রাস্তার উপর জল জমেছে। জানলার আলো সেই জলে পড়ে কাঁপছে। পর্দা লাগাব লাগাব করে লাগানো হচ্ছে না। সাড়ে আটটা বাজে। কাজ থেকে ফিরতে আরো এক ঘণ্টা ওর। টিভি রিচার্জ করানো হয়নি। বিকেল থেকে আলো নিভিয়ে শুয়েই ছিল পমি। এই খানিক আগেই উঠল। আয়নার সামনে দাঁড়ালো কিছুক্ষণ। শরীরটা দুমড়ে মুচড়ে ছিবড়ে বানিয়ে দিচ্ছে সময়। সময়ের কাছে যেন কত ঋণ।
বেল বাজল। দরজা খুলল নাইটিটা একটু ঠিক করে। অজান্তেই করে এটা। বৌদি দাঁড়িয়ে। পাশের বাড়ির। তার স্বামীও রাতে ফেরে। দুজনেরই বাচ্চা এই সময় পড়তে যায়। রাতে ফেরে। বৌদি বলল, তুমি বসো। চা আমি করি।
চা নিয়ে এলো বানিয়ে। বাইরে বৃষ্টি জমেছে। ধারাবাহিক শব্দ। একঘেঁয়ে। বৌদি চায়ে চুমুক দিচ্ছে। পমি চায়ের কাপের ধারে হাত বুলিয়ে যাচ্ছে। ঘড়িটা ঘুরে যাচ্ছে। একঘেয়ে।
বৌদি বলল, আ্যলবামগুলো বার করো না।
পমি অ্যালবাম বার করল। বিয়ের অ্যালবাম। বাচ্চার অ্যালবাম। বেড়াতে যাওয়ার অ্যালবাম। বেড়াতে যাওয়া মানে কী? দীঘা, পুরী আর দার্জিলিং।
বৌদি হাই তুলল। পমিরও হাই তোলা পেল। চেপে গেল। নাকের পাটা দুটো ফুলে নেমে গেল। বৌদি বলল, ঘুমিয়েছ দুপুরে? পমি বলল, হ্যাঁ গো।
বৌদি বলল, উঠি। পমি বলল, হ্যাঁ গো।
বৃষ্টি ধরেনি। রাস্তার ধারে জল বাড়ছে। আলো আরও তীব্র কাঁপছে। আয়নার সামনে দাঁড়ালো আবার। অনন্তকাল দাঁড়িয়েছে আছে যেন। যৌবন ফিরতি মাছওয়ালার হাঁড়ির আঁশটে জলের মত জমে আছে শরীরের এদিক ওদিক। এত অজানা ঋণ জীবনের কাছে। সময়ের কাছে। আর একটা অপরাধবোধ। জীবনকে ছিবড়ে করল সে নিজে? নাকি জীবন ছিবড়ে করল তাকে?
অ্যালবামগুলো খাটে খোলা। সব শালা বেইমান। জানলা খোলা। সব ছুঁড়ে ফেলবে বাইরে। সব নষ্ট করে দেবে নিজের হাতে।
অ্যালবামগুলো তুলল। আলমারিতে রাখল গুছিয়ে। ঘড়ির দিকে তাকালো।
Category
- Log in to post comments
- 2 views