এমন অনেক কিছু হারিয়েছি, যা অপূরণীয়। এমন অনেক কিছু পেয়েছি যা অমূল্য, অপরিসীম। এর মধ্যে দিয়েই আজ পঞ্চাশের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ালাম। সামনে রাস্তা আর কতটা বাকি আছে সে অবশ্য জানি না। জীবনের এই একটা যাত্রাপথেই কতদূর টিকিট কাটা আছে জানা যায় না। এপিকটেটাসের একটা বিখ্যাত গল্প আমার মত করে বলি।
তীরে এসে জাহাজ লেগেছে। তুমি নেমেছ। পানীয় জল নিচ্ছ হয় তো। হয় তো বা নুড়ি কুড়িয়ে ভরে নিচ্ছ তোমার কোঁচড়ে। কিম্বা সামুদ্রিক শৈবালের শাখা তুলে নিচ্ছ কৌতুহলে। কিন্তু তোমার মনের একটা বড় অংশ পড়ে আছে জাহাজের দিকে। নাবিক কখন ডাক দেয়। কখন জাহাজ আবার তীর ছেড়ে সাগরে ভেসে যায় গন্তব্যের দিকে। ডাক এলেই সব ছেড়ে দৌড়াতে হবে। যা সংগ্রহ করেছি হয় তো তার কিছুই নিয়ে যাওয়া যাবে না। তবু খেলছ।
এপিকটেটাস এ গল্পে বৈরাগ্যের কথা বলেন। কিন্তু বৈরাগ্যের সুরে যদি কেবল বিষণ্ণ ভৈরবীতে সানাইয়ের সুর বাজে মনে হয়, তবে ভুল কথা। অনেকটা রাস্তা আসার পর বোঝা যায় জীবনে খুব সামান্য কিছুই নিজের হাতে, আর বাদবাকি সবটাই হাতের বাইরে। এই হিসাবের রং যত পাকা হয় বৈরাগ্যের গায়ে ততই রাসের পূর্ণচন্দ্রের আলো এসে লাগে। নিষ্প্রাণ কাঠেও সুর জাগে। সে নিষ্প্রাণ কাঠ নিজেকে শূন্য করে বাঁশি হয়েছে বলেই না!
ছবিটা এঁকে দিল Suman ভালোই এঁকেছে, কী বলেন?
Category
- Log in to post comments
- 1 view