অলোকেশবাবু
অলোকেশবাবুর ভীষণ হিসাবি সহানুভুতি
মালতীর ছেলের জন্য টাকা দিয়েছিলেন
ছেলেটার টাইফয়েড হয়েছিল
মালতীর স্বামীর চিকিৎসায় টাকা দেননি
বরটা মারা গেল।
পাও নাই পরিচয়
তোমার ভালোবাসাই নিঃসঙ্গ করল আমায়
তুমি যাকে ভালোবাসো
আমার মধ্যে যাকে দেখো, যাকে খুঁজে পাও -
সে আমার কাঠামোয় তোমার নিজের সৃষ্টি আমি
সে আমি, আমি নই
কে?
মুখ বন্ধ। জিভ শব্দ উচ্চারণ করে না।
শুনবে কে?
মাথার মধ্যে অজস্র শব্দ। বড্ড আগোছালো।
বুনবে কে?
নির্মেদ
ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার পর বুঝলেন
ওই অঙ্গটার অন্য একটা প্রচ্ছন্ন পরিচয় ছিল
তাঁর পুরুষসঙ্গীর প্রেমের নিলয় শুধু নয়
তাঁর অধুনা যুবক সন্তানের পরিত্যক্ত খাদ্য ভাণ্ডার শুধু নয়
আঁধারে মিলিবে তার স্পর্শ
রাতের বুকের কোটরে একরকমের স্নিগ্ধতা আছে। শান্ত মসৃণ স্নিগ্ধতা। বাতাসের ভাষায় ভর করে আসে। যদি হাত পাতি, কিছু এসে জমে হাতে। যদি হাত উপুড় করি, হাতের থেকে কিছু নিয়ে যায়। কি নিয়ে যায় জানি না। যেন এই রাতের অন্ধকারের আড়ালে কেউ আছে। সে আমার খুব পরিচিত, খুব আপন। এতটাই পরিচিত যেন পরিচয় দেবার ভাষারাই অপরিচিত সে পরিচিতির কাছে। শিশু যেমন মায়ের পরিচয় দিতে পারে না, প্রেমিক যেমন প্রেমের পরিচয় দিতে পারে না, তথ্
অধৈর্য
পাতাগুলো না শুকিয়েই জড়ো করলে
আগুন ধরাবে বলে।
আগুন ধরল না। শুধু ধোঁয়াই উড়ল।
বিরক্ত হয়ে গাল পাড়লে সক্কলকে -
গাছকে, পাতাকে, বাতাসকে, আগুনকে
জীবন-মরণ
তার আসা যাওয়া
আমার বুকের অলিতে গলিতে যখন তখন
এখানে ওখানে তার পায়ের ছাপ
যেখানে যেখানে নরম মাটি
সে যে নরম মাটিতেই হাঁটে, শুনেছি তার কোমল চরণ
মূর্খ হয়েই বাঁচি
আমার দিদিমা
ঘুম থেকে উঠে মাটিতে পা রাখার আগে
মাটিকে প্রণাম জানাতেন
আমি জানাই না। মাটি জড় আমার জ্ঞানে।
দ্বিধা
তুমি পাশে বসে।
হাওয়ার মত চঞ্চল
তবু আমায় ঘিরে
আমায় ছুঁয়ে।
তুমি বলো
তুমি অনুরোধ করলে
কবিতা লিখতে পারিনি কোনোদিন
আজও পারি না।
আমি কবিতা লিখি তোমার চোখের জন্য
তোমার চোখের ভাষায় কথা বলার শব্দদের খুঁজি