Skip to main content

নির্দ্বিধায়

পরিচয়ের কি আছে?
এক চিলতে বুকে যতটা ভালোবাসা ধরে
জীবনের দাবি তার চাইতে অনেক বেশি

সংশয় রেখো না
দু'পলকের জীবনের যাবতীয় হিসাব
এক ফুঁয়ে ওড়ায় মৃত্যু

কিছু মানুষকে কালের হিসাবে চিনি তো বহুদিন
বলা যায় কয়েক যুগ
কিন্তু বুঝতে পারিনি একরত্তি

পরিচয়ে কি আসে যায়?

তুমি নির্দ্বিধায় এসো
যদি ফিরে যাওয়ার তাড়া না থাকে

ওরা তিনজন

অবন্তী, মল্লিকা, রেণু
তিনজন আজও দরজার কাছে বসে
    সন্ধ্যেবেলা
          রোজকার মত

অবন্তী, মল্লিকা দুই জা, রেণু শাশুড়ি

আজ বড্ড অন্ধকার লাগছিল ওদের বারান্দাটা
   মুখগুলো স্পষ্ট দেখতে পেলাম না

সরি, ভুলে গিয়েছিলাম

ছাদের ধারে কার্নিশ ঘেঁষে দাঁড়িয়েছিলাম
    একাই ছিলাম। রাত কটা হবে তখন?
        সাড়ে বারোটার কাছাকাছি
    দূরে কিছু কুকুর জটলা করে ডাকছে
           কয়েকটা বাড়িতে আলো জ্বলছে

সত্য পরিচয়


===
জানলা দরজা বানাতে গেলে
  আগে দেওয়াল বানাতে হয়

বোকার হদ্দ তুমি!

জানলাকে বলো - আকাশ
দরজাকে বলো - মুক্তি


===
চিড় ধরা দেওয়াল থেকে বাঁচায়
    আকাশ, খোলা মাঠ, নদীর জল

দৃষ্টি

সন্ন্যাসী সব ত্যাগ করল
শুধু ত্যাগ করল না তার ত্যাগের স্মৃতি

ভোর থেকে সন্ধ্যে সে তার ত্যাগের সমতুল বস্তু খুঁজে বেড়ায়। পায় না।

ঈশ্বরকেও তুচ্ছ মনে হয়। সে তো জগৎভোগী!

সন্ন্যাসী তাকালে ভস্ম হয়
  জীবজন্তু গাছপালা, এমনকি মানুষও

আত্মহনন আর না

(বড্ড বেশি বাড়ছে আত্মহত্যা। সব আত্মহত্যা ঠেকানো সম্ভব কি না জানি না। তবু বহুলাংশে সম্ভব হয়ত। একটু শুনতে চাওয়া। নিজের সাধ্যমত।)


সমাজ মানে তো সহস্রহাত
  হাত বাড়ালে একটা না একটা হাতে ঠেকবেই

শরৎ অভিসার

কাশ বর্ষাকে দেখে ইতস্তত করল খানিক
বর্ষা বলল, আমার হল যাওয়ার দেরি, তুমি এসো

কাশ দ্বিধা ভরে আকাশের দিকে চাইল
সেখানে কালো মেঘের ঘনঘটা
দীঘির জলের দিকে চাইল
সেখানেও কালো মেঘের ছায়া

কাশের মুখ হল ম্লান।
তবে কি শরতের সাথে হবে না মিলন?
  ব্যর্থ হবে এবারের আসা?

মন একটা

মন একটা
তার হাজার টুকরো
প্রতিটা টুকরো স্বেচ্ছাচারী, স্বাধীন, একগুঁয়ে

পা কাটছে,
রক্তে থাকছে কোনো টুকরোর আত্মজীবনী

মন একটা
তার হাজার টুকরো
একান্নবর্তী পরিবারের একচিলতে ছাদ
       একটা বেখাপ্পা হৃদয়

তোমারই আছি

তুমি যেন অলৌকিক

হাত ছুঁইনি তোমার
পাশে বসিনি
কয়েক পা হেঁটেছিই শুধু
   তাও বাজারের মাঝখানে

বাজার মিলিয়ে গেল
    তোমায় রেখে

তোমার চোখের সাথে
চোখ মিলিয়ে
ঘুরে এসেছি কতবার

বারণ করোনি,
চোখের ভাষা দুর্বোধ্য করে
    ভ্রান্তও করোনি

সেদিনের একটুকরো ছেঁড়া গপ্পো

স্যুটকেশ গোছানো বাকি
সব কিছু খাটের উপর বার করে রাখা
     তবু গোছানো হয়নি।

স্নান করতে ঢুকল। জলটা তেমন ঠাণ্ডা নয় যেন আজ।
চশমা চোখে নেই, তবু বুঝতে পারছে বাথরুমের ছাদের দেওয়ালের কোনে একটা বড় মাকড়সা।
   ঝড় হয়েছে কাল সন্ধ্যেতে, ঢুকে পড়েছে।

সেরকম ভয় করল না। একবার ভাবল ডাকে, তারপর ভাবল, থাক ঘুমাক। ট্রেনে তো ঘুম হয় না।

Subscribe to কবিতা