সেই বিকালটা
প্রার্থনা
কল্পনাগুলো শুদ্ধ হোক
যেন সে সাদা ডানায় নীলাকাশে ওড়ে
ইচ্ছাগুলো নির্মল হোক
যেন স্বচ্ছ ধারায় ঝরণার মত ঝরে
চিন্তাগুলো মার্জিত হোক
যেন সে হৃদয়গুহায় প্রদীপ জ্বেলে রাখে
ভালাবাসাগুলো এক হোক
যেন সে না বেঁধে ভালবাসতে শেখে
ভিতরে এসেছি
বেঁধে রাখব তো বলিনি
বাঁধা পড়েছি
তোমায় চাইতে এসেছিলাম
নিজেকে নৈবেদ্য করে বেঁচেছি
তুমি পাশের পাড়ায় থাকো
নাকি সুদূর হিমালয়ে
একে তাকে প্রশ্ন করেছি
আমার দরজার কাছে
তোমার চরণচিহ্ন দেখে
এক দৌড়ে ভিতরে এসেছি
সরে বাঁচা
একটু সরে সরে বাঁচার অভ্যাস এখন
বেশি গায়ে গায়ে থাকলে উত্তাপ বাড়ে
বাঁকা চোরা গলিতেই পেয়েছি সোজা পথ
তর্ক যুক্তির বেড়াজাল টপকে মাঠে এখন।
কানে আঙুল দিয়ে ফাঁকা পেট বাচ্চাটার কান্না ভুলি না,
ফাঁকা পেটে আমারও বমি পায়।
দুটো হাত প্যান্টের পকেটে ভরে
নিজের কথা ভাবতে ভাবতে যারা অন্যের কথা শোনে
ওদের দুয়ো দিয়ে, ওদের পিছনের রাস্তায় নেমে গেছি,
তাই হোক
আমি না ভালবাসলে যদি ভাল থাকো
তো থাকো
তবে এমন না হয় দেখো
নিজেকে ভালোবাসার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেছ
আমি না চাইলে, যদি সুখে থাকো
তো থাকো
তবে এমন না হয় দেখো
নিজেকেই আর চাইতে ইচ্ছে করছে না
আমি না হয় দূরেই থাকলাম
তবে নিজের থেকে দূরত্ব না হয় দেখো
মরণ সাক্ষী
আমি তোমায় অনন্তকাল চাই
বুকের মধ্যে এক সমুদ্র কান্না
দু'হাত দিয়ে তোমায় বুকে চেপে
হারাবার ভয় তবু নিঃশেষ হয় না
দু'চোখ তোমার মুখের দিকে চেয়ে
সূর্য্য চন্দ্র বালি ঘড়িতে আটকে
কথাগুলো বোবা ব্যাকুল চাওয়ায়
ঠোঁটের কোণে থরথরিয়ে কাঁপছে
অনর্থক
বিশ্বাস না হয়
কানে আঙুল দাও
দুচোখ ঢাকো হাতে
পায়ে শিকল লাগাও
দেখো, তবু তোমার হৃদয় চলছে
তুমি বেঁচে আছো আজও, এখনও
বিশ্বাস করো!
ভুলিও না
পথ বদলাতে পারো
গতি বদলাতে পারো
দিশা বদলিও না
রামের শ্যামের যুক্তি দিয়ে
নিজেকে ভুলিও না
সামনে যেতে পারো
পিছনে সরতে পারো
চলা থামিও না
ছন্দ ভেঙে নতুন ছন্দ খুঁজো
গান হারিয়ে না
তমোনাশ
শিষ্য দাঁড়ালেন গুরুর সামনে
অহংকারে পূর্ণ হৃদয় তার
গুরু নামালেন চোখ
শিষ্য হলেন গর্বিত
স্বয়ং গুরু ফেরান নিজ দৃষ্টিপাত!
একটা ঘটনা ও দুটো প্রশ্ন
১
---
মা হাসপাতালের বেডে শুয়ে, অর্ধ-চৈতন্য,
মহাপ্রস্থানের পথে, চিকিৎসা শাস্ত্রের বাইরে।
আমি বেডের ধারে গার্ড দেওয়া রেলিং-এ
কনুই রেখে, গালে হাত দিয়ে মায়ের দিকে
স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে,
আগুন নেওয়ার আগে, দু'চোখ ভরে শুষে নিচ্ছি
মায়ের মুখ, হাত, পা।
হঠাৎ স্লিপ করে গেল কনুই,
মা অর্ধ-চেতনায় চমকে উঠলেন,
আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,