Skip to main content

 

009.jpg

শিষ্য প্রশ্ন করল, গুরুদেব এ জগৎ কে রচনা করেছেন?

গুরু বললেন, জানি না বাবা।

শিষ্য বলল, ঈশ্বর। শাস্ত্রে আছে।

গুরু বললেন, জানি না বাবা। হতে পারে।

শিষ্য বলল, গুরুদেব মানুষের ভবিতব্য কে নির্ধারণ করেন?

গুরু বললেন, জানি না বাবা।

শিষ্য বললেন, বিধাতা। শাস্ত্রে আছে।

গুরু বললেন, হবেও বা। জানি না বাবা।

শিষ্য আরও গূঢ় থেকে গূঢ়তর প্রশ্ন করে যায়। অসীম, অনন্ত, সাকার নিরাকার, সাংখ্য, বেদান্ত, বৌদ্ধ, পাশ্চাত্য দর্শন ইত্যাদি নিয়ে গভীর আলোচনা করতে চায়। কিন্তু গুরু শুধু বলেন, জানি না বাবা....জানি না বাবা..... জানি না বাবা....।

শিষ্য বাড়ি ফিরে এলো। মন ভীষণ ক্ষুব্ধ। গুরু কেন এড়িয়ে যান? গুরু কি তাকে যোগ্য মনে করেন না? নাকি ওনার বুদ্ধির বিভ্রম ঘটছে?

শিষ্য অভিমান করল। আশ্রমে যাওয়া প্রায় ছেড়েই দিল। এইভাবে বছর ঘুরে গেল। একদিন খবর পেল গুরুদেব শরীর ছেড়েছেন। শিষ্য কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ালো আশ্রমের দিকে। গুরুদেবের অন্তিম যাত্রার প্রস্তুতি চলছে। শিষ্য এসে পায়ে মাথা ঠেকিয়ে বলল, আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে গেলে তুমি? এ কি ঠিক হল বলো?

শিষ্য বাড়ি ফিরে এলো। উদাস। কিছুতেই মন বসে না। এত এত বই সব বন্ধ। ধুলো জমছে। কিছুতেই রুচি নেই যেন। খালি খালি মনে হয় সব শূন্য।

একদিন শিষ্য বসে আছে বারান্দায়। একটা পাখির বাচ্চা টুপ করে মাটিতে পড়ল গাছ থেকে। ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে এসে শিষ্যের পাশে বসল। শিষ্য দুই হাতে পাখিটাকে তুলে বলল, কী রে, এইবার কী করবি? পাখি উত্তর দিল না। শিষ্য তাকে বাড়িতে নিয়ে রাখতে গেল। কিন্তু সে খালি ওড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। শিষ্য বলল দাঁড়া, আগে তোর পালক হোক, দেহ মজবুত হোক। তবে না তুই আকাশে উড়ে যাবি? পাখি অবাধ্য অবোধ ডানার দাবিতে শিষ্যের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

একদিন ভোরে উঠে শিষ্য দেখে তার পড়ার ঘরে ঢুকে পাখিটা সব বই ছিঁড়ে কুটিপাটি করেছে। শিষ্যের রাগ হল। পরক্ষণেই ছেঁড়া পাতার চেরা অক্ষরগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হল, তার বুদ্ধি এই শব্দগুলো সাজিয়ে কেবল নিজের সীমাবদ্ধতাকে ঢাকতে চেয়েছে এতদিন। বুদ্ধি যখন নিজের সীমাবদ্ধতাকে এড়িয়ে যেতে চায় তখন সে চালাকি হয়ে যায়। সে চালাকি করেছে নিজের সঙ্গে, গুরুদেবের সঙ্গে। কী জানে সে? কিছুই না।

পাখিটা উড়ে গেল জানলা দিয়ে। শিষ্য জল ভরে আসা দুই চোখে হাত জোড় করে সেই নীলাকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, আবার এসো এ অবোধের জন্য ফিরে।

↑