Skip to main content

ক্রিসমাস ইভ

তোমার শুধু ঘরের কোণ নেই
তোমার আছে এক মহাকাশ সাগর
তোমার শুধু মাটির প্রদীপ নেই
তোমার আছে এক নীহারিকা আলো
বুকে তোমার, শুধু হিংসা রক্তচক্ষু নেই
আছে দেখো, করূণামাখা ক্ষমা
প্রেম কি শুধু পানাপুকুরের ডোবা? 
সে ত্যাগে সেবায় ঝরণা উছল ধারা
পূজা, শুধু আচার-বিচার-নিয়মে নয়
সে নিজের মধ্যে বিশ্বকে খুঁজে পাওয়া

৭ই পৌষ

সেদিন এক বালক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ নিয়েছিল
       এই মাটিতে আজকের দিনে, কিছু সূর্যোদয় আগে
বিশ্বের প্রতিটা অণু- পরমাণুতে লাগল দোলা
               প্রতিটা আন্দোলনে জাগল ছন্দ
আদিকবি আসন পাতলেন মাটিতে। ইচ্ছা করলেন -
তাঁর সৃষ্টির অতলস্পর্শী সুধাকে করবেন স্পর্শ

বদ্তমিজ দিল

সাদা শাড়ী পরা পৃথুলা মহিলা সন্ধ্যের অন্ধকারে ধীরে ধীরে হাঁটছেন। কৃষ্ণ মন্দিরের সামনে দাঁড়ালেন। মাথা নীচু করে হাতজোড় করে আঁচলটা বুকের কাছে এনে প্রণাম করলেন। চাবির গোছা ঝনঝন করে উঠল। 

একটু দাঁড়াও

তুমি হাতের রেখা গুনো না
তুমি আশেপাশের কথা শুনো না
তুমি উনুনে আঁচ ধরিয়ে একটু আড়ালে যাও
তুমি ভ্যানটা গাছের ছাওয়ায় রেখে একটু দাঁড়াও

তোলপাড়

রাজ্যসভা লোকসভা তোলপাড়
তোলপাড় আলোচক বুদ্ধিজীবী মহল
সেই ভয়াবহ ডিসেম্বরের রাত
আতঙ্ক আক্রোশ ঘিরে আইনি টহল

মাথা ঘিলু চটকাচ্ছে বিবেক বিচার
কত বয়সের অপরাধে দাগী অপরাধী হয়?

আমি ভাবি -
বলো দেখি, কতটা উদাসীন হলে সমাজ
এ ঘৃণ্য প্রবৃত্তিরও কিশোর মস্তিস্কে জন্ম হয়?

আমি

এক আমি পিছন ফিরে
আরেক আমি সামনে তাকিয়ে

তোমার 'আমি' মাঝখানেতে
          আসন বিছিয়ে
একখানে তার ছায়া, আরেকখানে কায়া


(লেখাটা আগেই দেওয়া। Samiranদার হাতের ছোঁয়ায় তা আরেক মাত্রায় উন্নীত হল। ধন্যবাদ দাদা।)

অরণ্য

এ আমার একলা অরণ্য। একা অরণ্য।

এর শিকড়ে আমার স্মৃতির অববাহিকা
ওরা চুপিচুপি কথা বলে
কান্নাগুলো শিশিরে ভিজে আজও উজ্জ্বল
মায়ের আঁচলের গন্ধ, বাবার হাতের স্পর্শ
ফেলে আসা বন্ধুর টিফিন বক্স
কারোর ওড়নার গন্ধ
              ওরা কথা বলে। একা একা।

নাবিক

বাসনাগুলোকে নাবিক করেছি। খালাসির কাজে ছিল ওরা। তাদের দিলাম নাবিকের ভার।

লুকোচুরি

খামখেয়ালী রোদ এল ছাদের উপর
এসে বললে, সময় আছে?
বললাম, কেন? 
সে বলল, 
দাঁড়াব একটু। বসতে বললে বসতেও পারি।

আমি খেলছিলাম ছায়ার সাথে একা, লুকোচুরি।
সে কার্ণিশের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে,
       আমায় ইশারায় বলল -
        না, ওকে যেতে বলো এক্ষুণি

শীতের কম্বল


যে আলোতে নিজের, অন্যের ভিতরটা দেখা যায় তা হল অনুকম্পা। অন্যের দিকে ফিরলে অন্যকে দেখায়, নিজের মধ্যে ফিরলে নিজেকে চেনায়। না হলে, নিজের অহংকারের জুলুমে অন্যকেও মারি, নিজেও মরি। নিজের ভার লাঘব করলে অন্যের চলার পথে পাথর হই না, আর নিজের বুকের ওপর পাথর হয়ে বসি না। 

Subscribe to