বারবার
বারবার উঠে দাঁড়াতেই তো চাইছি
মাটিতে পড়ে মাটিকেই ভর করে
অন্ধকারে পা ফেলছি,
আজ না, প্রতিদিন
এক পা, দু পা করে এগিয়ে এসেছি
তবু আজও ভয়
পরের পাটা পড়বে কোথায়?
ঋণ
চোখের কোল কালো ছিল
কাজলে
চোখের কালো মণি
চোখের জলকে বলল,
ছুঁয়ে আয় ওকে
বেয়ে পড়ুক সে দু-গালে।
দু-গালেতে কালো জলের দাগ
মুখ হল সাজসজ্জাহীন
বুকের ব্যাথা চোখকে বলল
কিসে শুধাব গো এ ঋণ?
মিছিমিছি কথা
তোমার সাথে রোজ কথা বলি
এ কথা, সে কথা, কত কথা
প্রতিদিন তোমার কত কথাই শুনি
এ কথা, সে কথা, কত কথা
এ সব গুলোই মিছিমিছি
আসল কথাটা দু'জনেই যাই এড়িয়ে
সে কথায় ঢাকি, নানা কথার ঢাকা
এ কথা, সে কথা, কত কথা
বাণী
ঈশ্বরের কাছে ঈশ্বরকে না পেয়ে ফিরেছি অনেকবার
মানুষের মধ্যে পেয়েছি তাঁকে আচমকাই
মুগ্ধ হয়েছি, তৃপ্ত হয়েছি, হয়েছি পবিত্র
কিনারা
রাস্তার দুটো ধারই রাস্তা বানায়
না হলে তা মাঠ
নদীর দুটো তীরই নদী বানায়
না হলে তা বন্যা
দিগন্তের রেখাই করে আকাশ মাটিকে আলাদা
দুজনের হাতে হাত মিলিয়েই
আমার কিনারা আমায় ঘিরে তুমি
না হলে আমার 'আমি' দিশাহারা
সিঁড়ি
সিঁড়ির প্রথম ধাপের সাথে
শেষ ধাপের যে সম্পর্ক
যদি তুমি বোঝো
পা পিছলাবে না আর
প্রথম ধাপেই থাকে শেষ ধাপের ইঙ্গিত
সে দিশা যে বোঝে, যে খোঁজে
সে তার
টান
আমার বুকের থেকে কিছু রঙ চুঁইয়েছে
দেখো ওরা তোমার আঁচলে লেগে এখনো
ওরা গড়িয়ে তোমার সর্বাঙ্গ ভেজাবে
চুঁইয়ে চুঁইয়ে ঢুকবে তোমার ধমনী শিরায়
স্নায়ুতে লাগবে পূর্বজন্মের টান
ভেজা মাটির গন্ধে শিকড়
পায় যেমন জলের সন্ধান
অচল স্রোত
জোনাকি
একাকীত্বের খাঁজে খাঁজে
জমাট বাঁধা বিষাদ
তাতে জোনাকির মত ছোট ছোট সুখ
কখনো জ্বলে, কখনো নেভে।
আমি কুয়াশায় ঢাকা হতাশাকে বলি
"আর কতদিন?"
বিভ্রান্ত হতাশা আকাশ হাতড়ায়
সূর্যের খোঁজে
ক্ষত বিক্ষত হয়ে আসে ফিরে, ক্ষুব্ধ হয়ে
ধূমকেতুর সাথে আঘাত লেগে।
মায়া
একটা গাছ, তার-
শিকড়কে বিশ্বাস করে না
পাতাকে বিশ্বাস করে না
তার চারপাশের-
মাটিকে বিশ্বাস করে না
জলকে বিশ্বাস করে না
বাতাসকে বিশ্বাস করে না
সে আকাশের দিকে তাকিয়ে
দীর্ঘশ্বাস ফেলে
হতাশ্বাস ফেলে
বিষাদের জাল ফেলে