে।

রুমে এলো। এখনো বইয়ে ডুবে রজত।

জানলার কাছে এসে দাঁড়িয়ে শম্পা বলল, জানো মিনিটা চলে গেছে।

রজত বইতে চোখ রেখেই বলল, ওহ।

শম্পা আয়নার সামনে বসল। নিজেকে বাঁদিক থেকে দেখল। ডান দিক থেকে দেখল। মাথাটা নীচু করে সিঁথির চুলগুলো দেখল। বলল, আমি বড় চুল রাখব? খেলব চুল নিয়ে। আমার কোমর অবধি এই এত বড় চুল থাকবে দিদিমার মত। এই দ্যাখো…এই এত অবধি।

রজত একবার ভ্রুক্ষেপ করেই আবার চোখ ফিরিয়ে নিল।

আর একটা বেড়াল থাকবে জানো। আমি যখন সন্ধ্যা দিতে বসব ও আমার পাশে বসবে। আমার পিঠে পড়ে থাকবে এক রাশ খোলা চুল। আমি যখন রুটি বেলতে বসব ও আমার পাশে গুটিসুটি মেরে বসে থাকবে। আমি যখন টিভি দেখব রাতে একা, ও আমার কোলে শুয়ে থাকবে। আমি যতবার ওকে ছোঁবো ও লোম ফুলিয়ে আমার আদর খাবে।

রজত মাথাটা কাত করে বইটার পাতা উল্টে বলল, বেশ তো।

বাইরে দেখতে দেখতে তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা নেমে গেল। নামবে না তাড়াতাড়ি? যা মেঘলা! বৃষ্টির একঘেয়ে বিরক্তিকর শব্দ হয়েই চলেছে। রজত উপুড় হয়ে শুয়ে বই পড়ছে।

শম্পা হঠাৎ বলল, আমার চুল তো এখনই বেড়ে যাচ্ছে না আর হাঁটু অবধি। কিন্তু আমি একটা মিনি তো এখনই পেতে পারি। আমার এখনই একটা মিনি চাই চাই চাই। এই শুনছ, আমার এখনই একটা মিনি চাই। আমি খেলব। আমি আদর করব। এখনই চাই চাই চাই।

রজত বিরক্তির সঙ্গে বলল, কী ছেলেমানুষী করছ? হয় কিছু একটা পড়ো, না হয় টিভি দেখো। জ্বালিয়ো না, আমাকে পড়তে দাও।

শম্পার চোখের কোল ভারী হল। কিছু বলতে যাচ্ছিল। হঠাৎ রুমের বেলটা বাজল।

রজত ভুরু কুঁচকে তাকালো। এই সময়ে কে? কিছু তো অর্ডার দেওয়া হয়নি। উঠে দরজাটা খুলল। রিসেপশনের মহিলা দাঁড়িয়ে। হাতে একটা বাসকেট, তার মধ্যে গুটিসুটি শুয়ে একটা বেড়াল। মহিলা বলল, ম্যাডামের জন্য ম্যানেজার পাঠালেন।

(নিজগুণে ক্ষমা করবেন হেমিংওয়ে সাহেব 🙏 )