যেই চিনেছ
কাজের সূত্র কাজকে চেনায়
কাজ চেনায় মনকে
মন চিনলে জগৎ সোজা
বেড়া যাবি টপকে
মনের মালিক তুই তো বটেই
তোর মালিক সে সেয়ানা
বাইরে আছিস মোহে মেতে
খুঁজে সুখের বাহানা
সব ভুলে সব আটকে আছে
জালের মধ্যে ঝপাং ঝপ
মন চিনে নে, মন চিনে নে
সত্য শান্তি মিলবে সব
ইঙ্গিত
বাঁধ ভাঙার শব্দ
বিসর্জনের শব্দ
ঝরণার শব্দ
তোমার পায়ের শব্দের মত
ঝরা পাতার সজ্জা
সন্ধ্যের উদাস হাওয়া
তারা খসার মুহুর্ত
তোমার আসার ইঙ্গিতের মত
পদচিহ্ন
চৌকাঠ পেরোলাম
বারান্দা পেরোলাম
উঠান পেরোলাম
রাস্তায় আসলাম
শুধু তোমার জন্য
শুনলাম তুমি ফিরে গেছো
অনেকক্ষণ ওই পাকুড় গাছটার তলায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
তুমি শুনতে পাও নি?
আমি চৌকাঠ পেরোচ্ছিলাম
বারান্দা পেরোচ্ছিলাম
উঠান পেরোচ্ছিলাম
বোঝোনি, সে শুধু তোমারই জন্য?
মনসুর
জোছনা
এক মুঠো জোছনা চুরি করে
সিঁড়ি দিয়ে পা টিপে টিপে
তোমার ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালাম
তুমি বললে -
মোছা মেঝে, একটু দাঁড়াও
জলটা শুকিয়ে যাক আগে
ডাক
যদি
কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে
সব ধুয়ে যদি যেত
সব রক্ত ধুইয়ে নিয়ে
মিথ্যা করে দিত!
হাত ছুঁয়েছিল যে মহানগর
বুক ছুঁয়েছিল যারা
ফিরিয়ে দিত বৃষ্টি একাই
যেন কেউ না স্বজনহারা
জানি এ সব ছাই কল্পনা
গল্পের মত সব
কাল থেকে চোখ মাড়িয়ে চলেছে
আচমকা হওয়া শব
আমার কবিতা
আমার কবিতার পায়ে কাদা লাগে
পুরোনো ঘরে মাথা নীচু করে ঢুকতে গিয়ে
আমার কবিতার মাথায় ঝুলও লাগে
আমার কবিতার জ্বর হয়
মন খারাপ হয়
আমার কবিতা শুধু ভাসে না, হাঁটেও
হাঁটতে না পেলে হামাগুড়িও দেয়
তোমায় একটু ছুঁয়ে দেখে আসে
তোমার কি জ্বর? না মন খারাপ?
ভাল আছো কি?
দোহাই
আমার দুর্বলতা
আমার ভয়
আমার ব্যাকুলতা
আমার নিরাপত্তাহীনতা
এ সব নিয়ে
আমি তোমার দরজায় আসব
যে তুমি ভগবান নও,
যে তুমি মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব
তার কাছে
ভুলে যাও
কেউ দেওয়াল নোংরা করে যেতেই পারে
অপেক্ষায় থেকো না যে -
সে-ই আবার জল ন্যাতা নিয়ে আসবে
দাগ মুছতে
অপেক্ষায় দাগটাই পাকা হয় শুধু
নিজেই মুছে ফেলো
অন্তত দেওয়ালটার কথা ভেবে