Skip to main content

 

ট্রেনে করে শিয়ালদা থেকে ফিরছি। এরকম ভীষণ বৃষ্টি। তেমনই ভিড় ট্রেনে। বেলঘরিয়া থেকে একজন মহিলা উঠলেন, বয়স্ক, ধীরে ধীরে ধাক্কা খেতে খেতে একটা লাইনে কোনোভাবে দাঁড়ালেন। একজন সিট থেকে উঠে গেল, উনি বসতে যাবেন, হঠাৎ করে পাশের লোকটা সরে গিয়ে ওই জায়গাটা দখল করে সামনে দাঁড়ানো নিজের আত্মীয়কে বললেন, বসো।

ভদ্রমহিলা বললেন, দাদা এটা হয় না, আপনি এইভাবে সরে এসে বসলেন, আমার হাঁটুতে ভীষণ ব্যথা, দেখছেন তো এতক্ষণ ধরে কী কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছি। প্লীজ উঠুন, নয় সরে গিয়ে আমাকে বসতে দিন।

মোটাসোটা চেহারার, মোটা গোঁফ, চোখে চশমা, এই সাতান্ন আটান্ন বয়স হবে, তাকিয়েও দেখলেন না ভদ্রমহিলার দিকে। উনি আরও কয়েকবার অনুরোধ করলেন, তাও শুনলেন না। মোবাইলে গান চালিয়ে কানে হেডফোন গুঁজে দিলেন। স্ক্রিনে গানের লাইন নেচে নেচে ঘুরতে লাগল, উনি চোখ বুঝে।

এরপর ধীরে ধীরে আশেপাশের মানুষজন বলতে শুরু করল, দাদা উঠুন, সিটটা ছাড়ুন। উনি তাও নির্বিকার। তখন আরেকজন দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা বলে উঠলেন, "আচ্ছা অশিক্ষিত মানুষ তো আপনি, যতই আপনার সিটে বসার অধিকার থাকুক, কিন্তু এতগুলো মানুষ যখন এতক্ষণ ধরে বলছে তখন চক্ষুলজ্জার খাতিরে, নিজের মানসম্মানটুকু বাঁচাতে তো উঠে পড়ুন। সিট তো বাড়ি নিয়ে যাবেন না, না তো সঙ্গে উপরে নিয়ে যাবেন। মানুষ শেষে তো আত্মসম্মানটুকুই নিয়ে যায়। সেটাও নেই আপনার? কী অশিক্ষিত লোক আপনি?" উনি ওঠেননি। পাশের একটা ছেলে উঠে গিয়ে জায়গা দিল। বলল, এদের সঙ্গে পারবেন না কাকিমা, এর নির্লজ্জ। সত্যিই ট্রেনে উঠলে কত কী যে দেখা যায়। কতরকম মানুষ!

আজ খালি খালি এই কথাটা মনে পড়ছে, কী অশিক্ষিত মানুষ আপনি!