কাকচক্ষু
সেদিন আমায় কে একজন জিজ্ঞাসা করল,
"আচ্ছা, এতদিনের সম্পর্কে আপনারা কি পেলেন?"
ভাবলাম কথাটা।
তাই তো, কি পেলাম?
না তো তোমায় নিয়ে বিদেশ গেছি
না তো একখানা কবিতার বইও তোমার নামে উৎসর্গ করেছি
না প্রাসাদ গড়েছি
না তো আমরা হীরে জহরতে ঢেকে গেছি
মর্দানা
তোমায় ভালোবাসব বলে
তোমায় ভালোবাসতে হবে বলে
টাইমটেবিল দেখে রুদ্ধশ্বাসে সাইকেল চালিয়ে
ঘেমেনেয়ে স্টেশানে গেলাম
তোমায় ভালোবাসতে হবে বলে
একটা হাতলে জীবন বাজি রেখে
একটা পা ট্রেনের ভিতর
বাকি শরীরটা পোস্ট বাঁচিয়ে ঝুলে এলাম
এর বেশি চাই কি?
সময় তো ফ্রেম নয়
তুমিও ফটোগ্রাফ নও
আমিও দেওয়াল নই
বরং একসাথেই গড়াই
গড়াতে গড়াতে বদলাই
বদলাতে বদলাতে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলি
ছোঁয়াছুঁয়ি খেলতে খেলতে লুকোচুরি
কবিতা
কবিতা আমায় বলেছে
বারবার বলেছে
আমার আগে যারা আগুনে পুড়েছে,
যারা মাটির নীচে শুয়ে আছে,
(কিম্বা যারা কোনোটাই পায়নি)
হৃদয় তাদেরকেও শান্তি দেয়নি
হৃদয় শান্তি দেয় না
বেঞ্চ
কলেজের শেষ দুটো ক্লাস করেনি ওরা
পার্কে এসে নির্দিষ্ট বেঞ্চটায় বসল
অভিমান। চুমুগুলো যেন বিফলে গেল।
সব ক'টা বিকেল, সন্ধ্যে যেন ব্যর্থ গেল।
লেকের জলে যে ছায়াদুটো পড়ত
তারা জলের গভীরে মিলিয়ে গেল
ডাক
এই তো সকাল হল
কিছু পাখির ডাক কানে আসছে
অপ্রয়োজনের ডাক
গভীর আনন্দ জাগিয়ে আলস্য কাটালো
সম্পর্ক
সম্পর্ক অবিনশ্বর
মোড় ফিরিয়ে রূপ বদল
এখন তখন
তবু শূন্য হয়ে যেতে দেখিনি
হয়ও না
শুভ দীপাবলি
সাজানো কথা আর মিথ্যা কথা এক না। প্রথমটায় খানিক শিল্পীসত্তার দরকার হয়, দ্বিতীয়টায় সে দরকার নেই।
যেমন সত্যভাষণে আর কটুভাষণে। প্রথমটায় বিবেচনাবোধ জরুরী। দ্বিতীয়টায় নয়।
ভেস্টিবিউল
করোমণ্ডল এক্সপ্রেস
ট্রেনটা প্রচণ্ড বেগে ভারতের দক্ষিণাভিমুখে ছুটছে।
সত্তর পেরোনো মানুষটা
হাতে একটা ফ্লাক্স নিয়ে প্যান্ট্রিকারের দিকে এগোচ্ছেন
S6 থেকে ছ'টা বগি পেরোলে প্যান্ট্রিকার,
মানুষটা অশক্ত শরীরে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে