যে মানুষটা
যে মানুষটা ডান হাতে সৎ
আর বাঁ হাতে অসৎ
তার কোন পাশে থাকব?
তুমি বললে, এমন মানুষ হয় নাকি?
বললাম, কোন মুখে বললে?
বাঁদিক ফেরানো মুখে
না ডান দিকে ফেরানো মুখে?
তুমি বললে, মানে?
বললাম, মানে?
বুঝলে না,
না বুঝতে চাইলে না?
তোমারই মত
মন খারাপ আমারও করে
তোমারই মত।
মাঝে মাঝে সব ফেলে দিই ছুট-
আমিও ভাবি
তোমারই মত।
মাঝে মাঝে হাতের ঘামে
হাত পিছলে থুবড়ে পড়ি
তোমারই মত।
বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজেছি আমিও সেদিন
তোমারই মত।
সব ছেড়ে দিয়ে বাঁচতেই চাই
বেঁচে থাকাটাই সুখ বুঝি আজ
তোমারই মত।
এবার আসলে
এবার আসলে
পায়ের নূপুর খুলে এসো
তুমি চলে গেলেও
ওদের আওয়াজ যেতে চায় না
এবার আসলে
গায়ে সুগন্ধী দিয়ে এসো না
তুমি ফিরে গেলেও
ওরা আমার চারপাশ ঘিরে ফেরে
এবার আসলে
কোনো কথা বোলো না
তুমি ফিরে গেলেও
কথাগুলো সব এ পাশ ও পাশ ভাসে
কে যেন
কে যেন বলে গেল-
ভাঙা-তালি জোড়া দিতে দিতে
কত বেলা হল খেয়াল আছে?
মুখ তুলে চাইলাম
কেউ কোত্থাও নেই
আবার শুনলাম-
বাইরে যা পাবে,
তা খণ্ডিত, ক্ষুদ্র, অসম্পূর্ণ।
খোঁজ ভিতরে,
পাবে তাঁকে
যিনি অখণ্ড, মহৎ, পূর্ণ।
অবশ হল শরীর মন
ভাঙা টুকরোগুলো পাড়ে রেখে
নদীতে ডুব দিলাম।
ইচ্ছা
অকারণে সে লজ্জা পাচ্ছে আজ থেকে থেকেই
ফর্সা কানদুটো লাল টকটকে হয়ে উঠছে গরম হয়ে
রান্না করতে করতে ঠান্ডা জল কানে ঠেকাচ্ছে,
ঠোঁটের কোণে হাসি
একতারা
মরণপণ
জল ভরেছ চোখে?
বেশ হয়েছে।
কাঁদিয়েছিলে আমায় এমন
মুখ বুজে সব সয়ে ছিলুম
রক্ত রাঙা চোখে।
ব্যাথা ভরেছ মনে?
বেশ হয়েছে।
দাপিয়ে ছিলে বুকের ভিতর
ছটফটিয়ে মরে ছিলাম
মনকে নিয়ে মনে।
বলবে বুঝি কিছু?
শুনব না যাও
(যদিও জানি শুনতে হবেই)।
সেদিন, বলব বলে
সুর সেধেছি
গান বেঁধেছি
কই শুনেছ?
পড়ছে মনে কিছু?
নিশীথিনী
অনেক রাত।
সারা চুল আলুলায়িত করে আমার সামনে এসে দাঁড়াল, নিশীথিনী।
বীজ
কিছু যন্ত্রণার বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে
কিছু বীজ সুপ্ত এখনো
সময় হয় নি যে।
কিছু গাছে কুঁড়ি ধরেছে
ফুলও ফুটেছে কটায়।
সুখ?
ওই যে
এক যন্ত্রণা ভুলে আরেক যন্ত্রণার পথে -
মধ্যখানের ব্যবধান।
এতেই নিজেকে ভুলিয়ে নাও তো ভালো
অনিকেত
সন্ধ্যাকাশের দিকে তাকালাম
সব তারা যে যার জায়গায় ফুটে
মাটিতে চোখ নামালাম,
গাছগুলো যে যার জায়গায় দাঁড়িয়ে
পাতাগুলো সাজানো ডালে ডালে
পাখিগুলো নীড়ে ঘুমন্ত,
পোকারা গর্তে।
যে যার স্থানে
নিজের মত, নিশ্চিত।
আমার স্থান কোথায়?
কোন ঘরে, কার কাছে?