আবীর লেগে গালে, চুলে। সামনে এক কাপ কালো কফি। ক্যাফেতে আরো অনেকেই তো আসছে যাচ্ছে। ও মাথা তুলে তাকাচ্ছে না। ডান হাতের আঙুলগুলো কফিকাপটা ধরে আছে। জাপটে। মাঝে মাঝে চুমুক দিচ্ছে। অন্যমনস্ক নয়। কী চিন্তায় মগ্ন। ফোনটায় রিং হল বার কয়েক। ফোনটা সামনেই টেবিলের উপর রাখা। তাকিয়ে দেখল, কিন্তু তুলল না। রিংটা কেটে দিলো।
কিছুক্ষণ পরে ফোনটা তুলল। ডায়াল করে কানের সঙ্গে লাগালো ফোন।
কোথায়?
….
আমি সেই ক্যাফেটায়
…..
অনেক কিছু বদলিয়েছে। চেয়ার, আলো, দেওয়ালের পেণ্টিং।
…….
কফি। এটা নিয়ে দু কাপ।
…….
মুছিনি। অফিসের ওরাই দিয়েছে….একদিন ছুটি। আরেকদিন বাড়ি থেকে।
……..
ও আচ্ছা….হ্যাঁ রাখো….
চোখের মধ্যে মেঘ জমছে। ধীরে ধীরে। নাকের পাটায় কালবৈশাখীর আঘাত। গালের উপর বদলে যাচ্ছে রং।
ফোনটার স্ক্রিন স্ক্রল করতে করতে ঝড় সামলাচ্ছে। আবীর বড় বে-আক্কেলে। জলের গতিপথ স্পষ্ট করে। সোজা রেখা, অল্প কিছুদূর গিয়ে মিলিয়ে। যেন নদী রাস্তা হারিয়েছে মরুভূমিতে।
ফোনটা বন্ধ করল। দুই হাত মাথার পেছনে করে চুলটা বাঁধল শক্ত করে। আবীর ঝরল। আবীর বড় আলগা।
এইবার তাকালো চারদিকে। এই টেবিল থেকে সেই টেবিল। থিক থিক করছে ভিড়। অনেকেরই গায়ে আবীর। সুখের মত রঙিন। আবীর বড় মিথ্যা কথা বলে। উঠল। ওয়াশরুমের দিকে গেল।
বেরিয়ে এলো খানিকবাদে। দুটো চোখ লাল। মুখে কোথাও আবীরের ছিঁটেফোঁটা নেই। জল ছোপ ছোপ মুখ। ভিজে চোখের পাতায় ক্যাফের উজ্জ্বল সাদা আলোর চিকচিক। তার ফেলে যাওয়া টেবিলে দুজন বসে। মুখোমুখি। গায়ে তাদেরও আবীর। বেইমান আবীর।
দরজা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে গেল। বাইরে তখন ভীষণ ভিড়। বাজারের ভিড়। দোল উৎসবের ভিড়। মাথার উপর প্রায় গোল হয়ে আসা চাঁদ। শুধু তিথির অপেক্ষা। তিথির হাতে আবীরের পাত্র। কখনও ভরছে। কখনও শূন্য করছে পাত্র।
ও ভিড়ে মিশে গেল। আবীর বিকোচ্ছে দেদার। আবীর বড় ভুলো। বিস্মৃতিগামী।