বাকি সব বোগাস
হাওড়া স্টেশান ছেড়ে ট্রেনটা যখন বেরোয় রাত্তিরবেলা কি সন্ধ্যেবেলা, ওই হলুদ হলুদ, কমলা কমলা আলোগুলো দেখলে আমার ভীষণ মন খারাপ করত ছোটোবেলায়।
এখন করে না।
সন্ধ্যেবেলায় যখন চারদিকে শাঁখ বাজত, ঘন্টা নাড়ার আওয়াজ আসত, আকাশটা শেষ আলোর রেখাকে 'যেতে নাহি দিব' বলে আঁকড়ে রাখতে চাইত বুকে, আমার বুকের ভিতরটা ফাঁকা হয়ে যেত।
এখন হয় না।
আসলে তো ভাল নেই
১
===
মেয়ে তুমি নিরাপদ নও
ঘরে বাইরে দেবালয়ে
কোথাও নিরাপদ নও
সুন্দর
সুন্দর
তুমি আগন্তুক,
চমক জাগিয়ে ডাকো
কান্না
তুমি তো একলা নদী
গোপনে বইতে থাকো
প্রেম
তুমি নিঃশব্দ বাণী
মরণে অমৃতকে ধরে রাখো
তুমি নির্বাক
তোমার হাতের স্মৃতিতে আমার শৈশব
আমার হাতের তালুতে মিশে তোমার বার্ধক্য
তুমি নির্বাক। আমিও নিশ্চুপ।
আইসিউতে খালি পা আমি
সময়ের সাথে চটি খুলে রাখা বাইরে
অপেক্ষা আর অসহায়তার গভীর পার্থক্য
এমন একটা ভোর আসুক
এমন একটা ভোর আসুক
বাড়ির পিছনের পুকুরটার পাড় ঘেঁষা
নারকেলগাছের সারির মাথা ছুঁয়ে উঠুক সূর্য
আমি দুটো ফুসফুসের
সবকটা কোষ ভরানো শ্বাস নিয়ে
সর্বান্তঃকরণে, নিঃসংশয়ে বলি-
"সবার মঙ্গল হোক"
এমনই থাক
এক আকাশ নিঃশব্দতা হঠাৎ হাতের মুঠো ছুঁয়ে গেল
মুঠো কুঁড়ির মত ফুটল নিঃশব্দে
কি আবেশে, বিবশ হয়ে
নীল ওড়না ঢেউয়ের মত স্পর্শ করল
অপরিচিত আঙিনায় পরিচিত আদর
আকাশ আর খোলা হাত পাশাপাশিই থাক
মুঠোর বাঁধন অতীত এখন
ক্ষণ
খানিকক্ষণ তোমার জন্য অপেক্ষা করব
তারপর আরো খানিকক্ষণ অপেক্ষা করব
তারপর আরো খানিকক্ষণ
আরো খানিকক্ষণ
ওরা বলবে - এ তো হল অনেকক্ষণ!
আমি বলব, ব্যস, আর খানিকক্ষণ
দুটো কোর্ট
একটা দাগ
দুটো দাগ
নীল দাগ
typing....
দুটো কোর্ট।
ঠকাস। ঠকাস।
উদ্বিগ্ন চোখ, স্ক্রিণের কোনায়।
ফুরিয়ে আসা ব্যাটারির লাল নিশান।
typing....
সত্য রইল চুপ করে
মোহ বলল, যাব না।
সত্য রইল চুপ করে।
মোহ বলল, এই দেখো আমার ঐশ্বর্য,
বলেই সে ছায়ামূর্তি ধরে প্রাসাদ, ধন-দৌলত বানিয়ে ফেলল কয়েক লহমায়।
সত্য রইল চুপ করে।
মোহ চীৎকার করল।
গান গাইল। নাচল।
বিদ্রুপ করল। শ্লেষোক্তি করল।
সত্য রইল চুপ করে।
মারা গেছে জানেন?
মারা গেছে জানেন?
কে?
নাম দিয়ে কি দরকার
বয়েস? লিঙ্গ?
৬৪, মহিলা
রোগ?
রোগ না। ধর্ষিত প্রতিবাদী যোনিতে চারটে লিঙ্গের সাথে নাকি লোহার রড, ভাঙা বোতল, গাছের গুঁড়ি ঢুকে গিয়েছিল।
ওমা কেন?
কিছু মদ্যপের লীলাখেলায় প্রতিবাদ করেছিল। একা মেয়েমানুষ, তায় আবার প্রতিবাদ! আজব না?