Skip to main content

 

এইমাত্র তুমি রাস্তা দিয়ে নেমে গেলে। ঘাসের উপর পা দিয়ে হেঁটে গেলে নদীর ধারে। বসে, পা ডুবালে জলে।

এগুলো মিথ্যা কথা নয়। কল্পনা। যখন মিথ্যা কথায় মিথ্যা কথার ওঠে নাভিশ্বাস। তখন কল্পনা বলে, কোথাও যেন একটা সরল সহজ সত্যি আছে। লুকিয়ে, না হারিয়ে? মনে পড়ছে না। কিন্তু আছে।

ভিজে পায়ের ছাপ গেল শুকিয়ে। মালা গেল শুকিয়ে। শুকনো পাতা উড়ছে উষ্ণ বাতাসে। শুকনো মাটিতে দাঁড়িয়ে কল্পনা বলে, একটা রূঢ়, কিন্তু সরল সহজ সত্য যেন আছে। আমি মনে করতে পারব, তুমি উতলা হয়ো না।

তারপর উড়ে গেল চিল। উড়ে গেল মেঘ। উড়ে গেল একঝাঁক বাদুড়। অন্ধকার নামল বিশ্বের প্রাচীনতম বৃক্ষের গোড়ায়। গুনগুন করে গান গায় কে? কে বসে ওখানে, এত রাতে? কল্পনা ভয় পায়। এগোয় না। দাঁড়িয়ে থাকে। উতলা। উদ্বিগ্ন। সত্য নয়, আশ্বাস চায়, "ভয় নেই কোথাও", এমন একটা কিছুর আশ্বাস। বাণীর আশ্বাস। সূত্র বলে। মন্ত্র বলে। প্রাচীন পুঁথি থেকে কত কত উদ্ধৃতি মনে আনে। কল্পনা ধীরে ধীরে বুঁদ হয়। নিজের ছায়ায় নিজের ছায়া খোঁজে। নাম রাখে এর তার। পরিচয় বানায় এটা সেটা। ভুলে যায় প্রাচীন বৃক্ষের কথা। তার গোড়ায় বসে কে যেন, তার কথা।

তারপর?

একদিন জেগে ওঠে আকস্মিকতায়। প্রবল ধাক্কায়। কালের ধাক্কায়। ধুলোর মত উড়ে যায় সব। কল্পনা মুক্ত হয় আবার। আদিম বৃক্ষের প্রাচীনতলের দিকে এগোয়। শূন্য যে! তবে? কে আনল ডেকে? কার ভয়? কার আকর্ষণ? কার স্বরে এলো এদিকপানে?

আহ্নিকগতি, বার্ষিকগতির কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে কল্পনা। মহাকালের ধারাপাত, ওই যে বাজছে। কী ওর মানে? কী ওর বাণী? কল্পনার মধ্যে জেগে উঠল কাল্পনিক স্বর - আলো জ্বালো। কল্পনায় কল্পনার ঘর্ষণে জ্বলে উঠল আলো। কল্পনার আলোতে দেখল সব সুন্দর। দীঘির জলের উপর প্রাচীন বৃক্ষের ছায়া। কল্পনা আলোর দিকে চেয়ে বলল, বাস্তব কী তবে? আলো বলল, এই আলোতে যতটা হিসাবে পাও। হিসাবের আগে পিছে দাঁড়িয়ে কল্পনা, তুমি। চাইলেই উড়িয়ে দিতে পারো। রাখতেও পারো। কিন্তু নিজেকে নিঃশেষ করতে পারো না তুমি। তাই তুমি আদিম সত্য।