Skip to main content

জেগে আছো?

আমি জেগে আছি
তুমি জেগে?
যদি জেগে থাকো তবে
কিছুটা অন্ধকার ঠেলে সরিয়ে
                     পাশে এসো।
অনেক যুগ ধরে কিছু কথা বলা হয় নি।
বাকলের মত মনের গায়ে লেগে আছে
কিছু কথার আবরণ।
ওগুলো মিথ্যা কথা।
তুমি সত্যি কথাটা খুঁজে বার করো

আশা

ভীষণ ধূলো ঝড় উঠেছে
কানে নাকে চোখে মুখে ঢুকছে ধূলো
দেখতে দেখতে দুটো হাতের মুঠো 
                     ভরে উঠলো ধূলোয়
বারে বারে ফেললেও
আবার ধূলো উঠছে মুঠো ভরে
তবু হাত পাতছি অভ্যাসের বশে।
আমি ধূলো চাই না
কিছু পেতে চাই

তুমি

আমি বুঝি।
তবু ভুলি।

আমার বোঝা আর ভোলার মাঝে
তুমি নীরব,
জানা-অজানার পারে
তোমার স্থির দৃষ্টিপাত।

এ আমার একান্ত বিশ্বাস
আমার অন্তিম সম্বল।

তুমি
আমার উৎস
আমার অববাহিকা
আমার মোহনা।

কথা-কলি

নুনের কৌটোয় জল
চিনির কৌটোয় পিঁপড়ে
চালের কৌটোয় পোকা

পাশাপাশি বসে গল্পাচ্ছে।

নুন বলল, কি জল!
চিনি বলল, কি পিঁপড়ে!
চাল বলল, কি পোকা!

নুন চিনিকে বলল, চালের পোকায় কি গন্ধ!
চাল নুনকে বলল, চিনির পিঁপড়েরা কি চেঁচায়!
চিনি চালকে বলল, নুনের জল কি নোনতা!

নুন বলল, তোর পোকা!
চিনি বলল, তোর জল!
চাল বলল, তোর পিঁপড়ে!

দমকা বাতাস

দমকা বাতাসে প্রদীপটা নিভল
আলোর বাধা সরিয়ে, সামনে কে?
তুমি?


আলো জ্বালব না আর
এসো অন্ধকারে, সবার আড়ালে।
ভেবেছিলাম, সব ফুরিয়েছে বুঝি
গোপন পথে আসো যদি চিনব কি করে?
জানতাম না-
আমার কান্নাগুলো এখনো আছে
              তোমার গন্ধে মিশে।

যার জন্য

সারা বিশ্বে একজনই আছে
যার বুকে মাথা রাখলে ঘুম আসে
                  সে তুমি
সারাদিন ঘুরে ঘুরে, ক্লান্ত হয়ে
যার জন্য ফিরে কলিং বেলের সুইচে হাত রাখি
                   সে তুমি

হাত

পথ হারালাম।
ভাবলাম, চলতে হবে বাকিটা পথ একা।

হারানো পথ
কাঁধে রাখল হাত
বলল-
আমি চলব পাশে পাশে
হবে কি আর একা?

দুই-ই

কারোর না আসার অজুহাত
কারোর যে কোনো ভাবে আসার ছুতো
দুইই দেখেছি

কারোর চোখে পাশে বসেও অস্থিরতা গোপনের চেষ্টা
কারোর গলায় দূরে থেকে কাছে না থাকার যন্ত্রণা লুকাবার অভিনয়
দুইই জেনেছি

কারোর মনে পড়েও ভুলে থাকার চেষ্টা
কারোর ভুলে গিয়েও মনে পড়ানোর অভ্যাস
দুইই বুঝেছি

ছোঁয়াছুঁয়ি

অনেকক্ষণ ছোঁয়াছুঁয়ি খেলার পর বুঝলাম
ও আমায় ধরতে চাইছিল না,
আমায় দৌড় করাতে চাইছিল।
না হলে খেলাটা থেমে যেত বহুক্ষণ আগেই।
ও, না ধরা দিল
না ধরে রাখল

এতগুলো বছর শুধু খেলার ঘুঁটি হয়ে কাটলো 

Subscribe to কবিতা