তুমি কি চেয়েছিলে?
ওরা বলল, আজ থেকে তুমি সন্ত।
এ দূরের কথা না কাছের?
ভয় করছে আমার
মা ডাকের চেয়ে আপন ডাক কি সন্ত?
তাও কি কখনো হয় রে মা?!
আসিস না
বরং এ বছর পূজোগুলো বন্ধ থাক
মাটিগুলো মাটি হয়েই থাক
এক নারীমূর্তি বানিয়ে কি লাভ?
আরো যা যা লাগে, খড়, কাঠ, বিচুলি
সে সবও না হয় যে যার জায়গায় থাক
বাঁশগুলো তুলে ফেলেছিলে?
প্যান্ডেল হবে না এবার,
নামিয়ে ফেলো,
তিরপলগুলোও গুদামঘরেই থাক
উনি
১
----
পাশের বাড়ীর মেয়েটা গলায় দড়ি দিল
উনি সেদিন থেকে বাড়িতে দড়ি রাখেন না।
তার পাশের বাড়ির মেয়েটা গায়ে আগুন দিল।
সেদিন থেকে উনি বাড়িতে দেশলাই রাখেন না।
এইভাবে উনি বাড়িতে-
ব্লেড, ফিনাইল, এসিড, পাখা, ইঁদুর মারার বিষ - কিছু রাখেন না।
শুধু
গাছ, শুধু শিকড়ের ভরসায় আকাশের দিকে তাকায়
তুমি শুধু এটুকু বুঝলেই হবে
গাছ, শুধু শিকড়ের জোরেই ঝড়কে সামলায়
তুমি শুধু এটুকু জানলেই হবে
গাছ, শুধু শিকড়ের রসেই সিঞ্চিত তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে
ছেড়ে যেও না।
শুধু এটুকু করলেই হবে।
বুদবুদ
পরিচয়
কিছু পরিচিত মানুষ ছিল
নাগালের বাইরে তারা আজ
নাগালের মধ্যে যারা
রক্তের পরিচয়ে অপরিচিত
তবু কোথায় যেন চির-পরিচিতের সাজ
বন্ধুতা
আমার সাথে ভাব করবি মেঘ?
আমি যুগযুগান্ত এখানেই ঠাঁয় দাঁড়িয়ে
সময়ের দাঁড়ি।
তোমায় দেখি খোলা আকাশটার বুকে কেমন রঙ পাল্টিয়ে পাল্টিয়ে খেলো
জানো কতবার ভিজে গেছি তোমার ঢালা জলে
গর্বে বুক ফুলেছে। সবাইকে ডেকে বলেছি দেখ, ওই আকাশের জল আমারও সারা গায়ে!
পরেরদিনই সব জল শুষে নিয়েছে ওই আকাশের সূর্য, আমার যেন অধিকার নেই আকাশের জলে ভিজে থাকার!
মিথ্যার মত সত্যি কথা
ছেলেটা একলা হাঁটল অনেক দূর
মেঘের সাথে দেখা হল। সে বলল, যাবি?
ছেলেটা বলল, চল
মেঘের সাথে এক যুগান্ত হেঁটে এল
নদী বলল, যাবি?
ছেলেটা বলল, যাব
নদীর সাথে এক সমুদ্র বেড়িয়ে এল
এভাবে সে এক জঙ্গল হাঁটল গাছের সাথে
এক তেপান্তর হাঁটল দিগন্তের সাথে
এক স্বর্গ হাঁটল দেবতার সাথে
এক নরক হাঁটল অসুরের সাথে
মমি
হাত বাড়ালে
স্পর্শ দিও
শর্ত দিও না
অনেক হাত
শর্ত নিয়ে
থমকে আছে
মমির মত