Skip to main content

দেবজ্যোতিকে

বয়সে অনুজ ।
হলে কি হবে ?
মাথার মধ্যে লাইব্রেরী ।
নানান কাব্য এখানে ওখানে ,
মনের মধ্যে ছড়াছড়ি ।
কিছু কাব্য অনুবাদ কর ,
বললাম খুব আশায় ভাই ;
দেশ বিদেশের নানান লেখা ,
তোমার ভাষায় পড়তে চাই ।

 

ছায়াপথ

মনের দু'পাশে দুটো হাত দিয়ে আগলে রেখেছো কিছুতেই যেন হারিয়ে না যাও ভিড়ে

বেসামাল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলে হাত
কামড়ে ধরো মনের দুটো পা
     যাতে পালাতে না পারে
         ঝর্নার মত নদী না হয় ছিটকিয়ে

এখন রাত্রি অনেক গভীর
    সারা আকাশে রহস্যময় হাসি
অবশ শরীরে তবু আগলে আছো মন

মাদল

অসম্ভব যন্ত্রণা নিয়ে জন্মালো একটা তারা
    তার জন্মলগ্নেই যেন বিচ্ছেদযন্ত্রণার ব্যথা
সে মহাশূন্যে চোখ মেলে তাকালো
       বুকের থেকে ছিটকে পড়ল বিকিরণ
    খুঁজল তেষ্টা মেটানোর মত প্রেম
আলোতে অন্ধকারে
     রহস্যে সরলতায়

তখন দেরী নেই

 দরজার একটা পাল্লা ভীষণ ভারী ছিল
    হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে যখন পাল্লাটা খুলল
  তখন সূর্যোদয়ের আর বেশি দেরি নেই
পূবাকাশ আলতার মত লাল টকটকে
     যেন মা হেঁটে গিয়েছেন খানিক আগেই আলতা রাঙা পায়ে
পাখিগুলো নীড় থেকে রওনা দিয়েছে নীলাকাশে
        ওদের ডানায় ডানায় মনের আদর

সে

মানুষ নিশ্ছিদ্র একাকিত্বে, দুঃসহ যন্ত্রনায়, ঘুমহীন রাতে
    নিজের বুকের মধ্যে যাকে খোঁজে, যার সাড়া পায়

       তাকে সে বলে ঈশ্বর

সেই স্পর্শের, সেই দৃষ্টির ছায়া যখন সে বাইরে তাকিয়ে কোনো করুণ চোখে দেখে
       তাকে সে বলে বন্ধু

একটা সকাল তোমার জন্য হবে

একটা সকাল তোমার জন্য হবে
    শুধু তোমার জন্য

তাই যন্ত্রণাটাকে ভালো রেখো
    যন্ত্রণাই চিনতে পারে নতুনকে
           বরণ করে নতুনকে

তাই জেগে থেকো
  কারণ জেগে থাকা মনে
        যন্ত্রণাকে ভালো রাখা

মহাশ্বেতা

কিছু কথা বলেছিলেন
   যে কথাদের কেউ ঘাঁটায় না
কিছু মানুষদের কথা লিখেছিলেন
   যাদের অস্তিত্ব সভ্য সমাজে ব্রাত্য
সে মানুষদের কাছে গবেষকের মস্তিষ্ক পৌঁছেছে কখনো কখনো
    কখনো সরকারি বা বেসরকারি কৃপা
  একটা মরমী হৃদয় পৌঁছেছিল বহুদিন পর

ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ

 মন দাঁড়াল এসে অসীমের আঙিনায়
   জড়তার সব আবরণ হল ছিন্ন
 ক্ষুদ্রতার আবিলতা যত ধুয়ে গেল
      মহতের পুণ্য করুণা স্নানে
নিজেকে রিক্ত করে দাঁড়ালাম
 নিজেকে পূর্ণ করে নেওয়ার আস্পৃহায়
ওগো অসীম
     প্রকাশ করো নিজেকে আমার আত্মায়

আত্ম-কথন

প্রতিদিন ভোরের এই সমুজ্জ্বল অরুণোদয়
   প্রতিদিন উচ্ছল ঝরণায় আঁকা
                  এই মায়াময় রামধনু
প্রতি সন্ধ্যায় দূরের অসীম আকাশের বুকে
     আরক্ত হয়ে ওঠা তুষারাবৃত পর্বতশিখর
সূর্যালোকস্নাত ক্ষুদ্র মক্ষিকার আত্মমগ্ন গুঞ্জন

মেঘ নিরুদ্দেশ

মেঘ পাল্টানো মেঘের ছবি
    তোমার চোখেতে চোখ
দমকা হাওয়ায় খোলা চিঠি
    এবার বন্যা হলেও হোক

মেঘ ঢেকেছে তারার আলো
    আলোর স্পর্শে হাত
ফুলের গন্ধ তোমাতে মিশে
    শ্বাসেতে রাখল হাত

Subscribe to কবিতা