Skip to main content

ছোঁয়াছুঁয়ি

অনেকক্ষণ ছোঁয়াছুঁয়ি খেলার পর বুঝলাম
ও আমায় ধরতে চাইছিল না,
আমায় দৌড় করাতে চাইছিল।
না হলে খেলাটা থেমে যেত বহুক্ষণ আগেই।
ও, না ধরা দিল
না ধরে রাখল

এতগুলো বছর শুধু খেলার ঘুঁটি হয়ে কাটলো 

কেন বিশ্বাস করব?

কেন বিশ্বাস করব?
তোমার ছায়া আর তুমি ভিন্ন রাস্তায় হাঁটো।
পাতকুয়োতে বালতি ফেলে
বালতি তোলার কাঁটা খোঁজো নিজেই।
তোমার কথাগুলো ঝাঁঝরা ধরা এত-
'মানে' গুলো সব গলে গলে পড়ছে, বোঝো?
তোমার পায়ের শব্দে বেড়াল চমকে ওঠে
তোমার আশ্বাসে আমার নিউরোনগুলো
হাই তোলে আড়ামোড়া ভেঙে

এমনটাই

হঠাৎ হঠাৎ বুক ধড়ফড়?
মাঝে মাঝেই কান্না, অকারণ?
আচমকা উদ্বেগে বিনিদ্র রজনী কাটে, একা, সবার মাঝেও?
হাসির মাঝে চোখের জল,
চলকে এসে গালে পড়ে?
মুছে নাও, সবার অলক্ষ্যে।

ভাবছ-
'আমি খুব দুর্বল বলেই আমার এমন হয়!'
তা না গো মোটেই,
দুর্বল নও-
বরং, তুমি ভয়ঙ্করভাবে বেঁচে আছো
ভীষণভাবে বেঁচে থাকতে চাইছ।

সুচিত্রা ভট্টাচার্য্যকে

রাতে ভেবে রাখা ছিল,
আগামীকালকে কোন লাইনটা দিয়ে করবে শুরু?
মাথার মধ্যে ছিল,
কিছু না- বলা, খুব যন্ত্রণায় পোড় খাওয়া কিছু মুখ?
অনেক প্রশ্ন ভিড় করেছিল মাথার অলিতে গলিতে?
সমাজের সাথে হাত হাত রাখতে আরেকটা সাদা কাগজ ছিল -
কলমের দিকে চেয়ে?

জানি এর উত্তর পাওয়া সম্ভব নয়,
জানি আমাদের আসা যাওয়ার ধরা বাঁধা ছকে তো আর জীবন বাঁধা নয়!

আশ্বাস

প্রভু,
প্রদীপটা না নিভুক,
আমার হাতের আড়াল পাশে
তোমার হাতের পরশ রাখো।
ভয়ে কেঁপে কেঁপে ওঠা শিখা-
তাকে করূণা পদ্মে ঢাকো।

এমন শকতি নেই প্রভু নেই
যা কিছু সব আনি
অনেক প্রণামে স্বার্থ মিশেছে
প্রণত হওয়াকে দিয়েছে গ্লানি।

আশ্বাস দাও, ফিরাবে না আর
যত দোষ ত্রুটি থাক
করূণাধারার প্লাবনে হে প্রভু
চিত্তশুদ্ধি পাক।

বাঁক


যতবার ভাবি পৌঁছেছি এবার,
নতুন একটা বাঁক কাঁধে হাত রাখে।
সে পুরোনো হতে হতে
আবার মনে হয়
এই এই এই ছিল আমার পথ!
পেয়েছি অবশেষে!
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ দেখি সে উধাও।

চোখের সামনে আবার নতুন বাঁক।


(ছবিঃ সুমন দাস)

তুমিও জানো

অনেকটা পথ যেতে বাকি
তুমিও জানো
তবু কেন প্রতি পায়ের হিসাব রাখো

অনেক আরো সইতে বাকি
তুমিও জানো
তবু কেন সব ক্ষতকে জাগিয়ে রাখো

অনেক কিছু দিতে বাকি
তুমিও জানো
তবুও কেন কুড়িয়ে নুড়ি বেলা কাটো

অনেক কিছু ভাঙার বাকি
তুমিও জানো
তবুও কেন বালির ঘরে আগল ঘেরো

চোখ

চোখ না তো
ভলক্যানো

না ভলক্যানো না
শানানো ধারালো ছুরি যেন

না ছুরি না না
গিলেটিনের পাত যেন

না, তাও না, তাও না
গোলাপের কাঁটা যেন

কাঁটা বলব না গোলাপ?
তুমি বলবে প্রলাপ!

প্রলাপ না, প্রলাপ না - নেশা
চাবি হারিয়ে, ঘর হারিয়ে
এখন পাগল পাগল দশা

এক সমুদ্র অনন্ত

তুমি চেয়েছিলে-

তাই অসীম থেকে হলাম সসীম
নিরাকার থেকে হলাম সাকার

তুমি ফিরে গেলে-

সসীম থেকে হলে অসীম
সাকার থেকে হলে নিরাকার

তোমার আর আমার মাঝে এখন
এক সমুদ্র অনন্ত

আমার কি?

তুমি আসলে
চোখের শান্তি
আমার কি?

তুমি বললে
কানের শান্তি
আমার কি?

তুমি ছুঁলে
দেহের শান্তি
আমার কি?

তোমার চুমুতে
ঠোঁটের শান্তি
আমার কি?

তুমি চলে গেলে
সব চলে যায়
আমার কি?
না আমারই যায়!

Subscribe to কবিতা