কে সে?
গিঁট বাঁধতে গিয়ে জট পাকিয়ে ফেলেছে কি?
জট মানে কি অনেকগুলো অসম্পর্কিত গিঁট?
পাতার উপর শিরার যে বিন্যাস
শুকনো হলে কঙ্কালের মত তা
উদাসীন যাযাবরের তাঁবুর তলায় মদের পাত্র
সে পাত্রের মদে বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে ও কে?
যাযাবরের চিন্তার মরুভূমিতে আরেক যাযাবর?
নাকি সন্ন্যাসী?
যাযাবর কি তবে ঈশ্বরহীন সন্ন্যাসী?
ধ্যাৎ
আশ্চর্য গায়ের গন্ধ তোমার
বিকালের বাতাসের হাতে লেগে আসে
যে পাকা ধানের গন্ধ ধানক্ষেত থেকে
সেই রকম
নির্জন অর্গাজম
অর্গাজমে পৌঁছালে সবাই একা
শরীর থেকে মুখ ফিরিয়ে
তুষ জমা নীড়ের ভিতর ফিরে আসা
রাতের অন্ধকারে কয়েকটা জোনাকি
ওরা পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে যুগযুগান্ত ধরে
তোমার আমার খিদেকে
ফ্রীজে রাখা বাসি মাংসের দিকে
রান্না না হলে বাসি হয় কিছু?
মনে পড়ে
সারাদিন কত কাজে থাকি ...
পদ্ম-পাপড়ি আলো
খুব ভোরবেলা থেকে চারদিকে আমার
ঝিরঝিরে ভালোবাসার ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি
আমার মুখে চোখে ঠোঁটে লাগছে
ঝরেঝরে পড়ে যাচ্ছে,
পায়ের পাতা, হাতের আঙুল
ভিজিয়েছে বিন্দু বিন্দু ভালোবাসারা
আমি পুরোপুরিভাবে ভিজে
দ্বিধা
বলতে আটকাচ্ছে
দ্বিধায় হোঁচট খেলাম ক'বার
(গুনিনি)
চিন্তার রাজ্য অবিভক্ত
কে বলল?
সীমারেখা আছে তো!
আছে বুনো ঝোপঝাড়
না চলা, অতি চলা, কম চলা পথ
অসতর্ক হয়ে কাঁটা ফোটেনি পায়ে?
আচমকা কুয়াশায় রাস্তা হারায়নি?
এসো
কেন এসেও এলে না?
আমি অন্যমনস্ক ছিলাম?
না তুমি ছিলে সংশয়ে?
একবার সব ছেড়ে এসো
মনে হবে
একদিন সব ছেড়ে গিয়েছিলে
ভাগ্যে
ভাগ্যে তুমি আমার সামনে অতবড় প্রাচীরটা তুলেছিলে,
না হলে জানতেই পারতাম না - আমি এতটা উঁচুও চড়তে পারি!
ভাগ্যে তুমি আমার সামনে এতটা অন্ধকার তৈরি করেছিলে
না হলে জানতাম কি করে- আমি এত অন্ধকারেও দেখতে পারি!
বিকল্প
সারাটা জীবন এমন ভাব করলে
যেন তোমার জমিতে রয়েছে শুধুমাত্র একটা আগ্নেয়গিরি
আর তোমার কাজ যেন একটাই -
সকাল সন্ধ্যে, বর্ষা বসন্ত
শুধুই অগ্ন্যুৎপাত ঘটানো
কেন গো
জমিতে একটা বাগান করলে কি হত?
শক্তি মানে কি শুধুই আগুন?
শিকড় না?!
তবে ধৈর্য মানলে না কেন?
নোনতা কমলালেবু
একটা কমলালেবু। তুমি দাঁড়াও,
আমি একটা একটা কোয়া ছাড়িয়ে তোমার হাতে দিই,
তুমি খাবে কি না খাবে, তা শুঁকে দেখে ঠিক কোরো ...