বছরের আজকের এইদিনে একদল মানুষ প্রায় ১০০ বছর আগে (২০শে মার্চ, ১৯২৭) আম্বেদকরের নেতৃত্বে নিজের তেষ্টা মেটাবার অধিকারের জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন। কারণ পানীয় জলের মধ্যেও দলিত আর উচ্চ বর্ণের ভেদ ছিল। আম্বেদকরের লেখা "নো পিওন, নো ওয়াটার" পড়লে হতবুদ্ধি হতে হয়। আমাদের দর্শনে যতই বিশ্বের কণায় কণায় ব্রহ্মের অস্তিত্ব থাকুক, সমদর্শনের কথা থাকুক, মানুষ হিসাবে সবেতে সমান অধিকারের কথা কোনোদিন ছিল কি?
এই দিনটা মহাড় সত্যাগ্রহের দিন। নুন নিয়ে মহাত্মার সত্যাগ্রহের আগে ঘটেছিল এ সত্যাগ্রহ। এবং এ জলের সত্যাগ্রহের ব্যঞ্জনা নুনের সত্যাগ্রহের থেকে যেন আরো বেশি। সেদিন নুন সংক্রান্ত আইনের বিরুদ্ধে মহাত্মা যখন নেমেছিলেন রাজার বিরুদ্ধে, সে রাজা ছিলেন বিদেশী। রাজা গেলে নুনের উপর খবরদারিও যেত। কিন্তু আম্বেদকর যে অন্ধকারের বিরুদ্ধে নেমেছিলেন সে অন্ধকার ছিল এ দেশের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জাগা অদ্ভুত সংস্কার।
এই নিয়ে কোর্টে কেসও চলেছিল। বিধবাবিবাহর জন্য ছাড়পত্র, সতীদাহ রদ, মানুষের পানীয় জলের অধিকার ইত্যাদি কোনোটাই এ দেশের ধর্ম দেয়নি, দিয়েছে আইন। সে নিয়ে আদালত চত্বরে বাদবিতণ্ডা চলেছে। কী আশ্চর্য লাগে ভাবলে সেদিন এইসব অমানবিক বিষয়ের হয়ে ওকালতি করার যুক্তি-বুদ্ধিও মানুষের জুগিয়েছিল।
ভারতীয় সমাজে শুদ্ধির ব্যাখ্যা বড় গহীন। ছোঁয়াছুঁই, আমিষ নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আজও খবরের কাগজে তর্ক চলে। সমাজ মাধ্যমে গালিগালাজ অবধি চলে। কিন্তু এর পেছনে যে কোনো যুক্তি নেই, শুধুই পুরোনো অভ্যাস সে নিয়ে কারোর মাথাব্যথা নেই। তার চাইতেও আশ্চর্য জিনিস হল মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দের স্বাধীনতা যে আছেই, একে বিশ্বাস করা। না, কোনো মানুষই জন্ম থেকে সমাজের জন্য কেন কোনো কিছুর জন্যেই বলিপ্রদত্ত নয়। মানুষ বাঁচার জন্য জন্মায়। কোনো কিছুর জন্যেই দাসখত মাথায় নিয়ে জন্মায় না। অন্ন বস্ত্র জল বাসস্থান শিক্ষা যৌনতা স্বাস্থ্য ধর্মীয় বিশ্বাস অবিশ্বাস তার একান্ত ব্যক্তিগত অধিকার। এ সহজ কথাটা বারবার ভুলে যাওয়াও মানুষের ইতিহাস আর মনে করিয়ে দেওয়াটাও।
আজকের দিনটা স্মরণীয় দিন তাই। মনে করিয়ে দেওয়ার।