সৌরভ ভট্টাচার্য
20 August 2018
আমার বাথরুমে সাবান, ফিনাইল, ব্লিচিং, কমোড - সবার গায়ে ইংরাজি লেখা। কারণ আমি একজন বহুভাষী দেশের নাগরিক।
আমার বসার ঘরে শোয়ার ঘরে ফ্যানের গায়ে, টিভির গায়ে, কম্পিউটারের গায়ে, বইয়ের মলাটে প্রকাশকের নামে, ক্যালেণ্ডারে, আলমারির চাবির সংখ্যায়, এমনকি ঠাকুর ঘরের ধূপের প্যাকেটে ইংরাজি অক্ষরমালা ছড়িয়ে। কারণ আমি একজন বহুভাষিক, উন্মুক্ত বাজারি সভ্যতার নাগরিক।
আমার রান্নাঘরের গ্যাসের সিলিণ্ডারে, ওভেনে, মশলার প্যাকেটে, মাইক্রোওভেনে, ফ্রীজে, নানা অত্যাধুনিক সাজসরঞ্জামে শুধু ইংরাজি অক্ষরমালা, এমনকি আমার নুনের প্যাকেটেও। কারণ আমি একজন ইংরাজি নির্ভর বস্তু সভ্যতার বিশ্বনাগরিক, যারা পরাধীনতা মুক্তির উৎসব উদযাপন করে পরাধীনতার আনন্দেই, অন্যভাবে।
আমার সাজের বাক্সে, দাড়ি কামাবার সরঞ্জামে, জুতোর প্যাকেটে, সিগারেটের খোলে, ট্রেনে-বাসে, প্লেনে, স্টিমারে, শ্মশানে, হাস্পাতালে, জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেটে, ওষুধের গায়ে, প্রেসক্রিপশানে শুধু ইংরাজি অক্ষরমালার নির্দেশ। কারণ আমি শিক্ষিত। কারণ আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের এক একজন বুদবুদ। আমাদের প্রতিশব্দ আছে, শব্দ নেই।
আমার চারদিকে ইংরাজি অক্ষরমালার শেকল, আড়াল, নদী, - থেকে যাবে আমৃত্যু। শ্যাওলার মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাংলা অক্ষরগুলো এদিকে ওদিক যে কয়েকটা, পিচ্ছিল বড় আধুনিক প্রযুক্তির রাস্তায়। 'হে বন্ধু বিদায়'।
Category
- Log in to post comments
- 3 views