চিরনূতন
তুমি বললে আমাদের ভালবাসা নাকি পুরোনো হয়ে গিয়েছে
কেমন খটকা লাগল শুনে
প্রেম কি কখনো হয় পুরোনো?
সারারাত ঘুমালাম না, মাথার মধ্যে প্রশ্নচিহ্নের বাড়ি
প্রেম কি কখনো হয় পুরোনো?
সকাল বেলা উঠে ছাদে আসলাম
ডিমের কুসুমের মত রঙ সূর্য্যের
মনে হল এ সূর্যোদয় কি পুরোনো?
লাল সিগন্যাল
সন্ধ্যেবেলা স্টেশানে দাঁড়িয়ে
প্ল্যাটফর্মের শেষে লাল সিগন্যালটা
একলা দাঁড়িয়ে
পিছনে একরাশ অন্ধকার নিয়ে
আড়াল রেখেছি বনফুলে
বুকের মধ্যে একটা আলপিন ফোটালে
জিজ্ঞাসা করলে, লাগছে?
বললাম, না
তারপর একটা বড় পেরেক গাঁথলে
পাঁজর চিরে
জিজ্ঞাসা করলে, লাগছে?
দাঁতে দাঁত চেপে বললাম, না তো!
উতলা
আমার খুব রাগ তোমার চোখের পাতার উপর
কেন তারা যখন তখন পড়ে?
আর যেখানে সেখানে ঝরে?
আমার খুব হিংসা তোমার ঠোঁটদুটোর ওপর
কেন নিজেদেরকে ছোঁয়
আর নিজেকে আদর করে?
আমার খুব ঈর্ষা তোমার পোশাকগুলোর ওপর
কেন তাদের সাথে এত আঁট তোমার?
আমায় পাগল করে ছাড়ে
আমার খুব লোভ তোমার গায়ের গন্ধের ওপর
কেন তারা আমার গায়েও নেই?
যে এতই উতলা করে?
সেই ঢের
আমার কথা তুই বুঝিস না,
এত নিশ্চিন্ত তাই তোকে নিয়ে
আমায় তো বুঝিস!
আমার কথার জালে আমি নিজেই থাকি জড়িয়ে,
তুই ছাড়া তোর প্রাণের আনন্দে
আমার ভাবনা পেরিয়ে আমায় ছুঁতে তো পারিস!
আমার গান, তাল, লয় কিছুই বুঝিস না,
মুখ্যু ঢেকি
কেন গাইতে চেয়েছিলাম, সেটা তো বুঝিস!
ঝোড়ো বাতাস
ঝোড়ো বাতাসে কার কথা খুঁজিস মন?
ঘরের আনাচে-কানাচে কার গন্ধ চাস?
সকাল বেলায় দরজার নীচে
পড়ে থাকা খবরের কাগজ
তুলতে তুলতে রাস্তার দিকে কেন তাকাস?
কল থেকে জল পড়ার শব্দে, টিকটিকির ডাকে,
টয়লেটের ফ্ল্যাশের আওয়াজে, তোর পুরোনো
দিনের ছবি আটকে, জানি।
অভিযোগ
আমার অন্যমনস্কতাকে উদাসীনতা ভাবলে
ভাবলে তোমায় দিচ্ছি ফাঁকি এড়িয়ে গিয়ে
ভুল করছ
আমি ফাঁকিতে পড়েছি চিরটাকাল
ফাঁকি দিই নি কখনো
এড়িয়ে গেছি অভিযোগের পরামর্শ সাবধানে, উপেক্ষায়
নিজের সাথেই খেলেছি বাঘবন্দি খেলা
তবু অন্যের অভিযোগ থেকে পারিনি বাঁচতে
এই ভাল,
না হয় অভিযোগেই থাক যোগাযোগের সাঁকো
সেই নদীটা
রাস্তার ধারে ধারে একটা বিষন্ন নদী
আমার চলা-ফেরার দিকে তাকিয়ে থাকে
অপলক
আমাদের দৃষ্টি বিনিময়ের মধ্যে থাকে
কিছু কথা লুকানো
জানি সে কথাগুলো ওর বুকে নুড়ি হয়ে
মাঝে মাঝে
মাঝে মাঝে কৌটোটাকে উল্টিও
হয়তো হারিয়ে যাওয়া,
চাপা পড়ে যাওয়া এমন কিছু পেয়ে যেতে পারো
যা অনেকদিন ধরে খুঁজছিলে
হতে পারে সেদিন খুব দরকারী ছিল না
ভয় পাচ্ছ?
ভাবছ কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোবে?
তা কেন?
ছাইগাদায় অমূল্য রতনও তো থাকতে পারে!
দেখোই না কি হয়?
আর অন্যভাবে দেখতে গেলে
কেঁচোর থেকে কেউটেই ভাল
বাঁচার মত বাঁচা যাবে
স্বামীজি
তুমি যুক্ত করতে চেয়েছিলে
নিজের বৈশিষ্ট্য না হারিয়ে মেলাতে চেয়েছিলে
সব ধর্মকে বললে
মিলিত হও মানবধর্মে।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যকে বললে
মিলিত হও ধর্মে ও বিজ্ঞানে।
ধর্ম ও যুক্তিকে বললে
মিলিত হও হৃদয়ে ও মস্তিষ্কে।
ব্যষ্টি ও সমষ্টি জীবনকে বললে
মিলিত হও সত্যে ও সেবায়।
পুরাতন ও নূতনকে বললে
মিলিত হও উদারতা ও শ্রদ্ধায়।