শুধু
ধুলো শুধুই ধুলো হত
যদি তোমার পা না ছুঁতো মাটি
বাতাস শুধু বাতাস হত
যদি তোমার শ্বাসে না পেত বাস
আলো শুধু আলো হত
যদি তাতে চোখ না মেলতে চেয়ে
জল শুধু জল হত
যদি তোমার তৃষ্ণাকে রাখত তৃষ্ণার্ত
আকাশ শুধু আকাশ হত
ছায়া
হাত ধরেনি
হাত ধরতেও দেয় নি
লজ্জায়
শুধু হাঁটতে হাঁটতে দেখছিল
নিজেদের ছায়াগুলো বেহায়ার মত
একে অন্যের গায়ে মিশছে
প্রকাশ্যে, অসঙ্কোচে রাস্তায়
বৃষ্টিও মুক্ত
বৃষ্টিও মুক্তো হয়
তোমার চুল ভিজিয়ে
মাথার গন্ধ নিয়ে
মাটি ছুঁতে যখন দ্বিধান্বিত
ঠিক তখন
মাটিতে কি মুক্তো ছড়ায়?
ওদের পাশে তুমি নেই যে
দেউলিয়া হলাম জানো
যেদিন প্রথম তাকালাম
অসমাপ্ত কাজগুলো ডেকে ডেকে ফিরে গেছে
বুঝে গেছে আমার আর ফেরা হবে না ওদের কাছে কোনোদিন
সন্ধ্যাবেলার যে উদাসীন রঙ সামনের বটগাছটার মাথায়
ওই রঙটা যেন এই পৃথিবীর নয়
ওকি চিঠি তোমার?
শুধুই
আমার শুধু শুধুই তোমায় ভালো লাগে
কেন ভালো লাগে জানতে চেয়ো না
এর কোনোদিন কোনো উত্তর হয় না
যদি হত -
তবে আগমনীর সুরে বিঁধত
নবমী নিশির দ্বিধা
সন্ধিপূজোয় প্রদীপ জ্বলত না
দিও
কিছু বাতিল হয়ে যাওয়া সময়
কিছু কেউ না শোনা কথা
কিছু না হারাতে চাওয়া ব্যথা
আমার জন্য রেখো
আমি সময় করে নিয়ে আসব
তোমার
তোমার মুখের সাথে আমার অনেক সকালের আলো জড়িয়ে
সরে যেও না
তোমার গলায়, আঙুলের ভাঁজে
আমার অনেক অসম্পূর্ণ আবদার জড়িয়ে
ভুলে যেও না
তোমার শ্বাস-প্রশ্বাসের উষ্ণতায়
আমার অনেক গভীর কান্না শুকিয়েছে
ঝড়ের দিকেই নাও ফিরালি?
ভালোবাসব বলেছিলাম
নিজেকে লাটাইয়ের সুতোর মত ছাড়ছিলাম
সুতোর শেষটায় এসে হ্যাঁচকা টান লাগল লাটাইয়ে
তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হল -
তুমি আরো চাও
সুতো ছিঁড়ে দিলাম লাটাই থেকে
রক্তাক্ত হল হাত
হোক না! সামনে যে তুমি!
স্মার্টফোন
পাগল পাগল লাগত তো বউটার
এখনো লাগে।
ঘোমটা দিয়ে যখন শাশুড়ির পাশে বসে
বাইরের লোকের সামনে দাঁড়ায়
মনে হয় একটা লাথ মারে
সব ভণ্ডগুলোর মুখে
মারেনি কোনোদিন
পুরস্কার
আমার যাতায়াতের খবর তুমি রাখোনি কোনোদিন
আমার ছায়া তোমার বাড়ির সামনের রাস্তাটায় পড়েছে কতবার
ধুলোর সাথে লুটিয়ে ফিরে এসেছে আবার আমার পিছু পিছু,
সেই ধুলোয় আছে হয় তো তোমারও পায়ের ছাপ।
আমার চোখ কতবার পড়েছে তোমার মুখে
ছদ্ম উদাসীনতায় তোমার চোখের তারায় রেখেছি চোখ
শরতের সাদা মেঘের দল ছুটিয়ে