তুমি একটু বোসো
তোমার কি এই বসন্তেই আসার কথা ছিল?
আমার অপেক্ষার পালা এত তাড়াতাড়ি কি করে ফুরালো!
বসার ঘরে কিছু অতিথি আমার এখন
তুমি শোয়ার ঘরে একটু বসবে?
কিছু কাজও আছে আধখানা বাকি
তুমি বসবে ছাদে? ছাদের পাশের পলাশ গাছটায় এসেছে কুঁড়ি।
আমার কিছু লোককে কথা দেওয়া আছে,
তাদের বাড়ি যেতেই হবে, হ্যাঁ গো যেতেই হবে
ওরা
জাগা স্বপ্ন
হয় তো ভুল জানতাম
মোড়ের বাঁকে কোনো শিউলি গাছ ছিল না
হয় তো কোনোদিনই ছিল না
তবু আমার জানলা দিয়ে যে গন্ধটা আসত
আমার বিছানা বালিশে ঘুমের সাথে মিশত –
আমার কেন জানি মনে হত
সে গাছটা ওই মোড়ের বাঁকেই আছে
বোঝো
কেউ কথা বলছে?
অনুভব করো কণ্ঠস্বর
কারণ কথার মানে শব্দগুলোয় না,
কণ্ঠস্বরে থাকে
কণ্ঠস্বর নেই?
খোলা চোখের উষ্ণতায় রাখো হাত
বুঝবে কখনো পুড়ছে, কখনো ভিজছে
হয় তো বা কখনো হিম শীতল
বন্ধ চোখ?
মুখের চামড়ার ভাঁজে রাখো চোখ
দেখো গ্রন্থাগারের সামনে দাঁড়িয়ে তুমি
এভাবেই বোঝো
কি বুঝবে?
বলা যায় না
ইঙ্গিত করা যায় হয় তো
বলে যাও
পল্টুনামা
বাঁ দিকে, রাস্তা পেরিয়ে যার চায়ের দোকান
ওর নাম পাঁচু
বয়েস কত? বাহাত্তুরে ধরব ধরব করছে
ওর যে নাতি, বয়েস কত?
তা এই আশ্বিনে তেরোর কোল তো ছুঁচ্ছে
চায়ের দোকান, সেই তো চালায়
বুড়ো তো কেবল তামাকই খায়
হাই তোলে আর হরি হরি বলে
নাতি পল্টু কেটলি চাপায়,
তারই ফাঁকে বইটা খোলে
বসন্তের রঙ
বাইরে এসো
কি কথা বলি?
দরজার ধারে আছি সকাল থেকে দাঁড়িয়ে
সবার আসা যাওয়া বসা ওঠা
দেখছি দু'চোখ ভরে
আরতির ঘণ্টা, দীপের আলো, ধূপের ধোঁয়ায়
সবের আবরণে তোমায় দেখছি
তুমি দেখেছ আমায়?
তবু
শিখা
নদীটা যতটা সম্ভব বুকটা চওড়া করে জেগে
সারাটা বুক দিয়ে জ্যোৎস্নায় ভিজবে বলে
চাঁদের সাথে একা
তার বুকে জল থাকুক
না থাকুক
সে পরোয়া করে না
পরোয়া করে না চাঁদও