তুঁহুঁ মম মাধব
ক্ষ্যাপা তুই কি রাস্তা গুলিয়েছিস?
এদিক ওদিক ঝোপঝাড়ের মধ্যে
কি মাতাল করা ফুল ফুটিয়েছিস?
জানিস না, আমার বাঁধানো পথ?
জানিস না, আমার পাকা দেওয়াল?
জানিস না, আমি কাজের মানুষ?
বদভ্যেস
কারোর কারোর মিথ্যা বলতে
তেমন কোনো কারণ লাগে না
সন্তর্পণে খোঁজে চোরাগোপ্তা গলি
সোজা রাস্তায় হাঁটার অসুবিধা না থাকলেও
কারোর কারোর দু'দিক সামলানো গোঁজামিলে
পুলটিস দিতে দিতে চুল পেকে যায়
কোন্ নৌকায় যে বেশি সুখ অথবা ফুটো
না বুঝে দু'নৌকায় দেয় বেসামাল লোভী পা
এসো
তুমি ডুবসাঁতার জানো?
পানকৌড়ির মত ডুব দাও
যেন গাছের ছায়াগুলোও জানতে না পারে
জলের বুকে ঢেউ না ওঠে দেখো
এ পাড়া ও পাড়া খবর যাবে
এ পারে এসো আমার বুকে মিশে
আমি গাছের ছায়ায় লুকিয়ে আছি
কালোর সাথে মিশে
আলোতে চোখ রেখে
কবে?
কানায় কানায় পাত্রটা উঠেছে ভরে
উপুড় করে নেবে কবে?
বৃষ্টি শেষে বাড়ি ফিরে গেছে ছেঁড়া মেঘ
নীলাকাশে ডুবিয়ে নেবে কবে?
সব খেলাঘর ছেড়ে এসেছি
কোণের প্রদীপ নিভিয়ে নেবে কবে?
সব পোড়ে না
কালের আগুনে পুড়ছি সবাই
আমি তুমি সে
পুড়তে পুড়তে হচ্ছি ক্ষয়
প্রতিদিন একটু করে রোজ
ভালোবাসা একদেশি না
তোমায় ছাড়া বাঁচব না
বলেছিলেন তো
একচোখ জলে
বুকের মধ্যে হাপর সামলে
তবু চলে গেছে
জল শুকিয়েছে
হাপর থেমেছে
'হম তেরে বিন অব রহে নহি সকতে'
গানটা শুনলেও
চায়ে চিনি দিতে ভোলেন না
হিসাবের ফর্দে কাটাকুটি হয় না
রাতে ঘুমে বিচ্ছেদ ঘটে না
সুখ
পারিজাতের রেণু লাগা সুখ
চাইনি তো
তুলোয় ভাসা বাসন্তী সুখ
তাও চাইনি
মোমের মত নরম সুখের আস্তরণ
চাইনি চাইনি চাইনি
যা থাকবে
ওদের বুদ্ধি জিতবে
থাকবে, যতটা তার আয়ুষ্কাল
ওদের মতলবও সার্থক হবে
টিকে থাকবে সেও
যতটা তার আয়ুষ্কাল
প্রতিদিন
প্রতিদিন সকালের গালে
একটা সুরের টিপ এঁকো
কাজলের মত
যেন সারাটা দিন
কোনো ভ্রুকুটির নজর না লাগে
তোমার চোখের দিব্যি
দেখেছি চামচের জল অল্পেতেই কাঁপে, পড়ো পড়ো হয়।
ঘড়ার জল কাঁপাতে আরেকটু জোর লাগে,
ছলকে ওঠাতে তারও চেয়ে বেশি জোর লাগে।
দীঘির জল?
তাতে কাঁপন ধরাতে লাগে মাতাল বাতাস
আর ছলকে ওঠাতে লাগে একটা পুরোদস্তুর ভূমিকম্প।