বদল
স্যুটকেশটা হাতে করে রিকশায় উঠল
তারপর উঠল ট্রেনে
শুলো বাঙ্কে
দু'জোড়া সতর্ক চোখ থাকল চেয়ে -
যেন নীচে না পড়ে
শুধু কালের অপেক্ষা
তবে কি সব ভণ্ডামী ছিল?
হাতে হাত রাখা
কাঁধে হাত রাখা
হাসিগুলো ছিল সৌজন্যের?
প্রাণের না?
তবে এত অসহিষ্ণুতা কেন?
তবে কি গোপনে গোপনে সবাই আমরা
বারুদ সাজাচ্ছিলাম?
শাণ দিয়ে রাখছিলাম ছুরি, কাটারী?
কথা ছিল
কথা ছিল একসাথে যাব স্নানে
দীঘির জলে
একসাথে দেব ডুব
একসাথে উঠব পাড়ে
বনসাই
একটা বটগাছের বনসাই
তার আকার এখন
একজন প্রমাণ লোকের হাঁটুর কাছাকাছি
তাতেই হল সুবিধা
গাছটা পেল না মাথা তুলতে
গাছটা পেল না মোটা গুঁড়ি বানাতে
গাছটা পেল না আকাশের নাগাল,
তার ডালপালা ছড়িয়ে
টেবিল ক্লথ
টেবিল ক্লথের উপরে এত নক্সা কেটেছো কেন?
আমায় একটা সাদা টেবিল ক্লথ আনিয়ে দাও
টেবিলের ওপর রাখা
কাগজ, কালি, পেন ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলেছো
বহুবার
যেই ওরা আড়াল করেছে নক্সা,
লোককে দেখিও তোমার টেবিল ক্লথ নিজের সারা গায়ে জড়িয়ে
আমার টেবিল থেকে সরিয়ে নাও
তোমার রঙীন সূতোর নক্সা কাটা টেবিল ক্লথ
আমার অসুবিধা হচ্ছে
এসো
তুমি এসো
তোমার নিজের জায়গায়
নিজের মত বসো
আমি বাইরে থেকে খানিক আসি ঘুরে
বলে আসি ওদের -
তোমায় আমি পেয়েছি অন্তঃপুরে
যাই
সব ছড়ানো থাকবে
আমি চলে যাব
চলে যাব
আমার পায়ের ছাপ
উড়িয়ে নেবে হাওয়া
ধূলো উড়িয়ে চলে যাব
ঝড় থামিয়ে চলে যাব
আছো
ভিতরে আছো
ভিতর হয়ে আছো
মিলিয়ে আছো
ভিতর বাইরে জুড়িয়ে আছো
ঘিরে আছো
চারপাশেতে পরিধি হয়ে
প্রেমের বৃত্তে কেন্দ্র হয়ে আছো
হয় না
মেয়েটার কিছু শাড়ি আলনায় রাখা
এগুলো রোজ লাগে
কিছু শাড়ি আলমারীতে তোলা, গোছানো
ভাঁজের পর ভাঁজ খোলে
আবার ভাঁজ করে রাখে
ভাঁজের রেখায় রেখায় আটকে তার শখ
অসত্য
যে আগুন জ্বালিনি
সে আগুনে পুড়ল ঘরদোর
যে ঝড়কে ডাকিনি
সে ঝড় উড়িয়ে নিল এক উঠান শিউলি
যে কথা বলিনি
সে কথা পাঁচকান হেঁটে এসে বসল বিছানায়
যে স্বপ্ন দেখিনি
সেই স্বপ্ন ঘুমের আকাশে আনল ধূমকেতু
এ সবের পরেও
আমি নিষ্ঠুরের মত পিঁপড়ের গর্তে জল ঢেলেছি
ওদের গোপন দংশনকে উপেক্ষা করে
যে আমি ওদের ডাকিনি
তাদেরই ভাসিয়ে ছেড়েছি