Skip to main content

ঝাঁটা

রোজ সকালে আধঘন্টা ধরে ঝুঁকে পুরো উঠোনটা ঝাঁট দিতে হয় রুকমির মাকে। আজ পঁচিশ বছর ধরে দিয়ে আসছে। তার আগে তার শাশুড়ি দিত - অশোকের মা। 
        রুকমির মায়ের অসহ্য লাগে। শরীরখারাপের সময়টা আর শীতের সময়টা। ভেবেছিলো অশোকের মা ঘাটে উঠলে এই ঝাঁটা দেওয়ার চলটা উঠিয়ে দেবে। মাসে একবার কি দুবার দেবে। শরীরখারাপের পর আর কম শীতের সময় বাদ দিয়ে।
...

সন্ন্যাসী

সন্ন্যাসী ঘাটে এসে দেখলো, ঘাটে একটাই নৌকো বাঁধা। কারা দুজন যেন মুখোমুখি বসে। কুয়াশায় অস্পষ্ট চারদিক। গভীর সংশয়ের মত শীত। সে নৌকার আরো কাছে এলো। নৌকায় ঈশ্বর আর এক যুবতী মুখোমুখি বসে।
...

রামধনু

ছেলেটা কাদা মেখে পাড়ে উঠল। হাতে কয়েকটা শালুক ফুল। বাজারে যাবে। পরনের গামছাটা খুলে পাড়েই নিংড়ে নিল। লোকজন কেউ নেই। তার লজ্জাও কম। বয়েস বারো। বাবার সাইকেল সরানোর দোকান। মা ঠিকে ঝি। সে এক ছেলে। 
...

রক্তবাহ


রাস্তাটা ক্রমশ ছোটো হতে শুরু করেছে। সামনের দিকে কিছুই দেখা যাচ্ছে না প্রায়। তবু হাতড়াতে হাতড়াতে মানুষটা এগোচ্ছে। আচমকাই রাস্তাটার মাঝখান থেকে দুটো টুকরো হয়ে গিয়ে লোকটা তলিয়ে গেল।

জুতো

কলিংবেল বাজল। রাত এগারোটা। ছেলেটা দরজা খুলে বাইরে কাউকে দেখতে পেলো না। এদিক ওদিক তাকিয়ে দরজাটা বন্ধ করতে গিয়ে খেয়াল করল, সামনের সিঁড়িতে দু'পাটি জুতো রাখা। ছেলেটা ভ্রু কুঁচকে কিছু মনে করার চেষ্টা করল। পারল না। দরজাটা বন্ধ করে টিভির সামনে এসে বসল। টিভিটা চলছিলই।

ওপার


মেয়েটা বলত, তাকে যে বিয়ে করবে সে কত টাকা যেন মাইনে না পেলে বিয়েই করবে না, বেশ বড় অঙ্কের টাকা থাকবে, চারচাকা থাকবে, বড় বাড়ি থাকবে ইত্যাদি। খবরের কাগজে, ম্যাগাজিনে ক্রিকেটার, অভিনেতাদের ছবি বেরোলে কেটে কেটে বইয়ের ফাঁকে রাখত। তারাই তার জন্য আদর্শ হবু বর।

দাহ


---

কুয়ো


বাসের পিছনের জানলার ধারের সিটটা রহিমের ভীষণ প্রিয়। জাগুলী থেকে শিলিগুড়ি তাকে আর না হোক মাসে চারবার যেতে হয়। বাসেই যায়। কদাচিৎ ট্রেনে। ট্র্যাভেলারের সাথে তার ভালোই দোস্তি। এই সিটটা ফোন করলেই ফাঁকা রেখে দেয় শিবু, মানে যাদের ট্র্যাভেলস আর কি।

রামভরণ


---
রামভরণ তার পাঁচ বছরের বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে ফুটপাথের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সামনে মথুরা বিল। চাঁদ উঠেছে বেশ কিছুক্ষণ হল। একটা বড় কাঁসার থালার মত চাঁদ জল থেকে কয়েক হাত উঁচুতেই। জল তো নয়, যেন গামলা গামলা দুধ ফেলা। রামভরণের বাড়ী বিহারের কোন এক অখ্যাত গ্রামে। রামভরণ বহু বছর হল বাড়ি যায় না। ভাইয়ে ভাইয়ে জমি নিয়ে অশান্তি তার আর ভাল লাগে না।

রাস মন্থন

রাত কত প্রহর? জানা নেই কারো। গোপীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে এখানে ওখানে বসে। বিমর্ষ। চিন্তিত। উদ্বিগ্ন। কৃষ্ণ কদমগাছের নীচে একাই বসেছিলেন। উঠে প্রধান গোপীর পাশে গিয়ে বসলেন।

Subscribe to অনুগল্প