Skip to main content

শিখা

নদীটা যতটা সম্ভব বুকটা চওড়া করে জেগে

সারাটা বুক দিয়ে জ্যোৎস্নায় ভিজবে বলে
   চাঁদের সাথে একা
তার বুকে জল থাকুক
        না থাকুক
 সে পরোয়া করে না
পরোয়া করে না চাঁদও

নেশা

তোমার নেশা - ভালোবাসার আগুন।
     তুমি জ্বালানী খোঁজো এ বন, সে বন।

কাঠুরের মত বাগানে ঢোকো সন্তর্পণে
     শিকারীর লালসায়
          জ্বালানী কাঠের জন্য।

আমি ডালে ফোটা ফুল দিতে গেলাম।
নিলে না। ফুল মাটিতে পড়ল লুটিয়ে।
বললে, ডালটা দাও, শুকিয়ে।
আগুন জ্বালব।

শেষ বগি

 

রেল লাইনের বুক
থরথর ঝনঝন করে কেঁপে উঠল
বুকের পাঁজরের কেন্দ্রে বিঁধল সুক্ষ্ম সুতীব্র যন্ত্রণা

 সে চুপ করে শুয়ে থাকল
    জানে তো
   সব ট্রেনেরই একটা শেষ বগি থাকে

তার বুকে ওঠে শব্দ
   আমার কানে বাজে সংগীত

সমীরণদা

জানতাম না তুমি -
   দৃষ্টির সাথে
     হাসির সাথে
       স্পর্শের সাথে
         যাদুকাঠি নিয়ে ফেরো

ঝরাপাতা

ঝরাপাতা, ওগো ঝরাপাতা
  কার অভিসারে এলি?
   তবে ব্যর্থ হল কি আসা?
কি অভিমানে ধুলাতে শয়ন পাতিস?
         নাকি, পেলি তাঁর দেখা
    শবরীর মত বহু অপেক্ষা শেষে
         সে চরণেতে মাথা রাখিস?

ফেরা

মাঝি,
সাগর জলের নোনা হাওয়া
  তোমার গা ছুঁয়ে
নোঙরখানা আলগা করে
  এলো তরীতে পা দিয়ে


যাই কি না যাই
  বোঝার আগেই মন তুলেছে পাল
তটের ঢেউয়ে আকাশ ছবি
       আমার হৃদয় বেসামাল


(ছবিঃ সমীরণ নন্দী)

হায় রে বোধি হায় রে

("চমস্কী আর পামুক?
ওরাও শেষে নিন্দা দিলেন? এবার লড়াই থামুক!"
~ শ্রীজাত)


নোম চমস্কী করিল নিন্দা
     করিল নিন্দা পামুক
বঙ্গকবি লাফায়ে কহিল
   তবে তো লড়াই থামুক

হায় রে বোধি হায় রে
  পরানুগত্য কি মহীয়সী
দেখিয়া প্রাণ জুড়ায় রে

ভোর হওয়ার আগে

আমার মাঝরাতেই ভোর হল
   যেই তোমার কিছু কথা মনে এলো

দীর্ঘশ্বাস

“কিছু কিছু ছেঁড়া টুকরো কথা
এখানে ওখানে একলা একলা

তার কিছু কিছু তুমি ভুলছ
কিছু ভুলছি আমি

তবু যখন উদাস বাতাস
ওদের বুকে ধরায় কাঁপন

কিছু দীর্ঘশ্বাস তুমি চেপে রাখো
কিছু চেপে রাখি আমি”
 

(ছবিঃ মৈনাক বিশ্বাস)

জীবনপথ

সংসার সীমান্তের প্রান্তে
কে তুমি?

কোথা চলেছ
অজানা অচেনাকে সম্বল করে
এ ঘন রহস্য ঘেরা পথে?

ওগো অভিমানী
তবেও যাও

যদি ফিরে আসো
এ পথেই এসো

এ কুয়াশায় থাক ঢাকা
তব নির্বেদ যন্ত্রণার গাথা

আমি কুড়ায়ে নেব

(ছবিঃ সমীরণ নন্দী)

Subscribe to কবিতা