Skip to main content

তারপর

        যতটা আকুতি, আর যতটা সংযম নিয়ে ডাকত, "কেউ আছেন নাকি... ভিক্ষা পাই গো"... ততটা ভিক্ষা কোনোদিন পেত না।

চিরদিন মাধব মন্দিরে মোর

        চৌকির উপর দুটো পাতলা কাঁথা দিয়ে বানানো বিছানায় শুয়ে শুয়েই সুবাস বুঝতে পারল বৃষ্টিটা ধরেনি। গতকালও সারাদিন হয়েছে। এখন আন্দাজ ভোর সাড়ে পাঁচটা হবে। সুবাস উঠে বসল। দুটো শীর্ণ হাত জড়ো করে সামনের দেওয়ালে টাঙানো রাধাকৃষ্ণের ছবিতে প্রণাম করল। ফর্সা হাতদুটোতে নীলচে শিরার রেখা। মন্দিরের পিছনেই নদী। চূর্ণী নদী। সুবাস স্নান সেরে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই ফুল তুলত

অ-সামাজিক


       (সেই সব তথাকথিত প্রান্তিক মানুষদের জন্য, যাদের কথা শুনলে মনে হয়েছে কত সমান্তরাল জগতের পাশাপাশি হেঁটে চলেছি)

তর্পণ

বাঁ হাতটা পড়ে গেছে, স্মৃতি বলতে অফিসের ঘরটা, শেষ সই করা পেপারের শেষ লাইন ক’টা। জানলার ধারে একটা আরাম কেদারায় বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ফুলের কুঁড়ি ধরা, পতঙ্গদের খেলা, রঙবেরঙের ফুলের সমাহার, ফুলের ঝরে পড়া, শুকনো পাতার স্তূপাকারে জমে থাকা, গেট দিয়ে নানা মানুষের যাতায়াত যারা সবাই অপরিচিত এখন, কুকুর বেড়াল পাখিদের মত সচল জীব - সব চোখের মণির উপর ধারাবাহিক অর্থহীন প্রতিবিম্ব এখন।
...

শঙ্কা

        রমজানের হাতে কড়া। তাও মাথায় বিলি কেটে দিলে ভালোই লাগে পরাশরবাবুর। রমজান বছর দশেক আগে পরাশরবাবুর বাগানের কাঁঠাল গাছে গলায় দড়ি দিয়েছিল। কেন দিয়েছিল কেউ জানে না। সে অকৃতদার ছিল। গরীব মানুষ, পরাশরবাবুদের বাড়িতেই ফাইফরমাশ খেটে দিন চলে যেত। তাকে অবশ্য হাসতে দেখেনি কেউ কোনোদিন। গায়ের রঙ তামাটে, রোগা-বেঁটেখাটো শরীর, তবে খাটতে পারত। পরাশরবাবুর স্ত্রী বেঁচে

সীতা

একজনের জীবনী লেখার জন্য সে মানুষটাকে যতটা কাছ থেকে দেখতে হয় ততটা কাছ থেকে দেখা আমার হয়ে ওঠেনি। এমনও নয় যে তিনি একজন সেলিব্রিটি যে গাঁয়েগঞ্জে সবাই তাকে চেনে। অথবা এত তথ্য চারদিকে ভেসে বেড়াচ্ছে যে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাবে। তবু সে জীবনের নিজস্ব একটা আলো ছিল। ধার করা আলো নয়, তবে তো আর লেখার তাগিদই সহ্য করতে হত না। বরং যেটুকু জানি সেটুকু বলার চেষ্টা করি।
...

রিলে রেস

পর্দাটা টানা। বাইরের আলো পর্দার ফাঁক দিয়ে অবাধ্যের মত আসছে। আজ কি বার? মঙ্গলবার। আরো চারটে দিন। ক্যালেণ্ডারটা দুলছে। পাখার আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছে কারেন্ট নেই। ইনভার্টারে চলছে। জল কবে দেওয়া হয়েছে লাস্ট? চশমাটা টেবিলে। নইলে মোবাইলেই লিখে রাখা আছে - চশমা ছাড়া পড়া যাবে না। কত তারিখ? চব্বিশ। ব্যাঙ্কে টাকা ঢুকতে আরো সাত আটদিন বাকি।
...

মেজো ছেলে

        পনেরো হাজারের মধ্যে স্মার্টফোনের সেটটা ভালোই লাগল। বললাম এটাই দিন। 
        প্রচণ্ড গরম। দরদর করে ঘাম হচ্ছে। দোকান ভিড়ে ঠাসা। রবিবারের ভিড়। সকাল সাড়ে বারোটা হবে। দোকানে পাঁচজন হিমসিম খাচ্ছে খদ্দের সামলাতে।

চপ

        বললে তো হবে না, অনেকেই বারণ করেছিল বিশুদাকে বাড়িটা কিনবেন না, কিনবেন না। ভালো না বাড়িটা। এখন পস্তাচ্ছেন। 

Subscribe to অনুগল্প