রাত্রি এসে যেথায় মেশে
চিঠি
চিঠি যখন আসে
সেকি পথের খবর আনে?
না তো না
না তো না
সে শুধু
তার সৃজকের কথাই আনে
একের কথা
ভেসে ভেসে
দেশে দেশে
আরেককে বলতে আসে
সে কি শুধুই কথা আনে?
না তো না
না তো না
কয়েক ছত্র তোমার জন্যে
মিথ্যুক তুমি ঘুমাও
যখন আমি ওর সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলাম,
ভাবলাম ওর ভাষা তো বুঝি না, তবে?
আমার অনুবাদক চলল সাথে
ও হাসল
আমার অনুবাদক লাগল না
ওর চোখের কোণা ভিজল
আমার অনুবাদক লাগল না
ও ছুঁলো
আমার অনুবাদক লাগল না
আমি সেদিন থেকে
নদী পাহাড় সমুদ্রে অনুবাদক নিই না
পায়ে ঘাসের ছোঁয়া, ফুলের গন্ধ, পাখির ডাক, বিকালের রঙ, ভোরের হাওয়া
সব বুঝি
প্রেম ঘুঁটে গরু
(সে দুইত দুধ তার পোষা গরুর। বিক্রী করে চলত জীবন যাপন। হঠাৎ যৌবন খেল গোত্তা এক খরিদ্দারের বাড়ির জানলায়। দুধের হিসাব হল জলের চেয়েও তরল। খাটাল হল বৃন্দাবন। তারপর? সেই কথাই তো লিখছি)
তোমার বাড়ির দেওয়ালে ভালোবাসার ঘুঁটে দেব
সারা দেওয়াল জুড়ে। এক রত্তি ফাঁক রাখব না, দেখে নিও।
এত ঘুঁটে নিয়ে কি করবে?
আমি শুধু
আমি শুধু
তোমার সাথে কয়েক পা হাঁটতে পারি
কাঁদতে পারি ভাঙা বুকে তোমার সাথে শত সমুদ্র
তোমার সুখের দিনে তোমার বাগানে
গ্রীষ্মের দুপুরে
গোলাপের চারা লাগাতে পারি
তুমি না চাইলেও।
তবু সে ঘুরছে
মা ভাল নেই। মা অসুস্থ।
তাই অসুস্থ তার সন্তান। সন্তানেরা।
লক্ষ কোটি কোটি অগুনতি সন্তানেরা।
তবু সে ঘুরছে। প্রদক্ষিণ করে চলেছে সূর্যকে।
অসুস্থ শরীরেও। সে ভালো নেই।
অপুষ্ট সন্তানদের বুকে করে সে ঘুরছে
আমাদের তার না হলেও চলত
তাকে না হলে চলবে না আমাদের
ওঠো
জানলাটা খোলো। দরজাটা খোলো।
ওরা অনেকবার তোমার দরজায় টোকা দিয়ে গেছে।
কারা?
এক নদী জল
আর এক আকাশ তারা
মলাটটা ছেঁড়ো। ভূমিকাটা মোছো।
ওরা অনেকবার এ পাশ ও পাশ করে ঘুমিয়ে পড়েছে।
কারা?
এক পাহাড় স্বপ্ন
আর একমুঠো স্বচ্ছ কবিতারা
আড়ি
মৃত্যুকে কতবার বলেছি আড়ি
যা যা যা
নেব না তোকে খেলায়,
যাব না তোর বাড়ি
আড়ি আড়ি আড়ি
ব্রত
আমি ধ্রুবসত্য কি জানিনি
খুঁজিনিও কোনোদিন
আমার বুকের ভিতর থেকে
মিথ্যাকে স্বীকার করিনি কোনোদিন
যত রমনীয়, যত মনোহর
যত আরামের, যত কমনীয়
সে হোক
অসহ রাত, অসহ বিচ্ছেদ
অসহ বিভীষিকা, অসহ পথ
হয়েছে সহনীয় অবশেষে