সত্যের গায়ে জমে না মেদ
যেখানে নাকি অনেক নীতি, উচ্চাদর্শ
মহাপুরুষের গুষ্ঠিবাস
তারও নীচে জমছে ক্লেদ
তাদের কাছে যাচ্ছে যারা সরল মনে
ঠকছে তারা
এসব দেখে দেখে জমছে খেদ
নাস্তিক অন্তর্যামী
যত ভয় ভাবনা ব্যর্থতা অক্ষমতা
মনের এ কোণ, সে কোণ থেকে
সব ঝেঁটিয়ে -
ঝেঁটিয়ে ঝেঁটিয়ে কেঁদে কঁকিয়ে
এনে ফেলি সিংহাসনে রেখে
সামনে আমার ভগবান,
ইহকাল পরকাল
আছেন বরাভয় দিয়ে
রক্তবীজ বিশ্বাস
যে পিঠে ছুরি মারবে বলে
রোজ রাতে ছুরিতে শাণ দেয়
সে দিনের বেলায় মাঝে মাঝে
আমার গালে চুমু খেয়ে যায়
তার পিঠের চোখে রাখি চোখ
দেখি প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাস
কালের প্রবাহে বইছে চোরাস্রোতে
তবু ভেসে আছে রক্তবীজ বিশ্বাস
কিছু মধু এখনো বুকে আছে
পায়ের তলায় মাটি ছিল না কোনোদিন
মাথা ভরা কল্পনাও ছিল না ভিড় করে
আমার চারদিকে, চারপাশে
শুধু ইচ্ছা ছিল কিছু
এখনো আছে
সত্য বস্তু
সত্য বস্তু চিত্তে বাঁধা
তারে খুঁজতে গেল জনম আধা
এমন গোলক ধাঁদায় ঘোরায় যে রে
সে জন কোন জনা?
চিত্ত ক্লান্ত মিথ্যা ভেকে
যারে হন্যে হলেম ডেকে ডেকে
সে যে সব ঘরেতেই আছে বসে
হয়ে একজনা
সত্য বলো, সুপথে চলো
লালন সাঁই এ মন্ত্র দিল
সে ধন পাবে যদি মন সামলে চলো
ভাগাও ছয়জনা
বোঝো?
যখন তুমি সবার ‘হাঁ’-এ
‘হাঁ’ মিলিয়ে নিরাপদ
তখন তুমি সাদা মুখে
আয়নার সামনে যেও না
ভয় পাবে
তার চেয়ে রঙ মেখে এসো
নিজের গলার স্বর শুনে চমকে যাও
জানি
তুমি না চাইলে
সেদিন তুমি
দিতে চেয়েছিলে দু'হাত ভরে
নিই নি আমি,
ফিরিয়ে দিয়েছি অহংকারে
কালের ঘুর্ণী
ঘোরালো ছোটালো কি মহাঘোরে
ফিরে এসে দেখি
শূন্য অহং পূর্ণ হিসাব শূন্য করে
আর যাই করো
আর যাই করো
কিছুটা জমি বাঁচিয়ে রাখো
ঘর তুলো না সবটাতে
একটা ছোটো উঠোন রাখো
তাতে গাছ না হয় নাই লাগালে
জানি ভীষণ তোমার ব্যস্ততা
ঘাসই না হয় থাকুক
তারা শিশিরে ভিজুক ভোরবেলা
প্রেম-শরীর
সব শেষে দেখি, ঘরের কোণেতে দ্বীপ জ্বেলে যান কবীর
হিন্দু না ভাই, না মুসলিম, প্রেমে গড়া প্রেম-শরীর
না মন্দিরে, না মসজিদে, না জঙ্গলে, না গুহাকোণে
প্রতি শ্বাসে শ্বাসে, সেই আছে ভাই, প্রতি প্রাণে, প্রতি মনে
চিরশান্তির সুর আসে ভেসে কোন পুরাকাল থেকে
প্রতি আলোকেতে সেই আছে দেখি, সারাটা বিশ্ব ব্যেপে
প্রেমেতে সত্যে করূণায় গড়া ক্ষমার আলোতে স্নিগ্ধ
চেয়ো না
যে শিখার আলোতে তুমি বাঁচো
সে আলোকেই নাও শুধু কাছে
যে প্রদীপের সে শিখা
সে প্রদীপকে চেয়ো না, থাক
যাবে পুড়ে
সে আগুনকে বুকে নেবে -
এমন শ্মশান কি তোমাতে আছে?