বাঙালি "শেষ প্রশ্ন" লেখার সাহস হারিয়েছে, না পড়ার সাহস হারিয়েছে জানি না। কিন্তু বাঙালি হিসাবে, ভারতীয় হিসাবে কমলের সামনে দাঁড়ানোর অস্বস্তি যে বেড়েছে সে নিয়ে আমার মনে অন্তত আজকের বাতাবরণে কোনো সংশয় নেই।
বাঙালি তরুণ তরুণীদের একবার অনুরোধ করব, "শেষ প্রশ্ন"টা আরেকবার পড়ে দেখুন। উপন্যাস হিসাবে কেমন সে কথার জন্য নয়। কথাটা এই যে শরৎচন্দ্র মহাশয় সেদিন কমলের মুখ দিয়ে যে সব প্রশ্নের সামনে আমাদের দাঁড় করিয়েছিলেন, যে আঙ্গিকে আমাদের ভাবতে, বিচার করতে দেখিয়েছিলেন, তার কতটা আমাদের আজ টিকে আছে? আমাদের হৈচৈ করার ক্ষমতা অভ্যাস হয়ে তো বেড়েছে। যে কোনো জিনিসকে, বিষয়কে সেলিব্রেশনের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কৌশল হয় তো শিখেছি। কিন্তু শান্তভাবে কোনো বিষয়কে ক্রিটিকালি দেখার অভ্যাস?
"শেষ প্রশ্ন" এর পটভূমির সঙ্গে আরেকটা মিল আমরা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে পাব। কী সেটা? সদ্য পেরিয়ে আসা অতিমারীর মিল। উপন্যাসের সময়কাল স্প্যানিশ ফ্লুয়ের। বর্ণনা আছে লকডাউনের। কিন্তু এই শব্দটা নেই। সমাজের বিবর্ণ, স্থির ছবিটার কথা আছে।
আজ যখন দিন দিন প্রশ্ন করাই স্পর্ধার সমার্থক হিসাবে দেখা হচ্ছে, আজ যখন সামাজিক মাধ্যমের আলগরিদিম ঠিক করে দিচ্ছে আমার চিন্তার দিক তখন কমলকে আমাদের দরকার। ভীষণ দরকার।