সাজঘর
মাথার ভিতর ড্রেসিংরুম
সাজঘর
যারা সেজেগুজে বেরোয়
তারা রাতের অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে বাড়ি ফেরে
অনেক রাত অবধি রঙ তুলে
পাশের মানুষ খোঁজে হাতড়িয়ে
একাকার
মাঝে মাঝে গন্তব্য আসার আগেই নেমে পড়ি,
মাঝপথে।
তারপর হাঁটতে হাঁটতে ভাবি, গন্তব্য কে ঠিক করেছিল?
আমি না ভবিতব্য?
জেদ চেপে যায়। দুজনের কথাই মানব না।
তাকিয়ে থাকতে থাকতে
কয়েক লক্ষ চোখ মেলে তাকিয়েছিলাম
গুরুগাঁও
আসলে তো বর্বরতা কোনোদিন যায় না। যাবেও না।
কবি তাও কোনো এক কাল্পনিক রক্ষাকর্তাকে পেয়েছিলেন ধৃতরাষ্ট্রের সভায়
আজ জন্মালে সে কল্পনাও হত কল্পনাতীত
ডুবলেই হল
আমার বাগানে যে জবা, টগর, নয়নতারা ফোটে
তারা নতুন কোনো ফুল নয়
নতুন করে ফুটেছে মাত্র
তাই বলতে চাইছিলাম,
নতুন কিছু অনুভব করিনি
নতুন করে অনুভব করছি শুধু
যতদিন শিরদাঁড়ায় আছে জোর
পরিপাটি করে সাজানো ঠাণ্ডা ঘর
রঙীন আলোর মোহময়ী আচ্ছন্নতা
হাসিমুখে পাশ্চাত্য ভাষায় শৌখিন ভদ্রতামাখা
চেয়ারে টেবিলে পরিষ্কার থালা বাসনে কাঁটাচামচ
ইংরাজী ভাষায় কোনো পুরুষ কণ্ঠের গান বাজছে
মুক্তি
পাখিটা উড়ে গেল
ডাল থেকে বৃন্তচ্যুত হয়ে পাতা ঝরে পড়ল মাটিতে।
পাখি লজ্জিত হল। ফিরে এসে মাটিতে বসল, পাতার পাশে। সাশ্রুলোচনে বলল, একি করলাম আমি, তোমার জীবনমূল দিলাম ছিন্ন করে!
বেঁচে যেত লোকটা
যখন তখন সাইরেন বাজতে পারে
আচম্বিতে হতে পারে বোমারু বিমানের হামলা
সাবধানে হাঁটো।
যে কোনো মুহূর্তে ছদ্মবেশে ঢুকে যেতে পারে শত্রুপক্ষের চর ভালোবাসার মানুষ সেজে
বুঝে ভালোবাসো।
বন্দনা
লতানো গাছটা সারা গা রোদে মাখামাখি হয়ে দাঁড়িয়ে
ভোরের হাওয়ার মৃদু আন্দোলন ওর ক্ষীণ শরীরে
যে আমগাছটার গোড়ায় ওর বাস
সে আমগাছের প্রতিটা পাতার উপর লেগে আছে ভোরের রোদ
শুচি
অনবরত হাওয়ায় দুলতে দুলতে ফুলটা অবশেষে মাটিটা ছুঁয়েই ফেলল। তখন শেষ রাত্তির। শুকতারার গুনগুন শোনা যাচ্ছে কান পাতলেই।
লাল পাপড়িতে কাদা লেগে শূন্যে উঠে গেল - হুস!!!