Skip to main content

দান


যা নিয়ে গেলে, যাও
ফেরৎ চাইব না।
চেয়েছিলে দু'হাত পেতে
শূন্য হাতে ফেরাতাম কি করে?
তুমি জানতে, আমি তা পারব না
যাওয়ার সময় পিছনে ফিরে তাকালে না একবারও।
আমি তাকিয়েছিলাম,
যদি কিছু ফেলে যাও
কুড়িয়ে ফিরিয়ে দেব বলে
আমি যা দিই, একেবারেই দিই।
তুমি হতভাগ্য,
যদি তিলমাত্র বুঝতে সে ব্যাথার সুখ
আর হাত পাততে হত না

তীক্ষ্ণ উপস্থিতি

রোজ রোজ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে যেত
আজ ডাকলাম, বললাম কি চাও?
সে তাকিয়ে থাকল শুধু

অনেকদিন গেল
রোজ দেখি তাকে পুকুর পাড়ের রাস্তার পাশে
আমারই জানলার দিকে তাকিয়ে
কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কি চাও?

আরো অনেক বছর গেল
রোজ তাকে দেখি আমার সান্ধ্যভ্রমণের পথে দাঁড়িয়ে
আমারই দিকে চেয়ে
কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কি চাও?

নীল নীরবিন্দু


দীঘির ধারে ডাকলে, মৃদু হাসির ইশারায়
বললে, নামো
আমি বললাম ভয়ে, সাঁতার জানি না যে!
বললে, তবু নামো
নামলাম
যত নামলাম শরীর হতে লাগল হাল্কা
মাঝ দীঘিতে দাঁড়িয়ে তুমি
চোখে তোমার দৃঢ় প্রত্যয়ের জ্যোতি
স্নেহের কিরণে মাখা
বললে, চিৎ হয়ে ভাসো
দু'হাত মেলো ডানে বাঁয়ে
মেললাম
এখন নীলাকাশে চোখ
সারা শরীর দীঘির জলে মগ্ন

সময় সমুদ্র

মন একলা দাঁড়িয়ে সময়-সমুদ্রের সামনে
অনেক কিছু হারিয়েছে এ সমুদ্রে সে
ঢেউয়ের পরে ঢেউ আছড়ে ভেঙেছে তার ঘর
                           কেড়েছে তার সুখ
বুকের পাঁজরগুলোতে করেছে বড় বড় ফাঁক

কিছু কথা

আমার সব কথা অক্ষরের মত না, শব্দের মত না।
কিছু কথা কৃষ্ণচূড়া ফুলের মত
কিছু কথা বর্ষার পাতাঝরা জলের মত
কিছু কথা ফসল তোলা ক্ষেতের মত
কিছু কথা মাটিতে ঝরা, তবু না যেতে চাওয়া ফুলের মত
কিছু কথা টিন কাটা তীক্ষ্ণ আর্তনাদের মত
কিছু কথা শেষ ট্রেন চলে যাওয়া প্ল্যাটফর্মের মত

এরকম আরো অনেক অনেক কথা
যার শব্দ অভিধানে নেই, বলব কি করে?

আশা

আমার প্রদীপটা নিভেছে খানিক আগে
শেষ ধোঁয়াটাও মেলালো বাতাসে, এই তো,
পোড়া পলতেটা লেগে আছে এখনও
একটা আলতো ছোঁয়ায় ঝরে যাবে যদিও
                             ও নিজেও জানে
তবু হাত দিয়ে দেখো

হলুদ পাতা


হলুদ পাতায় ভরেছে আমার উঠান
আমি সকাল বিকাল ঝাঁট দিয়ে দিয়ে ক্লান্ত।
বস্তা বস্তা পাতা ফেলে এসেছি নদীর ধারে, একা, গোপনে।
দুদিন পরেই জমেছে পাতা, হলুদ ঝরা পাতা এদিক ওদিক সারাটা বাগান ছড়িয়ে ছিটিয়ে।
ঝরা পালকের রোঁয়া উড়ে এসেছে পাতার সাথে, কোন পাখির জানি না।
মৃত পাখির শাবক মুখে করে পাঁচিল ডিঙ্গিয়েছে বেড়াল
ঝরা পাতায় লেগে রক্ত, আবার ফেলেছি সরিয়ে।

ঝড়


ভেবেছিলাম তুমি আসলে
                 আমি হব নিশ্চিন্ত
তখনো কি জানতাম
             তুমি ঝড়কে নিয়ে ফেরো?
তোমায় ঘরে আনতে গিয়ে

ঘুড়িটা

আকাশ থেকে ছিঁড়ে পড়া ঘুড়িটা
বিদ্যুতের তারে আটকে পরশু থেকে ঝুলছে।
এক একটা দমকা বাতাসে মনে হচ্ছে-
এই বুঝি উড়ে যাবে, একটা গতি হবে।
হল না।
শেষমেশ বৃষ্টির জলে নেতিয়ে
মাথা বুক হেঁট করে, কাঠিগুলো বার করে ঝুলছে।
যারা পরশু থেকে আশা করেছিল, পাড়বে
তারা ওর কথা ভুলে গিয়ে, নীচে দৌড়াচ্ছে।

আমি ভাবছি, কোথায় আটকালো ঘুড়িটার-
নামতে, না উড়তে?

সঙ্কল্প

চিন্তার আগাছা কিছু ছাঁটতে হবে
অনেকদিন ধরেই ভাবছি
কয়েকটা মুখভার করা শব্দ অভিধানে রাখব না আর
কয়েকটা মই নামিয়ে রাখব এবার
উঠব উঠব করে বসে আছি আকাশের দিকে চেয়ে
পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরে গেছে, হাঁটব এবার, ওঠার কথা ভুলে।
কিছু নদীর মুখ ঘুরিয়ে ক্ষেতের দিকে আনতে হবে
আগুন ফাঁদে মারতে হবে কিছু পোকা 
চর্বিত চর্বনের পিক ফেলে ফেলে দেওয়ালটা নোংরা করেছে যারা

Subscribe to কবিতা